গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি আধুনিক পানি শোধনাগার দীর্ঘ দুই বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সরকারের এত বড় একটি উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার পরও তা থেকে কোনো ধরনের সুফল পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। ফলে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট কাটেনি, যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি চালুর কোনো উদ্যোগ নেওয়া না হওয়ায় বাধ্য হয়েই পৌরবাসী নানা কর্মসূচি হাতে নিতে শুরু করেছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার প্রধান ফটকের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার সমালোচনা করেন। মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ খরচ করে এই শোধনাগার নির্মাণ করা হলেও সাধারণ মানুষের ঘরে এক ফোঁটাও সুপেয় পানি পৌঁছাচ্ছে না। প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘদিন পরও এটি চালু না হওয়াকে চরম দায়িত্বহীনতা বলে উল্লেখ করেন তারা।
শুধু পানির সংকটই নয়, মানববন্ধনে পৌরসভার চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের মান নিয়েও ক্ষোভ ঝেড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, পৌরসভার রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ নির্মাণের কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের হচ্ছে। এই অনিয়ম ও ধীরগতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তারা দ্রুত এসব কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান। জনস্বার্থে এসব অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ যেন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি কামনা করেন তারা।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুন্নবী প্রামাণিক সাজু এবং স্থানীয় নাগরিক এনামুল হক, সাইফুল ইসলাম, আবু সাঈদ মোহাম্মদ মুজাহিদ ও শাহিন আলম প্রমুখ। বক্তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগামী পনেরো দিনের মধ্যে শোধনাগারটি চালু করে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে তারা আলটিমেটাম দেন।



































