রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ফলে শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই তফসিল ঘোষণা করা হয়। ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই উপনির্বাচনের বিস্তারিত সময়সূচি ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই কমিশন এই দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর। এরপর প্রার্থীরা যে কাগজপত্র জমা দেবেন, তা যাচাই-বাছাই করা হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ হিসেবে ৭ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৮ অক্টোবর। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী ২৯ অক্টোবর নির্ধারিত দিনে এই আসনে ইভিএম বা ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের ভোটে তৎকালীন সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এর ঠিক পরের দিনই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ করায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। সংবিধানের ৫০ (৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রপতিরূপে দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যায়।
সংবিধানের ১২৩ (৪) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, সংসদের কোনো আসন শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো হেভিওয়েট নেতার আসনটিতে কে পরবর্তী প্রতিনিধিত্ব করবেন, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।





































