ঢাকা ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

মেঘনার তীরে মোবাইলে গেম খেলছিলেন ৫ যুবক, হঠাৎ বাঁধ ধসে নিখোঁজ ২

ভোলার সদর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় মোবাইল ফোনে গেম খেলার সময় হঠাৎ বাঁধ ধসে পড়ে দুই যুবক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি শিবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলার খাল মৎস্যঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নদীর গতিপ্রকৃতি ও ভাঙনপ্রবণ এলাকায় কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই এমন বিনোদনমূলক কার্যক্রমের কারণে বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে হয় স্থানীয় তরুণদের। ঘটনার পর থেকেই নদী তীরবর্তী ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ৫ জন যুবক একত্রিত হয়ে মেঘনা নদীর তীররক্ষা বাঁধের ওপর রাখা জিওব্যাগের ওপর বসেছিলেন। তারা সেখানে অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে মোবাইল ফোনে গেম খেলছিলেন এবং নিজেদের মধ্যে খোশগল্পে মেতেছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে নদীর পানির তীব্র স্রোতের কারণে বাঁধের ওই অংশটি হঠাৎ করেই আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে। ফলে মুহূর্তের মধ্যেই পাঁচজন যুবকই ভারসাম্য হারিয়ে উত্তাল নদীর পানিতে তলিয়ে যান।

হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই বিপদের মধ্যে সৌভাগ্যবশত তিনজন যুবক সাঁতার কেটে কোনোমতে প্রাণে বেঁচে কূলে ফিরে আসতে সক্ষম হন। তবে বাকি দুই যুবক পানির প্রবল স্রোতের টানে তলিয়ে যান এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়া দুই যুবকের পরিচয় ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন হলেন কালিবাড়ী রোড এলাকার মো. আমজাদ হোসেন এবং অপরজন শিবপুর ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকার মো. রাকিব। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসার চেষ্টা করলেও নদীর তীব্র স্রোতের কারণে ব্যর্থ হন।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ইলিশা নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আশিকুর রহমান এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, নিখোঁজ দুই তরুণকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে বর্তমানে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড এবং নৌ পুলিশের যৌথ দল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। নদী তীরবর্তী অরক্ষিত স্থানগুলোতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কড়া নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

জনপ্রিয়

কিছুই করতে না পেরে কবর খুঁড়ে বাবা-দাদির কঙ্কাল সরিয়ে নিলেন নিজাম

মেঘনার তীরে মোবাইলে গেম খেলছিলেন ৫ যুবক, হঠাৎ বাঁধ ধসে নিখোঁজ ২

প্রকাশিত ০৮:৩১:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভোলার সদর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় মোবাইল ফোনে গেম খেলার সময় হঠাৎ বাঁধ ধসে পড়ে দুই যুবক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি শিবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলার খাল মৎস্যঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নদীর গতিপ্রকৃতি ও ভাঙনপ্রবণ এলাকায় কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই এমন বিনোদনমূলক কার্যক্রমের কারণে বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে হয় স্থানীয় তরুণদের। ঘটনার পর থেকেই নদী তীরবর্তী ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ৫ জন যুবক একত্রিত হয়ে মেঘনা নদীর তীররক্ষা বাঁধের ওপর রাখা জিওব্যাগের ওপর বসেছিলেন। তারা সেখানে অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে মোবাইল ফোনে গেম খেলছিলেন এবং নিজেদের মধ্যে খোশগল্পে মেতেছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে নদীর পানির তীব্র স্রোতের কারণে বাঁধের ওই অংশটি হঠাৎ করেই আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে। ফলে মুহূর্তের মধ্যেই পাঁচজন যুবকই ভারসাম্য হারিয়ে উত্তাল নদীর পানিতে তলিয়ে যান।

হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই বিপদের মধ্যে সৌভাগ্যবশত তিনজন যুবক সাঁতার কেটে কোনোমতে প্রাণে বেঁচে কূলে ফিরে আসতে সক্ষম হন। তবে বাকি দুই যুবক পানির প্রবল স্রোতের টানে তলিয়ে যান এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়া দুই যুবকের পরিচয় ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন হলেন কালিবাড়ী রোড এলাকার মো. আমজাদ হোসেন এবং অপরজন শিবপুর ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকার মো. রাকিব। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসার চেষ্টা করলেও নদীর তীব্র স্রোতের কারণে ব্যর্থ হন।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ইলিশা নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আশিকুর রহমান এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, নিখোঁজ দুই তরুণকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে বর্তমানে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড এবং নৌ পুলিশের যৌথ দল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। নদী তীরবর্তী অরক্ষিত স্থানগুলোতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কড়া নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।