ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে প্রবেশের অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে মোটরসাইকেল চালক Logo জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড কারা, জানালেন প্রধানমন্ত্রী Logo চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষ, আহত ৫ Logo বিএনপির ইতিহাস কোনোভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী Logo প্রাথমিকের ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষকের বিশেষ প্রশিক্ষণ ঘিরে ‌‘ধোঁয়াশা’ Logo জামায়াত-এনসিপি জোটের লংমার্চে এক দফার ইঙ্গিত Logo ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের গাড়িবহর চট্টগ্রামে Logo ৬ মাসে বিএনপি চাঁদাবাজিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: প্রধানমন্ত্রী Logo ইরানের তেলের ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

১১ দলীয় জোটের লংমার্চের গাড়িবহর চট্টগ্রামে

জুলাই মাসের গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল ও সার সংকট সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ছয় দফা দাবি নিয়ে ১১ দলীয় জোটের চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের গাড়িবহর সফলভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বহনকারী এই বিশাল গাড়িবহরটি বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে এসে পৌঁছায়। এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ এই রাজনৈতিক কর্মসূচিটি চট্টগ্রাম নগরীতে প্রবেশ করে এবং নির্ধারিত পথ পরিক্রমা সম্পন্ন করে।

এর আগে নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল সোয়া আটটার দিকে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকা থেকে প্রায় দেড় হাজার গাড়ির একটি দীর্ঘ বহর নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে এই লংমার্চ শুরু হয়েছিল। প্রায় বারো ঘণ্টার দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাত্রা শেষে সন্ধ্যার দিকে বহরটি চট্টগ্রাম শহরে এসে পৌঁছায়। তবে যাত্রা শুরুর পূর্বে সকাল সাতটায় মতিঝিল চত্বরে একটি সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে মহাসড়কের বিভিন্ন জনপদে সাড়া ফেলে।

রাজধানী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দীর্ঘ এই মহাসড়ক ভ্রমণের সময় লংমার্চের বহরটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। যাত্রাপথে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, ফেনী এবং মিরসরাইয়ের মতো জনবহুল এলাকাগুলোতে পূর্বনির্ধারিত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি পথসভাতেই ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা পুরো কর্মসূচিটিকে বেশ গতিশীল করে তুলেছিল।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থানীয় নেতাকর্মীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে লংমার্চের বহরটিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিশেষ করে চট্টগ্রাম শহরের প্রবেশমুখ একে খান মোড়, পাহাড়তলী এবং জিইসি মোড় এলাকায় শত শত নেতাকর্মী জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেন। পুরো যাত্রাপথে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটায় জোটের পক্ষ থেকে স্বস্তি প্রকাশ করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেওয়া নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার জন্যও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত সমাপনী সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন এবং তাদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধের জোরালো দাবি জানানো হয় এই সমাবেশ থেকে। সমাপনী অনুষ্ঠান ও নির্ধারিত কার্যক্রম শেষ করে নেতাকর্মীরা পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন বলে জোটের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে প্রবেশের অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে মোটরসাইকেল চালক

১১ দলীয় জোটের লংমার্চের গাড়িবহর চট্টগ্রামে

প্রকাশিত ০৯:০০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই মাসের গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল ও সার সংকট সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ছয় দফা দাবি নিয়ে ১১ দলীয় জোটের চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের গাড়িবহর সফলভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বহনকারী এই বিশাল গাড়িবহরটি বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে এসে পৌঁছায়। এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ এই রাজনৈতিক কর্মসূচিটি চট্টগ্রাম নগরীতে প্রবেশ করে এবং নির্ধারিত পথ পরিক্রমা সম্পন্ন করে।

এর আগে নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল সোয়া আটটার দিকে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকা থেকে প্রায় দেড় হাজার গাড়ির একটি দীর্ঘ বহর নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে এই লংমার্চ শুরু হয়েছিল। প্রায় বারো ঘণ্টার দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাত্রা শেষে সন্ধ্যার দিকে বহরটি চট্টগ্রাম শহরে এসে পৌঁছায়। তবে যাত্রা শুরুর পূর্বে সকাল সাতটায় মতিঝিল চত্বরে একটি সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে মহাসড়কের বিভিন্ন জনপদে সাড়া ফেলে।

রাজধানী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দীর্ঘ এই মহাসড়ক ভ্রমণের সময় লংমার্চের বহরটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। যাত্রাপথে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, ফেনী এবং মিরসরাইয়ের মতো জনবহুল এলাকাগুলোতে পূর্বনির্ধারিত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি পথসভাতেই ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা পুরো কর্মসূচিটিকে বেশ গতিশীল করে তুলেছিল।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থানীয় নেতাকর্মীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে লংমার্চের বহরটিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিশেষ করে চট্টগ্রাম শহরের প্রবেশমুখ একে খান মোড়, পাহাড়তলী এবং জিইসি মোড় এলাকায় শত শত নেতাকর্মী জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেন। পুরো যাত্রাপথে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটায় জোটের পক্ষ থেকে স্বস্তি প্রকাশ করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেওয়া নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার জন্যও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত সমাপনী সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন এবং তাদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধের জোরালো দাবি জানানো হয় এই সমাবেশ থেকে। সমাপনী অনুষ্ঠান ও নির্ধারিত কার্যক্রম শেষ করে নেতাকর্মীরা পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন বলে জোটের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।