জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের আয়োজনে “জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: আর্থিক বাস্তবতা, উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং সংস্কার প্রতিবন্ধকতা” শীর্ষক এক প্রি-বাজেট সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২০মে) দুপুর ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ভবনের ২৪২ নম্বর কক্ষে অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সেমিনারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত একাডেমিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি এবং সহকারী অধ্যাপক ইসতিয়াক রায়হান।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ইসতিয়াক রায়হান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা, রাজস্ব ঘাটতি, বাজেট বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের কাঠামোগত দুর্বলতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাজেট কাঠামো বর্তমানে “ত্রিমুখী কাঠামোগত সংকটে” জর্জরিত, যেখানে রাজস্ব সংকট, ব্যয় দক্ষতার অভাব এবং সামাজিক ন্যায্যতার ঘাটতি একে অপরকে প্রভাবিত করছে। তিনি উন্নয়ন ব্যয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, কর-জিডিপি অনুপাত উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও বলেন, “বাজেটের আকার বড় হওয়াই মূল বিষয় নয়; বরং কতটা কার্যকরভাবে তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সামাজিক সুরক্ষা, নারীর অংশগ্রহণ এবং মানবিক উন্নয়নকে বাজেটের কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে উন্নয়ন পরিকল্পনায় দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ তাঁর বক্তব্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, বৈষম্য, ঋণনির্ভরতা এবং নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “উন্নয়নকে কেবল অবকাঠামোগত প্রবৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; জনগণের জীবনমান, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।”
তিনি কর কাঠামোর সংস্কার, অপচয় ও দুর্নীতি হ্রাস এবং জনগণমুখী বাজেট প্রণয়নের ওপর জোর দেন।
সেমিনারে বক্তারা সম্মিলিতভাবে মত দেন যে, আগামী জাতীয় বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, উন্নয়ন ব্যয়ের গুণগত মান উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাঁরা আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট ব্যবস্থার আহ্বান জানান।
আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্ন ও মতামতের ভিত্তিতে একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যা পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।


















