বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় দলটির পক্ষ থেকে ২০২৪ সালের সফল গণআন্দোলনের পেছনের আসল শক্তির বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ওই কেন্দ্রীয় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, গত বছর সংঘটিত ঐতিহাসিক আন্দোলনের প্রকৃত রূপকার বা মাস্টারমাইন্ড হলো এ দেশের সাধারণ জনগণ। তিনি আরও বলেন যে, বিএনপি সবসময় দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সেই আন্দোলনকে চূড়ান্ত সাফল্যের দিকে নিয়ে গিয়েছিল এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দলটি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া। বিভিন্ন সময় নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও তাদের দল জনগণের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তারেক রহমানের মতে, দেশের জনগণ সবসময় উপলব্ধি করেছে যে জনসাধারণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিএনপি সবসময় বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করেছে। বিগত দিনগুলোতে যতগুলো নির্বাচন নিরপেক্ষ হিসেবে দেশবাসীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি পেয়েছে, তার প্রতিটিতেই দেশের মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখে সরকার গঠনের সুযোগ করে দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
একটি শোষণহীন, কল্যাণমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিএনপি প্রধান বলেন যে, তাদের দল সূলগ্ন থেকেই দেশে গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। এই গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জনের পথপরিক্রমায় দলটির হাজারো নেতাকর্মী অতীতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন বলে তিনি স্মরণ করেন। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এমন একটি কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতে হবে, যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিক কোনো রকম ভীতি বা বাধার মুখে না পড়ে স্বাধীনভাবে নিজ মতামত প্রকাশ করতে পারবেন বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়ে তারেক রহমান বলেন যে, জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের সামনে দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরতে হবে। বিভিন্ন সময়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী ও অগণতান্ত্রিক শক্তির অপতৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে, একাত্তর সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটে লুকিয়ে থাকা গুপ্তবাহিনীগুলো বিভিন্ন পন্থায় একে অপরকে আড়াল করে আসছে। দীর্ঘকাল ধরে চলা এই নেতিবাচক রাজনীতির স্বরূপ দলীয় নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার করতে হবে, যাতে দেশবাসী এসব শক্তির চক্রান্ত সম্পর্কে সজাগ থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের জন্য বিগত সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে পাঁচ দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল দলটি। রাজধানীর রমনায় আয়োজিত সেই বর্ণাঢ্য আলোচনা সভার মধ্য দিয়েই মূলত ওই পাঁচ দিনের কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ দেশের প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবী এবং অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।































