ঢাকা ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে নিয়োগ কীভাবে হয়? Logo দেশে ১৬ লাখ টন সার উদ্বৃত্ত থাকবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo মেঘমল্লার বসুর শারীরিক অবস্থার উন্নতি, জানালো এনপিএ Logo মাঠপর্যায়ে তীব্র সার সংকটে কৃষকরা হাহাকার করছেন: সংসদে শফিকুল ইসলাম Logo সারের কোনো সংকট নেই, ঘাটতি অভিযোগ সঠিক নয়: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী Logo চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৬ লাখ টন সার উদ্বৃত্ত থাকবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু Logo বিএনপিকে নিয়ে রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে হট্টগোল Logo উনি কি গালি দিলেন না দোয়া, কিছুই বুঝলাম না: রুমিন প্রসঙ্গে শফিকুর Logo বদলি আদেশের পরও থানা ছাড়ছেন না ওসি Logo নবগঙ্গা নদীতে জমজমাট নৌকাবাইচ, উৎসবে মুখরিত পুরো এলাকা

মাঠপর্যায়ে তীব্র সার সংকটে কৃষকরা হাহাকার করছেন: সংসদে শফিকুল ইসলাম

জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম সম্প্রতি দেশের কৃষিপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার করুণ চিত্র তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, সরকারিভাবে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকার দাবি করা হলেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাধারণ কৃষকরা হাহাকার করছেন এবং আসন্ন বোরো মৌসুমকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ আরও বাড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সারের কৃত্রিম সংকট রোধে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য জানান যে, ন্যায্যমূল্যের চেয়েও বেশি অর্থ খরচ করেও কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। অনেক স্থানে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির পাশাপাশি ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার আর্থিক বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের আমলের মতো সারের জন্য কৃষকদের আবারও যেন জীবন দিতে না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাগুলোর একটি বড় অংশ বন্ধ থাকায় এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে পরিস্থিতি দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিজের কৃষক পরিচয়ের অতীত স্মৃতির কথা স্মরণ করে শফিকুল ইসলাম আবেগঘন কণ্ঠে জানান যে, সাধারণ কৃষকদের ঘাম ও রক্তের উপার্জিত অর্থ এভাবে অপচয় হতে দেওয়া যায় না। তিনি বলেন, ডিলারশিপ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে কৃষকদের অধিকার রক্ষা করা সম্ভব হবে না। কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ মজুত ও সীমান্ত দিয়ে সার পাচারের alarming চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান যে, ভর্তুকির এই সার পাচার হয়ে মিয়ানমারে চলে যাচ্ছে এবং তার বদলে দেশে মাদক প্রবেশ করছে।

বক্তব্যের শেষে তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন যে, সার সংকট ও নানা গুজবের কারণে কৃষকদের মধ্যে চরম আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। আসন্ন বোরো মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপির ডিলার পর্যায়ে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি এবং একটি সুষ্ঠু বিতরণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

জনপ্রিয়

সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে নিয়োগ কীভাবে হয়?

মাঠপর্যায়ে তীব্র সার সংকটে কৃষকরা হাহাকার করছেন: সংসদে শফিকুল ইসলাম

প্রকাশিত ০৬:৪৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম সম্প্রতি দেশের কৃষিপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার করুণ চিত্র তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, সরকারিভাবে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকার দাবি করা হলেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাধারণ কৃষকরা হাহাকার করছেন এবং আসন্ন বোরো মৌসুমকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ আরও বাড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সারের কৃত্রিম সংকট রোধে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য জানান যে, ন্যায্যমূল্যের চেয়েও বেশি অর্থ খরচ করেও কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। অনেক স্থানে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির পাশাপাশি ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার আর্থিক বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের আমলের মতো সারের জন্য কৃষকদের আবারও যেন জীবন দিতে না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাগুলোর একটি বড় অংশ বন্ধ থাকায় এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে পরিস্থিতি দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিজের কৃষক পরিচয়ের অতীত স্মৃতির কথা স্মরণ করে শফিকুল ইসলাম আবেগঘন কণ্ঠে জানান যে, সাধারণ কৃষকদের ঘাম ও রক্তের উপার্জিত অর্থ এভাবে অপচয় হতে দেওয়া যায় না। তিনি বলেন, ডিলারশিপ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে কৃষকদের অধিকার রক্ষা করা সম্ভব হবে না। কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ মজুত ও সীমান্ত দিয়ে সার পাচারের alarming চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান যে, ভর্তুকির এই সার পাচার হয়ে মিয়ানমারে চলে যাচ্ছে এবং তার বদলে দেশে মাদক প্রবেশ করছে।

বক্তব্যের শেষে তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন যে, সার সংকট ও নানা গুজবের কারণে কৃষকদের মধ্যে চরম আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। আসন্ন বোরো মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপির ডিলার পর্যায়ে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি এবং একটি সুষ্ঠু বিতরণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।