সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার দীর্ঘ আট মাস পার হলেও এখনো চাকরিতে যোগদান করতে পারেননি। বিভিন্ন আন্দোলন ও দাবির মুখে সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের যোগদান এবং পদায়নের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেছে। ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট নতুন শিক্ষকরা নিজ নিজ জেলায় যোগদান করবেন এবং পরবর্তীতে ৪ অক্টোবর তাদের স্ব স্ব কর্মস্থলে পদায়ন করা হবে। তবে এই যোগদান ও পদায়নের তারিখ নির্ধারিত হলেও শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো নানা ধরনের ধোঁয়াশা কাটেনি। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এবারের প্রশিক্ষণ পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ আলাদা ও বিশেষ ধরনের হওয়ায় এর সঠিক কার্যপ্রণালী নিয়ে দপ্তরে দপ্তরে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
সাধারণত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদায়নের পর জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) অধীনে দীর্ঘ ১০ মাসের নিয়মিত বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দিয়েছেন যে, এবার এই দীর্ঘ মেয়াদের পরিবর্তে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দুই মাসের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। নেপ মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, প্রশিক্ষণ চাকরির একটি অপরিহার্য অংশ হওয়ায় পদায়নের পরপরই তা শুরু হওয়া উচিত এবং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত নতুন শিক্ষকদের কোনোভাবেই শ্রেণিকক্ষে পাঠানো হবে না। তবে এই বিশেষ দুই মাসের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কবে নাগাদ শুরু হবে এবং এটি আবাসিক নাকি অনাবাসিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর এখনো মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পায়নি। এমনকি এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে একসঙ্গে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সক্ষমতা নেপের রয়েছে কি না, তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।
এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে গৃহীত এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠে এবং বর্তমান মন্ত্রী এ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন। ফলে প্রথম দিকে প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হওয়াকে চাকরির শর্ত হিসেবে বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হলেও পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় সেই কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসে। প্রশিক্ষণ মূল্যায়ন পরীক্ষায় কেউ অকৃতকার্য হলেও তাদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হবে না বলে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে। নেপ কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এই বিশেষ প্রশিক্ষণের একটি খসড়া মডিউল তৈরি করেছে, যা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেই এই মডিউলের আলোকেই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও পরবর্তী মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন।
যোগদান, পদায়ন এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত এসব অমীমাংসিত ও ধোঁয়াশাচ্ছন্ন বিষয়গুলোর অবসান ঘটাতে খুব শীঘ্রই সচিবালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী এবং নেপ মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ জানিয়েছেন যে, আসন্ন এই বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। সেখানে প্রশিক্ষণের ধরন, সময়কাল, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতির বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের এই বৈঠকের পর সুপারিশপ্রাপ্ত হাজার হাজার শিক্ষকের যোগদান ও প্রশিক্ষণের সার্বিক রূপরেখা স্পষ্ট হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।





































