কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্র শিবিরের মব সন্ত্রাস, গুজব ছড়ানো এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে সুকৌশলে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদ।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) কলেজের মুক্ত মঞ্চে বিকেল ৫ টায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্টিত হয় । এসময় উপস্থিত ছিলেন, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাহিদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক সাদেক বাপ্পি ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা বলেন , আমাদের ক্যাম্পাসে একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, দখলদারি ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে-যার প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এই গোষ্ঠীর সদস্যরা অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকে গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। অথচ এসব গুরুতর অপরাধের পরও তারা অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছে এবং প্রকাশ্যে সিট বাণিজ্য পরিচালনা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, নিজেদের ক্যাডার ও সহযোগীদের হলে তুলে দিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক নামিয়ে দিয়ে গোপনে শিবির ও সাবেক ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের হলে উঠানো হয়েছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও অনুরোধে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তী সকল ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সমস্যার সমাধান করা হলেও পরের দিন তারা বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে ছাত্র অধিকার পরিষদের নামে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ায় ।
সংবাদ সম্মেলনে তারা আরও বলেন, আমাদের সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে । যার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো ছাত্র অধিকার পরিষদের ন্যায়সংগত অবস্থানকে দুর্বল করা এবং শিক্ষার্থীদের ঐক্য ভাঙা। মব সৃষ্টির পিছনে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন। সব মিথ্যা প্রপাগান্ডা গুলো সকলের উপস্থিতিতে প্রমাণ করতে না পেরেও সমাধান হওয়ার পরদিন মিডিয়াতে প্রকাশ করে এই ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আরিফ এবং গুপ্ত শিবির আরবি ডিপার্টমেন্টের সাইফুল্লাহ।
আমরা সকলের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট করে বলতে চাই:
ছাত্র অধিকার পরিষদ কোনো সন্ত্রাসের রাজনীতি করে না, করবে না। আমরা ভয় পাই না, ভয় দেখিয়ে আমাদের থামানো যাবে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে আমরা আপসহীন।
প্রশাসনের কাছে সংগঠনটির জোরালো দাবি:
১.অবিলম্বে সিট বাণিজ্য ও হল দখলের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ছাত্রত্ব বাতিল ও বহিষ্কার করতে হবে।
২.মব সন্ত্রাস ও প্রপাগান্ডার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩.সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র অধিকার পরিষদ রাজপথে থাকবে ।



















