ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ৪৩, ৪৪ ও ৪৮তম বিসিএস: গেজেটবঞ্চিত সুপারিশপ্রাপ্তদের দ্রুত নিয়োগের দাবি Logo পিছিয়ে পড়েও ফ্রান্সের সঙ্গে ড্র ইতালির Logo হোস্টেল মালিকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, ঢাকা কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে মারধর Logo রাকসুর এক বছর: শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যা রয়েই গেছে Logo ২২ বছর পর জিম্বাবুয়ে সফরে যাচ্ছে ইংল্যান্ড Logo ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টি Logo মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার: ছেলে বললেন, ‘ফেসবুক দেখে জাজ করেন’ Logo বাবার মুখে রুটি তুলে দেওয়া সেই শিশুর হাত ধরে স্কুলে নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও Logo সেপ্টেম্বর মাসে হামলা, গ্রেপ্তার, আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার ৭০ সংবাদকর্মী Logo পাকিস্তানে প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের

হাড় ভাঙা ঠেকাতে ক্যালসিয়াম-ভিটামিন ডির সুফল নেই—দাবি নতুন গবেষণায়

বয়স্ক মানুষের শরীরে হাড় ভাঙার আশঙ্কা ও দুর্ঘটনাজনিত পতন রোধে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট সেবনের প্রচলিত ধারণা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। চিকিৎসা সাময়িকী দ্য বিএমজে-তে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, এসব অনুপূরক খাদ্য বড় কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। গবেষকদের মতে, সাধারণ বয়স্ক নাগরিকদের ক্ষেত্রে এককভাবে কিংবা যৌথভাবে এই উপাদানগুলোর কোনো ক্লিনিক্যালি উল্লেখযোগ্য সুফল পাওয়া যায়নি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা এর বেশি বয়সের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রতিবছর অন্তত একবার পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনার শিকার হন। এই ধরনের পতনের ফলে প্রায়শই হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো গুরুতর ঘটনা ঘটে, যা পরবর্তীতে দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক যন্ত্রণা, দৈনন্দিন জীবনের মান অবনতি এবং বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্রের শরণাপন্ন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। তাই বয়স্কদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা জনস্বাস্থ্য খাতের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

এই বিষয়ের সত্যতা যাচাই করতে কানাডার গবেষক দলটি প্রায় ৬৯টি র‍্যান্ডমাইজড নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল গভীরভাবে পর্যালোচনা করেন। উক্ত গবেষণাগুলোতে মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯০২ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অংশ নিয়েছিলেন, যাদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে পর্যবেক্ষণ করা হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশকে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয় এবং অন্য একটি অংশকে প্লাসিবো বা কোনো ধরনের চিকিৎসা ছাড়াই পর্যবেক্ষণ করে তুলনামূলক মূল্যায়ন করা হয়।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যে কোনো ধরনের ফ্র্যাকচার বা হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমাতে ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডির কার্যকারিতা অত্যন্ত নগণ্য অথবা একেবারেই নেই বললেই চলে। এমনকি কোমরের মতো সংবেদনশীল স্থানের হাড় ভাঙা বা পড়ে যাওয়ার সাধারণ ঘটনাগুলো রোধেও এই সাপ্লিমেন্টগুলো কোনো বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন যে, নির্দিষ্ট কিছু জটিল হাড়ের রোগ বা যারা আগে থেকেই অস্টিওপোরোসিসের চিকিৎসাধীন আছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ফলাফল ভিন্ন হতে পারে।

সামগ্রিক এই পর্যালোচনার পর বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি। বয়স্কদের ক্ষেত্রে পেশিশক্তি ও শরীরের ভারসাম্য বাড়ানোর জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং জীবনযাপনের ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর বেশি জোর দেওয়া উচিত। এছাড়া অপ্রয়োজনীয়ভাবে এসব অনুপূরক খাওয়ার প্রচলিত চিকিৎসাগত সুপারিশগুলো এখন নতুন করে পর্যালোচনা করার সময় এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।

জনপ্রিয়

৪৩, ৪৪ ও ৪৮তম বিসিএস: গেজেটবঞ্চিত সুপারিশপ্রাপ্তদের দ্রুত নিয়োগের দাবি

হাড় ভাঙা ঠেকাতে ক্যালসিয়াম-ভিটামিন ডির সুফল নেই—দাবি নতুন গবেষণায়

প্রকাশিত ১২:১৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

বয়স্ক মানুষের শরীরে হাড় ভাঙার আশঙ্কা ও দুর্ঘটনাজনিত পতন রোধে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট সেবনের প্রচলিত ধারণা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। চিকিৎসা সাময়িকী দ্য বিএমজে-তে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, এসব অনুপূরক খাদ্য বড় কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। গবেষকদের মতে, সাধারণ বয়স্ক নাগরিকদের ক্ষেত্রে এককভাবে কিংবা যৌথভাবে এই উপাদানগুলোর কোনো ক্লিনিক্যালি উল্লেখযোগ্য সুফল পাওয়া যায়নি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা এর বেশি বয়সের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রতিবছর অন্তত একবার পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনার শিকার হন। এই ধরনের পতনের ফলে প্রায়শই হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো গুরুতর ঘটনা ঘটে, যা পরবর্তীতে দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক যন্ত্রণা, দৈনন্দিন জীবনের মান অবনতি এবং বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্রের শরণাপন্ন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। তাই বয়স্কদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা জনস্বাস্থ্য খাতের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

এই বিষয়ের সত্যতা যাচাই করতে কানাডার গবেষক দলটি প্রায় ৬৯টি র‍্যান্ডমাইজড নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল গভীরভাবে পর্যালোচনা করেন। উক্ত গবেষণাগুলোতে মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯০২ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অংশ নিয়েছিলেন, যাদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে পর্যবেক্ষণ করা হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশকে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয় এবং অন্য একটি অংশকে প্লাসিবো বা কোনো ধরনের চিকিৎসা ছাড়াই পর্যবেক্ষণ করে তুলনামূলক মূল্যায়ন করা হয়।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যে কোনো ধরনের ফ্র্যাকচার বা হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমাতে ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডির কার্যকারিতা অত্যন্ত নগণ্য অথবা একেবারেই নেই বললেই চলে। এমনকি কোমরের মতো সংবেদনশীল স্থানের হাড় ভাঙা বা পড়ে যাওয়ার সাধারণ ঘটনাগুলো রোধেও এই সাপ্লিমেন্টগুলো কোনো বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন যে, নির্দিষ্ট কিছু জটিল হাড়ের রোগ বা যারা আগে থেকেই অস্টিওপোরোসিসের চিকিৎসাধীন আছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ফলাফল ভিন্ন হতে পারে।

সামগ্রিক এই পর্যালোচনার পর বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি। বয়স্কদের ক্ষেত্রে পেশিশক্তি ও শরীরের ভারসাম্য বাড়ানোর জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং জীবনযাপনের ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর বেশি জোর দেওয়া উচিত। এছাড়া অপ্রয়োজনীয়ভাবে এসব অনুপূরক খাওয়ার প্রচলিত চিকিৎসাগত সুপারিশগুলো এখন নতুন করে পর্যালোচনা করার সময় এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।