ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র আধিপত্যবাদ বিরোধী সৈনিক শহীদ শরীফ উসমান হাদীর ঐতিহাসিক উক্তি ও বক্তব্য’র ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলন (ইছাআ)।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তারা এ আয়োজন সংগঠনটি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির শাখা সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাতের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান, শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী ইউসুব আলী, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহ-সমন্বয়ক তানভীর মাহমুদ মন্ডল। এছাড়াও ইছাআর শাখা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিয়ামাতুল্লাহ ফারিজ, প্রচার সম্পাদক হাবিব আল মিসবাহসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ ওসমান হাদী সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহ-সমন্বয়ক তানভীর মাহমুদ মন্ডল বলেন,
“হাদী ভাইয়ের বক্তব্যের ভিডিওগুলো যতটা না অনুপ্রাণিত করে, “তার থেকেও আমি যতদিন ছিলাম তাঁর সাথে, তাঁকে কাছে থেকে যতবার দেখেছি ততবারই অনুপ্রাণিত হয়েছি তাঁর কথাবার্তায়, তাঁর চলাফেরায়, তাঁর পুরো লাইফস্টাইলে। হাদী ভাই চলে গেছে— এটা বাংলাদেশের অদূর ভবিষ্যতের রাজনীতির একটা বড় ক্ষতি হয়ে গেছে অবশ্যই। তার থেকেও আবার ভিন্নভাবে যদি বলি যে, হাদী ভাইয়ের যে দর্শন, যে চিন্তাভাবনা, তাঁর যে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, তাঁর বক্তব্যগুলো আমাদের যুবসমাজের মাঝে, বাংলাদেশের আপামর জনগণের মাঝে যে ইমপ্যাক্ট (প্রভাব) তৈরি করে গেছে— এটা ভবিষ্যতে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে শক্তি রূপে আবির্ভূত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
তিনি আরো বলেন, “শরীফ ওসমান হাদী ভাই বাংলাদেশের এই প্রজন্মের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। আমরা হারিয়েছি এই নক্ষত্রকে। তাঁর যে মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল— স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ন্যায় এবং ইনসাফের যে লড়াই— এই লড়াইটা যেন তাঁর সহচর যারা ছিল, আশেপাশে সহযোগী যারা ছিল, আমরা যেন চালিয়ে নিয়ে যেতে পারি, এই দোয়া আপনাদের কাছে কামনা করছি।”
আয়োজন সম্পর্কে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের শাখা সভাপতি ইসমাইল রাহাত বলেন, “আজকে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি-র স্মৃতি ভাস্বর প্রদর্শন এবং সাথে সাথে তার সেরা উক্তি, টকশো এবং তার বক্তব্যগুলো প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। তিনি যে চেঞ্জ করতে চেয়েছিলেন, তিনি যে কালচারাল ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে লড়ে গিয়েছিলেন, সেই হাদি যেন হারিয়ে না যায়, সেই হাদি যেন আমাদের মধ্যে জীবিত থাকে সেটাই আমরা উপস্থাপিত করতে চেয়েছি। এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে এবং প্রশাসনকে একটা বার্তা দিতে চেয়েছি। একটা হলো যে জুলাই এবং দেশ মাতৃকার জন্য যিনি লড়ে গিয়েছেন সেই হাদিকে আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাচ্ছি এবং সেই হাদির জন্য আমরা দোয়া করব এবং সেই হাদির পদ অনুসরণ করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। দ্বিতীয়ত প্রশাসনের প্রতি তারা যেন জুলাই বিরোধী সকল ফ্যাসিস্টদের দোসরদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে।”




















