ঢাকা ১২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরিষাবাড়িতে বেড়েছে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা Logo দেশের বাজারে ডিটেইল মাস্টার” নুবিয়া ভি৮০ প্রো স্মার্টফোন উন্মোচন Logo বগুড়ায় নকল সিগারেট তৈরির কারখানায় অভিযান, বিপুল পরিমাণে নকল সিগারেট জব্দ Logo অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় তারেক রহমানের Logo নাগরিক সংকটেই ভোটের পাল্লা: ঢাকা–৬ আসনে গ্যাস–পানি–নিরাপত্তাই প্রধান ইস্যু Logo কুবিতে প্রোগ্রাম অ্যাক্রেডিটেশন ও একাডেমিক পরিকল্পনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা Logo গোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির দ্বাদশ বর্ষে পদার্পণ Logo কারা অধিদপ্তরকে ১৩ হাজার ধর্মীয় বই উপহার দিচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়  Logo ৮২ ঘণ্টার জন্য নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান নিষিদ্ধ করে নির্দেশনা জারি Logo হাওরে স্বল্পমেয়াদি সরিষা চাষ, বাড়তি লাভের সম্ভাবনা কৃষকদের

জুলাই পরবর্তী ইবি ক্যাম্পাসে বছরজুড়ে বৈছাআর নেতৃত্বে যত তৎপরতা

  • সাকীফ বিন আলম
  • প্রকাশিত ১১:১৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৭৮ বার পঠিত

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় আমূল পরিবর্তনের ঢেউ লেগেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতেও। দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী রাজনৈতিক চর্চার জাঁতাকল থেকে মুক্ত হয়ে ক্যাম্পাসগুলো ফিরে পেয়েছে বহুমাত্রিক রাজনৈতিক তৎপরতার প্রাণচাঞ্চল্য। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ও এই ধারার ব্যতিক্রম নয়। স্বৈরাচারী হাসিনা শাসনের পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্ররাজনীতি সম্পূর্ণ নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছে, যেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ) এর সমন্বয়ে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন মতাদর্শের সংগঠন একসাথে কাজ করে চলেছে।

বিগত ২০২৫ সালজুড়ে শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক সমস্যা সমাধান থেকে শুরু করে জাতীয় ইস্যুতে সোচ্চার ভূমিকা রেখেছে বৈছাআ ইবি। শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে জব কর্ণার স্থাপন, আবাসিক হলে পানির ফিল্টার বসানো, স্মার্ট আইডি কার্ড চালুকরণ, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহায়তায় হেল্প ডেস্ক পরিচালনা, বাৎসরিক ছুটি কমানো, সেশনজট নিরসন এবং কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সড়কে বাস ভাড়া অর্ধেক করে ঘণ্টাপ্রতি বাস চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

বৈছাআ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেছে, যাতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুধুমাত্র পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী ছাড়া সকল কোটা বাতিল, জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, সেশনজট নিরসনে অনুষদভিত্তিক একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন, বহিরাগতমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণ, ক্যাম্পাস স্টেডিয়াম নির্মাণ, জিমনেসিয়ামে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ক্যাম্পাসে ফায়ার সার্ভিস ও ব্যাংক বুথ স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।

জাতীয় ইস্যুতে সংগঠনটির ভূমিকা ছিল সমানভাবে সক্রিয়। ‘ফেলানী দিবস’ উপলক্ষে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল, ‘জুলাইয়ের প্রেরণা, দিতে হবে ঘোষণা’ শীর্ষক লিফলেট বিতরণ, ‘বাংলাদেশের পরম্পরা: বায়ান্ন থেকে চব্বিশ’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী, ‘একুশ আমার অস্তিত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং আঞ্চলিক ভাষায় জুলাই চব্বিশের স্মৃতিচারণমূলক ভিডিও প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে তারা। এছাড়াও শ্রমজীবী ও ভ্যানচালকদের সাথে ইফতার মাহফিল, ‘সহস্র কণ্ঠে দেশের গান’ অনুষ্ঠান, সিলেটের এমসি কলেজে শিক্ষার্থী নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, কুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি অনশন এবং প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে সমাবেশ করেছে বৈছাআ।

সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডেও সংগঠনটির অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। প্রায় আট বছর পর শহীদ আবু সাঈদ আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে তাদের উদ্যোগে। বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগিতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের অংশগ্রহণে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। শহীদ মিনারে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং সাজিদ আব্দুল্লাহ ও শহীদ ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে যৌথ বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।

জাতীয় স্মরণ দিবসগুলোতেও বৈছাআ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ অঞ্চলের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল, শহীদ ওসমান হাদির জন্য গায়েবি জানাজা ও দোয়া মাহফিল এবং বিভিন্ন জাতীয় ব্যক্তিত্বের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

ইবি বৈছাআর আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, “জুলাই বিপ্লব আমাদেরকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে। আমরা চাই ক্যাম্পাস হোক সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক, যেখানে সকল মতাদর্শের ছাত্র সংগঠন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। আমাদের সব কর্মকাণ্ডই শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় এবং জাতীয় চেতনা বিকাশের লক্ষ্যে পরিচালিত। ২০২৫ সালজুড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই বহুমুখী তৎপরতা ইবি ক্যাম্পাসে একটি গতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দায়িত্বশীল ছাত্ররাজনীতির নতুন মডেল তৈরি করেছে, যা জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক সংস্কৃতি পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”

জনপ্রিয়

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরিষাবাড়িতে বেড়েছে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা

জুলাই পরবর্তী ইবি ক্যাম্পাসে বছরজুড়ে বৈছাআর নেতৃত্বে যত তৎপরতা

প্রকাশিত ১১:১৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় আমূল পরিবর্তনের ঢেউ লেগেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতেও। দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী রাজনৈতিক চর্চার জাঁতাকল থেকে মুক্ত হয়ে ক্যাম্পাসগুলো ফিরে পেয়েছে বহুমাত্রিক রাজনৈতিক তৎপরতার প্রাণচাঞ্চল্য। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ও এই ধারার ব্যতিক্রম নয়। স্বৈরাচারী হাসিনা শাসনের পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্ররাজনীতি সম্পূর্ণ নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছে, যেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ) এর সমন্বয়ে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন মতাদর্শের সংগঠন একসাথে কাজ করে চলেছে।

বিগত ২০২৫ সালজুড়ে শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক সমস্যা সমাধান থেকে শুরু করে জাতীয় ইস্যুতে সোচ্চার ভূমিকা রেখেছে বৈছাআ ইবি। শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে জব কর্ণার স্থাপন, আবাসিক হলে পানির ফিল্টার বসানো, স্মার্ট আইডি কার্ড চালুকরণ, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহায়তায় হেল্প ডেস্ক পরিচালনা, বাৎসরিক ছুটি কমানো, সেশনজট নিরসন এবং কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সড়কে বাস ভাড়া অর্ধেক করে ঘণ্টাপ্রতি বাস চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

বৈছাআ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেছে, যাতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুধুমাত্র পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী ছাড়া সকল কোটা বাতিল, জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, সেশনজট নিরসনে অনুষদভিত্তিক একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন, বহিরাগতমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণ, ক্যাম্পাস স্টেডিয়াম নির্মাণ, জিমনেসিয়ামে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ক্যাম্পাসে ফায়ার সার্ভিস ও ব্যাংক বুথ স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।

জাতীয় ইস্যুতে সংগঠনটির ভূমিকা ছিল সমানভাবে সক্রিয়। ‘ফেলানী দিবস’ উপলক্ষে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল, ‘জুলাইয়ের প্রেরণা, দিতে হবে ঘোষণা’ শীর্ষক লিফলেট বিতরণ, ‘বাংলাদেশের পরম্পরা: বায়ান্ন থেকে চব্বিশ’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী, ‘একুশ আমার অস্তিত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং আঞ্চলিক ভাষায় জুলাই চব্বিশের স্মৃতিচারণমূলক ভিডিও প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে তারা। এছাড়াও শ্রমজীবী ও ভ্যানচালকদের সাথে ইফতার মাহফিল, ‘সহস্র কণ্ঠে দেশের গান’ অনুষ্ঠান, সিলেটের এমসি কলেজে শিক্ষার্থী নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, কুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি অনশন এবং প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে সমাবেশ করেছে বৈছাআ।

সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডেও সংগঠনটির অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। প্রায় আট বছর পর শহীদ আবু সাঈদ আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে তাদের উদ্যোগে। বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগিতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের অংশগ্রহণে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। শহীদ মিনারে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং সাজিদ আব্দুল্লাহ ও শহীদ ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে যৌথ বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।

জাতীয় স্মরণ দিবসগুলোতেও বৈছাআ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ অঞ্চলের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল, শহীদ ওসমান হাদির জন্য গায়েবি জানাজা ও দোয়া মাহফিল এবং বিভিন্ন জাতীয় ব্যক্তিত্বের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

ইবি বৈছাআর আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, “জুলাই বিপ্লব আমাদেরকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে। আমরা চাই ক্যাম্পাস হোক সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক, যেখানে সকল মতাদর্শের ছাত্র সংগঠন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। আমাদের সব কর্মকাণ্ডই শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় এবং জাতীয় চেতনা বিকাশের লক্ষ্যে পরিচালিত। ২০২৫ সালজুড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই বহুমুখী তৎপরতা ইবি ক্যাম্পাসে একটি গতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দায়িত্বশীল ছাত্ররাজনীতির নতুন মডেল তৈরি করেছে, যা জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক সংস্কৃতি পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”