বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়কে একদিনে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়কে একটি তেলবাহী গাড়ির সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী তামিম হোসেন গুরুতর আহত হন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
একই দিনে রাত ১১টার দিকে দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া সেতুর ওপর। ঢাকা থেকে বরগুনাগামী ‘গ্রিনভিউ’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস একটি অটোরিকশাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় অটোরিকশায় থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সামিউল এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নিলয় আহত হন। বাসের চাপে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা লেগে সামিউলের হাত কেটে যায়।
ঘটনার পর উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা বাসটি আটক করেন এবং চালককে মারধর করেন।
আহত শিক্ষার্থী সামিউল বলেন, “আমরা ব্রিজের ওপর অটোরিকশায় ছিলাম। গ্রিনভিউর বাসটি আমাদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। সেতুর রেলিংয়ে চাপ লেগে আমার হাত কেটে গেছে।”
আরেক আহত শিক্ষার্থী নিলয় বলেন, “আল্লাহর রহমতে আমরা বেঁচে গেছি। আমরা চাই দপদপিয়া সেতুতে যেন আর কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। এর স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল। তিনি শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন।
এসময় প্রক্টর বলেন, “আমরা এই সমস্যার সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। দপদপিয়া ফেরিঘাটের পাশে যে বিকল্প সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, সেটি সম্পন্ন হলে এই রুটে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।”
উল্লেখ্য, ঘটনার পর বাসচালককে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জুনায়েদ/ববি


















