ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

দুই শিশুর পেটে ইয়াবা, চট্টগ্রামে নারী আটক

চট্টগ্রামে দুই শিশুকে ব্যবহার করে পেটের ভেতরে করে ইয়াবা পাচারের একটি অভিনব ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৭)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে মাদক কারবারিরা ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুটি শিশুকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজে ব্যবহার করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শারমিন আকতার ওরফে ইসমত আরা (৪০) নামের এক নারীকে আটক করা হয় এবং ওই দুই শিশুকে নিজেদের হেফাজতে নেয় র‌্যাব। পরবর্তীতে তাদের পেটে তল্লাশি চালিয়ে ছয় হাজারের বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় বিশ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের উখিয়া থেকে একটি মাদক চক্র সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ইয়াবার একটি চালান চট্টগ্রাম শহরের দিকে নিয়ে আসছে—এমন খবরের ভিত্তিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আনোয়ারা থানার সরকারহাটের তৈলার দ্বীপ ব্রিজসংলগ্ন গরুর বাজার এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন যাত্রী শারমিন আকতারকে আটক করা হয় এবং তার সাথে থাকা শিশু দুটিকে আলাদা করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী স্বীকার করেন যে, পাচার করার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সুকৌশলে শিশু দুটির পেটের ভেতরে ইয়াবা বড়ি ভরে দেওয়া হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এই তথ্য পাওয়ার পর গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে শিশু দুটিকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ও এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পেটে ইয়াবার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। এরপর দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে মলত্যাগের মাধ্যমে শিশু দুটির পেট থেকে স্কচটেপে মোড়ানো বিভিন্ন প্যাকেট বের করা হয়। ৯ বছর বয়সী শিশুর পেট থেকে ৬৭টি এবং ১২ বছর বয়সী শিশুর পেট থেকে ৬৬টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়, যেগুলোর ভেতর থেকে মোট ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শারমিন আকতার জানিয়েছে যে, সে উখিয়া থেকে কম দামে ইয়াবা সংগ্রহ করে বিভিন্ন কৌশলে শিশুগুলোকে তা গিলিয়ে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে আসত। এর আগেও একই অমানবিক ও বিপজ্জনক উপায়ে শিশু দুটির পেটের ভেতর ইয়াবা বহন করিয়ে একাধিকবার মাদকের চালান গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে বলে সে স্বীকার করেছে। এই ঘটনায় আটক নারী, ভুক্তভোগী শিশু দুটি এবং উদ্ধার করা মাদকের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

জনপ্রিয়

পাবনায় হত্যার আসামি বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

দুই শিশুর পেটে ইয়াবা, চট্টগ্রামে নারী আটক

প্রকাশিত ০৬:১৮:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামে দুই শিশুকে ব্যবহার করে পেটের ভেতরে করে ইয়াবা পাচারের একটি অভিনব ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৭)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে মাদক কারবারিরা ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুটি শিশুকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজে ব্যবহার করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শারমিন আকতার ওরফে ইসমত আরা (৪০) নামের এক নারীকে আটক করা হয় এবং ওই দুই শিশুকে নিজেদের হেফাজতে নেয় র‌্যাব। পরবর্তীতে তাদের পেটে তল্লাশি চালিয়ে ছয় হাজারের বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় বিশ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের উখিয়া থেকে একটি মাদক চক্র সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ইয়াবার একটি চালান চট্টগ্রাম শহরের দিকে নিয়ে আসছে—এমন খবরের ভিত্তিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আনোয়ারা থানার সরকারহাটের তৈলার দ্বীপ ব্রিজসংলগ্ন গরুর বাজার এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন যাত্রী শারমিন আকতারকে আটক করা হয় এবং তার সাথে থাকা শিশু দুটিকে আলাদা করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী স্বীকার করেন যে, পাচার করার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সুকৌশলে শিশু দুটির পেটের ভেতরে ইয়াবা বড়ি ভরে দেওয়া হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এই তথ্য পাওয়ার পর গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে শিশু দুটিকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ও এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পেটে ইয়াবার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। এরপর দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে মলত্যাগের মাধ্যমে শিশু দুটির পেট থেকে স্কচটেপে মোড়ানো বিভিন্ন প্যাকেট বের করা হয়। ৯ বছর বয়সী শিশুর পেট থেকে ৬৭টি এবং ১২ বছর বয়সী শিশুর পেট থেকে ৬৬টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়, যেগুলোর ভেতর থেকে মোট ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শারমিন আকতার জানিয়েছে যে, সে উখিয়া থেকে কম দামে ইয়াবা সংগ্রহ করে বিভিন্ন কৌশলে শিশুগুলোকে তা গিলিয়ে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে আসত। এর আগেও একই অমানবিক ও বিপজ্জনক উপায়ে শিশু দুটির পেটের ভেতর ইয়াবা বহন করিয়ে একাধিকবার মাদকের চালান গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে বলে সে স্বীকার করেছে। এই ঘটনায় আটক নারী, ভুক্তভোগী শিশু দুটি এবং উদ্ধার করা মাদকের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।