ঢাকা ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ফুটবল উন্মাদনায় দেশের বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে শাওমি স্মার্ট টিভি Logo এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াচ্ছে টিকটক Logo পাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে উল্লাস-শামীম Logo পাবিপ্রবিতে গবেষনায় জোর দিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বছরে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকার প্রণোদনা Logo হাবিপ্রবিতে পরিবহন সংকট নিরসনে ৪ দফা দাবি ছাত্রদলের Logo কুকুর ব্যবস্থাপনায় ভ্যাক্সিনেশন কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে হাবিপ্রবি প্রশাসন Logo পরীক্ষা শুরুর পৌনে ২ ঘণ্টা পর জানা গেল প্রশ্ন গতবছরের! Logo ২১ বছর নিখোঁজ থাকার পর জীবিত ফিরলেন রতন! ওদিকে মারা গেছেন বাবা Logo ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘লং মার্চ টু পার্লামেন্ট’- এ রণক্ষেত্র দিল্লি, বন্ধ ইন্টারনেট Logo প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন রাশেদ খাঁন

হামে শিশুমৃত্যু: দায়ীদের শাস্তি ও জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার দাবি ডিপিপিএইচের

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং একে ‘জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ (ডিপিপিএইচ)।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘হামে শিশুমৃত্যু: জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ডিপিপিএইচের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র এক মাসে হাম ও হাম সদৃশ উপসর্গে ২০৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং বাকিদের শরীরে হামের স্পষ্ট লক্ষণ ছিল।
বর্তমানে সারাদেশে ২০ হাজারেরও বেশি শিশু এই রোগে আক্রান্ত এবং ৩ হাজারের বেশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

মুশতাক হোসেন বলেন, এই মৃত্যুগুলো প্রতিরোধযোগ্য ছিল। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিলে শিশুদের প্রাণ বাঁচানো যেত। আমরা মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা সংগ্রহে গাফিলতি ও আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিকে (ইপিআই) দুর্বল করে দিয়েছে। এই অবহেলার জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

দেশে হামের মহামারি চলছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার স্বীকার করুক বা না করুক, দেশে বর্তমানে হামের মহামারি চলছে। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি বা রাজনৈতিক পরিণতির ভয়ে হয়তো সরকার এটিকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করতে দ্বিধা করছে।
তবে সরকার ইতোমধ্যে গণটিকা কর্মসূচি শুরু করায় আগামী দেড় মাসের মধ্যে সংক্রমণ এবং আড়াই মাসের মধ্যে মৃত্যুহার কমে আসতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুব-ই-রশিদ বলেন, বাংলাদেশ এক সময় সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে সফল দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মহলের দায়িত্বহীনতায় আজ হামের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশ পিছিয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

জনপ্রিয়

ফুটবল উন্মাদনায় দেশের বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে শাওমি স্মার্ট টিভি

হামে শিশুমৃত্যু: দায়ীদের শাস্তি ও জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার দাবি ডিপিপিএইচের

প্রকাশিত ০৯:০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং একে ‘জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ (ডিপিপিএইচ)।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘হামে শিশুমৃত্যু: জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ডিপিপিএইচের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র এক মাসে হাম ও হাম সদৃশ উপসর্গে ২০৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং বাকিদের শরীরে হামের স্পষ্ট লক্ষণ ছিল।
বর্তমানে সারাদেশে ২০ হাজারেরও বেশি শিশু এই রোগে আক্রান্ত এবং ৩ হাজারের বেশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

মুশতাক হোসেন বলেন, এই মৃত্যুগুলো প্রতিরোধযোগ্য ছিল। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিলে শিশুদের প্রাণ বাঁচানো যেত। আমরা মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা সংগ্রহে গাফিলতি ও আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিকে (ইপিআই) দুর্বল করে দিয়েছে। এই অবহেলার জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

দেশে হামের মহামারি চলছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার স্বীকার করুক বা না করুক, দেশে বর্তমানে হামের মহামারি চলছে। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি বা রাজনৈতিক পরিণতির ভয়ে হয়তো সরকার এটিকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করতে দ্বিধা করছে।
তবে সরকার ইতোমধ্যে গণটিকা কর্মসূচি শুরু করায় আগামী দেড় মাসের মধ্যে সংক্রমণ এবং আড়াই মাসের মধ্যে মৃত্যুহার কমে আসতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুব-ই-রশিদ বলেন, বাংলাদেশ এক সময় সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে সফল দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মহলের দায়িত্বহীনতায় আজ হামের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশ পিছিয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।