কবি নজরুল সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং বাঁধনের প্রধান শিক্ষক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. নুরুন নাহারের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে স্বেচ্ছাসেবী রক্তদান সংগঠন বাঁধন, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ইউনিট।
সোমবার (৪ মে) দুপুর ১২টায় কলেজ অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাঁধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রিয় শিক্ষকের সাথে কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অধ্যাপক নুরুন নাহারকে পরিবেশবান্ধব গাছ এবং বাঁধনের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ অধ্যাপক ড. নুরুন নাহার শুরুতেই শিক্ষার্থীদের ধৈর্যের প্রশংসা করে বলেন, “তোমরা অনেক সময় বসে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছ এবং তাতে পাস করেছ”। রক্তদানের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি নিজের জীবনের এক মর্মান্তিক ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমার বোনের যখন সন্তান হওয়ার সময় হয় তখন তাঁকে ক্লিনিকে নিয়ে যাই। চিকিৎসক বলেন অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে হয় বাচ্চাকে বাঁচানো যাবে না হয় মাকে। মাকে বাঁচাতে অনেক রক্তের প্রয়োজন ছিল। অনেক কষ্টে রক্তের ব্যবস্থা করেছিলাম, কিন্তু সেই রক্তের বোঝা বইতে বইতে শেষ পর্যন্ত আমার বোন ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করেন। এ ধরনের হাজারো ঘটনা আমাদের চারপাশে অনেক ঘটছে”।
বাঁধনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি বলেন, “তোমরা বাঁধনে যুক্ত হবে কারণ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত অনেক দুর্বল। ১৯৭৭ সালে সন্ধানী এবং তার ২০ বছর পর ১৯৯৭ সালে বাঁধন প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী মানুষের জীবন বাঁচাতে এই সংগঠনের সাথে যুক্ত আছে। একারণেই আমি বাঁধনকে ভালোবাসি। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাঁধন ও বিএনসিসির মতো সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকার পরামর্শ দেন। বাঁধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন”।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক শিরিন সুলতানা বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানটি একটি উদ্দীপনামূলক প্রোগ্রাম। তিনি নিজের বিএনসিসি জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দিয়ে বলেন, তোমরা যে সময়টা নষ্ট করতে সেই সময়টা বাঁধনের সাথে যুক্ত হয়ে মানবসেবায় ব্যয় করছ। আমরা যখন ভাবি আমার রক্ত দিয়ে অন্য কারো জীবন বেঁচেছে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এই ঋণ কখনো শোধ হওয়ার নয়। তোমাদের এই বয়সটা ঝিমিয়ে থাকার নয়, এটা দৌড়ানোর বয়স। যতটুকু সময় আছে তার মধ্য দিয়েই এ ধরনের কাজের সাথে যুক্ত থাকো”। তিনি যতদিন এই কলেজে আছেন সংগঠনের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।”
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাঁধন কবি নজরুল সরকারি কলেজ ইউনিটের সভাপতি মীর হাসান পিয়াস। ব্যস্ততার মাঝেও সময় দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, “ম্যাম আমাদের মধ্য থেকে কখনোই বিদায় নেবেন না, তিনি সব সময় আমাদের মাঝেই থাকবেন। সবার দীর্ঘায়ু কামনা করে ভুলত্রুটি হলে তা ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান”।

















