ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo রোমানদের ১৬০০ বছরের পুরনো কাচশিল্পের রহস্য উদ্ধার Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না: নাহিদ ইসলাম Logo ইবিতে ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন’ কর্মশালা: গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির ডাটাবেজ তৈরির সিদ্ধান্ত Logo হালকা রংয়ের ঘরে আভিজাত্যের ছোঁয়া দেওয়ার কৌশল Logo দেশ গঠনে প্রতিটি প্রবাসীকে ‘অ্যাম্বাসেডর’ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo মালয়েশিয়ায় হুন্ডি চক্রের সন্ধান, ৮ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার Logo জাতীয় সাঁতারে প্রথম দিনে ৬ রেকর্ড Logo আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নে হবে: শিক্ষামন্ত্রী Logo স্কুলে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি Logo নির্বাচনের পরও অনিশ্চয়তা, ফের ভোটের পথে ইসরাইল?

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল পদত্যাগপত্রে কী লিখেছেন?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের হাতে আসা একটি পদত্যাগপত্রের তথ্যানুযায়ী, ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। মূলত বিভিন্ন জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে জাতিসংঘের এই স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলার মধ্যেই তিনি এই পদ ছেড়ে দিলেন।

ডব্লিউএইচও প্রধানের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদ উল্লেখ করেন যে, তিনি আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পর অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। কিন্তু তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন বাধা সৃষ্টি করায় ডব্লিউএইচও বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি তার আস্থা ও বিশ্বাস পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে কোনো ধরনের বেতন-ভাতা না পাওয়ায় তার আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় ও অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছিল বলেও তিনি পদত্যাগপত্রে দাবি করেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি ডব্লিউএইচওর পক্ষ থেকে উত্থাপিত জমি সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগেরও বিস্তারিত জবাব দিয়েছেন। তার দাবি, ডব্লিউএইচও যে জমির বিষয়ে অবৈধ দখলের অভিযোগ তুলেছে, তা তিনি সংস্থাটিতে যোগ দেওয়ার বহু আগেই লাভ করেছিলেন। বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য বিশেষ আইনি বিধানের আলোকেই তিনি ওই জমি পাওয়ার সম্পূর্ণ আইনগত অধিকারী ছিলেন বলে পদত্যাগপত্রে সাফ জানিয়ে দেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। তবে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর তাকে বেতনবিহীন প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। এর আগে গত বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করে এবং পরবর্তীতে জুলাই মাসে ডব্লিউএইচও তাকে প্রথম দফায় ছুটিতে পাঠায়।

এদিকে ডব্লিউএইচওকে দেওয়া সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীদের পাঠানো পূর্ববর্তী একটি চিঠির তথ্য অনুযায়ী, চীন সফরকালে আর্থিক জালিয়াতির সঙ্গে জড়ানো এবং নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে অসত্য তথ্য দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছিল সংস্থাটি। যদিও শুরু থেকেই সায়মা ওয়াজেদ তার বিরুদ্ধে আনীত এই সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন। শেষ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, আর্থিক সংকট এবং বিভিন্ন তদন্তের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্বেচ্ছায় আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

জনপ্রিয়

রোমানদের ১৬০০ বছরের পুরনো কাচশিল্পের রহস্য উদ্ধার

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল পদত্যাগপত্রে কী লিখেছেন?

প্রকাশিত ০৯:০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের হাতে আসা একটি পদত্যাগপত্রের তথ্যানুযায়ী, ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। মূলত বিভিন্ন জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে জাতিসংঘের এই স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলার মধ্যেই তিনি এই পদ ছেড়ে দিলেন।

ডব্লিউএইচও প্রধানের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদ উল্লেখ করেন যে, তিনি আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পর অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। কিন্তু তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন বাধা সৃষ্টি করায় ডব্লিউএইচও বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি তার আস্থা ও বিশ্বাস পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে কোনো ধরনের বেতন-ভাতা না পাওয়ায় তার আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় ও অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছিল বলেও তিনি পদত্যাগপত্রে দাবি করেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি ডব্লিউএইচওর পক্ষ থেকে উত্থাপিত জমি সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগেরও বিস্তারিত জবাব দিয়েছেন। তার দাবি, ডব্লিউএইচও যে জমির বিষয়ে অবৈধ দখলের অভিযোগ তুলেছে, তা তিনি সংস্থাটিতে যোগ দেওয়ার বহু আগেই লাভ করেছিলেন। বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য বিশেষ আইনি বিধানের আলোকেই তিনি ওই জমি পাওয়ার সম্পূর্ণ আইনগত অধিকারী ছিলেন বলে পদত্যাগপত্রে সাফ জানিয়ে দেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। তবে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর তাকে বেতনবিহীন প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। এর আগে গত বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করে এবং পরবর্তীতে জুলাই মাসে ডব্লিউএইচও তাকে প্রথম দফায় ছুটিতে পাঠায়।

এদিকে ডব্লিউএইচওকে দেওয়া সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীদের পাঠানো পূর্ববর্তী একটি চিঠির তথ্য অনুযায়ী, চীন সফরকালে আর্থিক জালিয়াতির সঙ্গে জড়ানো এবং নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে অসত্য তথ্য দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছিল সংস্থাটি। যদিও শুরু থেকেই সায়মা ওয়াজেদ তার বিরুদ্ধে আনীত এই সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন। শেষ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, আর্থিক সংকট এবং বিভিন্ন তদন্তের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্বেচ্ছায় আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।