ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ল্যাপটপের স্ক্রিনে কীবোর্ডের দাগ পড়ছে? যা করবেন Logo ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখা ‌‌গুম‌ হিসেবে গণ্য হবে: চিফ প্রসিকিউটর Logo ছেঁড়া মশারি দিয়ে পুকুরে মাছ ধরছিল দুই শিশু, পরে ডুবে মৃত্যু Logo প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ Logo ইবিতে ছাত্রদল-শিবিরের উত্তেজনা, অস্ত্রধারী ১৯ বহিরাগত শনাক্ত Logo প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢোকার চেষ্টা, ৫ দিনের রিমান্ডে যুবক Logo শেখ হাসিনাসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আর আপিলের সুযোগ নেই Logo ব্ল্যাকহেডস কেন হয়, দূর করার সঠিক উপায় জানুন Logo প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে ভয়ংকর সিরিয়াল কিলারের ফাঁদে পড়ে রেজিনা, অতঃপর.. Logo স্বপ্নের ইউরোপ: মৃত্যুর দুয়ার থেকে মিশরে ৫৫ বাংলাদেশি

২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখা ‌‌গুম‌ হিসেবে গণ্য হবে: চিফ প্রসিকিউটর

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কোনো ব্যক্তি আটক হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তার অবস্থান গোপন রাখা কিংবা আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করার মতো ঘটনাগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গুম’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই সুনির্দিষ্ট বিধানের কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, নতুন পাস হওয়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে এসব কর্মকাণ্ডকে অত্যন্ত গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদে সদ্য অনুমোদিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, আইনের সংজ্ঞানুযায়ী কাউকে গ্রেফতারের পর তথ্য গোপন করা বা অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে এই ধরনের প্রতিটি অপরাধকেই সরাসরি মানবতাবিরোধী অপরাধ বলা যাবে না। যদি এ ধরনের অপরাধ ব্যাপক হারে বা নির্দিষ্ট কোনো নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবেই কেবল তা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতাভুক্ত হবে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এর বিচারকার্য পরিচালিত হবে।

নতুন এই আইন প্রণয়নকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এর ফলে দীর্ঘকাল ধরে ন্যায়বিচার বঞ্চিত গুম হওয়া মানুষগুলোর পরিবারগুলো নতুন করে আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ পাবে। এই আইন চালুর ফলে বিচার প্রক্রিয়ার পরিধি আরও প্রসারিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাছাড়া, নবপ্রণীত এই আইনের সঙ্গে দেশের প্রচলিত অন্যান্য আইন কিংবা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো ধরনের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টির অবকাশ নেই বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

চিফ প্রসিকিউটর আরও যোগ করেন যে, গুম সংক্রান্ত নতুন আইনটি অত্যন্ত নিখুঁত ও স্পষ্ট ভাষায় তৈরি করা হয়েছে যাতে এর প্রয়োগ নিয়ে কোনো রকম ধোঁয়াশা তৈরি না হয়। সংশ্লিষ্ট আইনটির সঠিক বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এর মাধ্যমে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বলপূর্বক গুমের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আইনি প্রতিরোধ গড়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল ধারণা করছে।

জনপ্রিয়

ল্যাপটপের স্ক্রিনে কীবোর্ডের দাগ পড়ছে? যা করবেন

২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখা ‌‌গুম‌ হিসেবে গণ্য হবে: চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশিত ০৪:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কোনো ব্যক্তি আটক হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তার অবস্থান গোপন রাখা কিংবা আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করার মতো ঘটনাগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গুম’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই সুনির্দিষ্ট বিধানের কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, নতুন পাস হওয়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে এসব কর্মকাণ্ডকে অত্যন্ত গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদে সদ্য অনুমোদিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, আইনের সংজ্ঞানুযায়ী কাউকে গ্রেফতারের পর তথ্য গোপন করা বা অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে এই ধরনের প্রতিটি অপরাধকেই সরাসরি মানবতাবিরোধী অপরাধ বলা যাবে না। যদি এ ধরনের অপরাধ ব্যাপক হারে বা নির্দিষ্ট কোনো নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবেই কেবল তা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতাভুক্ত হবে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এর বিচারকার্য পরিচালিত হবে।

নতুন এই আইন প্রণয়নকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এর ফলে দীর্ঘকাল ধরে ন্যায়বিচার বঞ্চিত গুম হওয়া মানুষগুলোর পরিবারগুলো নতুন করে আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ পাবে। এই আইন চালুর ফলে বিচার প্রক্রিয়ার পরিধি আরও প্রসারিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাছাড়া, নবপ্রণীত এই আইনের সঙ্গে দেশের প্রচলিত অন্যান্য আইন কিংবা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো ধরনের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টির অবকাশ নেই বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

চিফ প্রসিকিউটর আরও যোগ করেন যে, গুম সংক্রান্ত নতুন আইনটি অত্যন্ত নিখুঁত ও স্পষ্ট ভাষায় তৈরি করা হয়েছে যাতে এর প্রয়োগ নিয়ে কোনো রকম ধোঁয়াশা তৈরি না হয়। সংশ্লিষ্ট আইনটির সঠিক বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এর মাধ্যমে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বলপূর্বক গুমের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আইনি প্রতিরোধ গড়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল ধারণা করছে।