ঢাকা ১২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জাবিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ‘তরী’র শীতবস্ত্র বিতরণ  Logo জাবিস্থ মাদারীপুর জেলা ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে রিমন-জাহিদ Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সোমবার শিক্ষার্থীদের গণজমায়েত Logo র‌্যাব-১০ এর অভিযানে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক Logo জাবিতে ‘তারুণ্যের চোখে আগামী নির্বাচন ও গণভোট’ শীর্ষক সেমিনার Logo শুধু নিয়ন্ত্রন নয়, ওষুধ ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায় ডায়াবেটিস নিরাময় সম্ভব  Logo নির্বাচনকালীন গুজব ও অপপ্রচার মোকাবেলায় সাংবাদিকদের পিআইবির প্রশিক্ষণ Logo ইউনিলিভার, যুক্তরাজ্য সরকার ও ইওয়াই-এর যৌথ উদ্যোগের দশ বছর পূর্তি উদযাপন Logo ‎কুবিতে আদিবাসী ছাত্র সংসদের নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় Logo ‎কুবিতে ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল 

জাবিতে ‘তারুণ্যের চোখে আগামী নির্বাচন ও গণভোট’ শীর্ষক সেমিনার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘Academic Dialogue on Youth-Led Democratic Movements and Policy Impact’ শীর্ষক একাডেমিক সংলাপ ও ‘তারুণ্যের চোখে আগামী নির্বাচন ও গণভোট’ বিষয়ক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) এবং ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জাবিসাস)-এর সভাপতি মেহেদী মামুন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। বিশেষ আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, “পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্য, শোষণ ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা এলেও সাধারণ মানুষ আজও প্রত্যাশিত সুফল পুরোপুরি পায়নি। বহু আন্দোলন ও নির্বাচনের পরও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও যুবশক্তির যথাযথ স্বীকৃতি অনুপস্থিত থেকেছে। অথচ যুবশক্তিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি, যাকে অবমূল্যায়ন করলে ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট। শুধু নির্বাচন নয়, জুলাইয়ের আত্মত্যাগে অর্জিত পরিবর্তনকে স্থায়ী করতে হলে সংস্কার, অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের ভেতরেও গণতান্ত্রিক চর্চা ও নৈতিক ভিত্তি শক্ত না হলে টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়।”

বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটের প্রেক্ষাপটে তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৮-৩৭ বছর বয়সী ভোটার প্রায় ৪৩ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার শক্তি তরুণদের হাতেই। তাই আবেগ নয়, বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। কোন ব্যক্তি বা দল পরিবর্তন আনতে সক্ষম, কার নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ট্র্যাক রেকর্ড কেমন। এই প্রশ্নগুলো তরুণদেরই করতে হবে। শুধু ভালো মানুষ হলেই হবে না, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সক্ষমতাও থাকতে হবে।

“এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি বড় দায়িত্ব আছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ম্যানিফেস্টো সমালোচনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করা, গবেষণা ও নীতিগত আলোচনা গণমাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া, রাউন্ড টেবিল ও ওপেন সেমিনার আয়োজন করা। এসবের মাধ্যমে আমরা গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করতে পারবো” বলে প্রতাশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাকসুর জিএস মো. মাজহারুল ইসলাম, এজিএস ফেরদৌস আল হাসান এবং জাকসুর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা।
আলোচনায় অংশ নেন লেখক ও এবিডিই সদস্য মুহাম্মদ সজল, সাংবাদিক ও গবেষক প্লাবন তারিক, দ্য ইয়ুথ স্টাডিজ (TYS)–এর সভাপতি সালাহউদ্দিন শুভ। গবেষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল ফলখের গবেষক ফারিয়া সুলতানা। এছাড়া সরকার ও রাজনীতি বিতর্ক মঞ্চ (SRBM)-এর সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের সদ্য সদস্য ও বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (BIPED)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মুনিম মুবাশ্বির এবং ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশের সদস্য সচিব ও সদ্য নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য সাদিক আল আরমান।

আয়োজকরা জানান, তারুণ্যের মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের একাডেমিক সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ সেমিনারের মাধ্যমে তরুণদের মতামত ও ভাবনাকে নীতিনির্ধারণের আলোচনায় যুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

পাশাপাশি সেমিনারে তারুণ্যের রাজনৈতিক সচেতনতা, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুবসমাজের ভূমিকা, ভবিষ্যৎ নির্বাচন ও গণভোটে তরুণদের অংশগ্রহণ এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যুব নেতৃত্বের প্রভাব নিয়ে একাডেমিক পরিসরে আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়।

জনপ্রিয়

জাবিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ‘তরী’র শীতবস্ত্র বিতরণ 

জাবিতে ‘তারুণ্যের চোখে আগামী নির্বাচন ও গণভোট’ শীর্ষক সেমিনার

প্রকাশিত ০৯:৪২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘Academic Dialogue on Youth-Led Democratic Movements and Policy Impact’ শীর্ষক একাডেমিক সংলাপ ও ‘তারুণ্যের চোখে আগামী নির্বাচন ও গণভোট’ বিষয়ক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) এবং ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জাবিসাস)-এর সভাপতি মেহেদী মামুন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। বিশেষ আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, “পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্য, শোষণ ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা এলেও সাধারণ মানুষ আজও প্রত্যাশিত সুফল পুরোপুরি পায়নি। বহু আন্দোলন ও নির্বাচনের পরও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও যুবশক্তির যথাযথ স্বীকৃতি অনুপস্থিত থেকেছে। অথচ যুবশক্তিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি, যাকে অবমূল্যায়ন করলে ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট। শুধু নির্বাচন নয়, জুলাইয়ের আত্মত্যাগে অর্জিত পরিবর্তনকে স্থায়ী করতে হলে সংস্কার, অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের ভেতরেও গণতান্ত্রিক চর্চা ও নৈতিক ভিত্তি শক্ত না হলে টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়।”

বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটের প্রেক্ষাপটে তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৮-৩৭ বছর বয়সী ভোটার প্রায় ৪৩ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার শক্তি তরুণদের হাতেই। তাই আবেগ নয়, বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। কোন ব্যক্তি বা দল পরিবর্তন আনতে সক্ষম, কার নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ট্র্যাক রেকর্ড কেমন। এই প্রশ্নগুলো তরুণদেরই করতে হবে। শুধু ভালো মানুষ হলেই হবে না, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সক্ষমতাও থাকতে হবে।

“এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি বড় দায়িত্ব আছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ম্যানিফেস্টো সমালোচনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করা, গবেষণা ও নীতিগত আলোচনা গণমাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া, রাউন্ড টেবিল ও ওপেন সেমিনার আয়োজন করা। এসবের মাধ্যমে আমরা গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করতে পারবো” বলে প্রতাশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাকসুর জিএস মো. মাজহারুল ইসলাম, এজিএস ফেরদৌস আল হাসান এবং জাকসুর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা।
আলোচনায় অংশ নেন লেখক ও এবিডিই সদস্য মুহাম্মদ সজল, সাংবাদিক ও গবেষক প্লাবন তারিক, দ্য ইয়ুথ স্টাডিজ (TYS)–এর সভাপতি সালাহউদ্দিন শুভ। গবেষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল ফলখের গবেষক ফারিয়া সুলতানা। এছাড়া সরকার ও রাজনীতি বিতর্ক মঞ্চ (SRBM)-এর সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের সদ্য সদস্য ও বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (BIPED)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মুনিম মুবাশ্বির এবং ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশের সদস্য সচিব ও সদ্য নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য সাদিক আল আরমান।

আয়োজকরা জানান, তারুণ্যের মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের একাডেমিক সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ সেমিনারের মাধ্যমে তরুণদের মতামত ও ভাবনাকে নীতিনির্ধারণের আলোচনায় যুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

পাশাপাশি সেমিনারে তারুণ্যের রাজনৈতিক সচেতনতা, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুবসমাজের ভূমিকা, ভবিষ্যৎ নির্বাচন ও গণভোটে তরুণদের অংশগ্রহণ এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যুব নেতৃত্বের প্রভাব নিয়ে একাডেমিক পরিসরে আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়।