ঢাকা ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo হোস্টেল মালিকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, ঢাকা কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে মারধর Logo রাকসুর এক বছর: শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যা রয়েই গেছে Logo ২২ বছর পর জিম্বাবুয়ে সফরে যাচ্ছে ইংল্যান্ড Logo ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টি Logo মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার: ছেলে বললেন, ‘ফেসবুক দেখে জাজ করেন’ Logo বাবার মুখে রুটি তুলে দেওয়া সেই শিশুর হাত ধরে স্কুলে নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও Logo সেপ্টেম্বর মাসে হামলা, গ্রেপ্তার, আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার ৭০ সংবাদকর্মী Logo পাকিস্তানে প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের Logo খুবি শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, স্থানীয়দের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া Logo গাজা-ইয়েমেনসহ ১২ সংকটে জাতিসংঘের ১৬ কোটি ডলার সহায়তা

বাবার মুখে রুটি তুলে দেওয়া সেই শিশুর হাত ধরে স্কুলে নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও

সম্প্রতি চুরির অপবাদে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা বাবার মুখে পাউরুটি তুলে দিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা ৯ বছরের শিশু তুবা অবশেষে তার চিরচেনা প্রাঙ্গণে ফিরে গেছে। উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সুজা নিজ উদ্যোগে শিশুটির হাত ধরে তাকে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেন। দীর্ঘদিন পর ক্লাসে ফিরে তুবা তার সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পায় এবং এই উপস্থিতিতে বিদ্যালয় জুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভোরে বামরাইল বাজারে চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনাটি ঘটেছিল, যেখানে চুরির অভিযোগে তুবার বাবা অনিক হাওলাদারকে আটক করে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল। বাবার ওপর এমন নির্মমতার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে অবুঝ শিশুটি কান্নাকাটি করে আকুতি জানায় এবং নিজের হাতে চা-রুটি খাইয়ে বাবাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করে। এই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা দেশবাসীর বিবেককে নাড়া দেয় এবং সাধারণ মানুষের মনে গভীর রেখাপাত করে।

ঘটনার পরপরই উপজেলা প্রশাসন অত্যন্ত সংবেদনশীলতার পরিচয় দিয়ে শিশুটির পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ায় এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেয়। এর অংশ হিসেবে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ইউএনও মোহাম্মদ আলী সুজা সরাসরি শিশুটির বাড়ি গিয়ে তাদের মানবিক সহায়তা প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২৮ সেপ্টেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহায়তায় অনিক হাওলাদারকে একটি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয় এবং তুবার পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে প্রশাসন।

প্রশাসন ও স্থানীয়দের সম্মিলিত এই মানবিক পদক্ষেপে তুবার শিক্ষা জীবন পুনরায় শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তুবার অনেক বড় স্বপ্ন রয়েছে এবং তার সেই স্বপ্ন পূরণে উপজেলা প্রশাসন সবসময় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। কঠিন এই বাস্তবতার মধ্য দিয়েও শিশুটির ক্লাসে ফিরে যাওয়া তার স্বাভাবিক জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয়

হোস্টেল মালিকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, ঢাকা কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে মারধর

বাবার মুখে রুটি তুলে দেওয়া সেই শিশুর হাত ধরে স্কুলে নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও

প্রকাশিত ০১:৩০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

সম্প্রতি চুরির অপবাদে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা বাবার মুখে পাউরুটি তুলে দিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা ৯ বছরের শিশু তুবা অবশেষে তার চিরচেনা প্রাঙ্গণে ফিরে গেছে। উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সুজা নিজ উদ্যোগে শিশুটির হাত ধরে তাকে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেন। দীর্ঘদিন পর ক্লাসে ফিরে তুবা তার সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পায় এবং এই উপস্থিতিতে বিদ্যালয় জুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভোরে বামরাইল বাজারে চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনাটি ঘটেছিল, যেখানে চুরির অভিযোগে তুবার বাবা অনিক হাওলাদারকে আটক করে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল। বাবার ওপর এমন নির্মমতার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে অবুঝ শিশুটি কান্নাকাটি করে আকুতি জানায় এবং নিজের হাতে চা-রুটি খাইয়ে বাবাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করে। এই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা দেশবাসীর বিবেককে নাড়া দেয় এবং সাধারণ মানুষের মনে গভীর রেখাপাত করে।

ঘটনার পরপরই উপজেলা প্রশাসন অত্যন্ত সংবেদনশীলতার পরিচয় দিয়ে শিশুটির পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ায় এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেয়। এর অংশ হিসেবে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ইউএনও মোহাম্মদ আলী সুজা সরাসরি শিশুটির বাড়ি গিয়ে তাদের মানবিক সহায়তা প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২৮ সেপ্টেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহায়তায় অনিক হাওলাদারকে একটি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয় এবং তুবার পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে প্রশাসন।

প্রশাসন ও স্থানীয়দের সম্মিলিত এই মানবিক পদক্ষেপে তুবার শিক্ষা জীবন পুনরায় শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তুবার অনেক বড় স্বপ্ন রয়েছে এবং তার সেই স্বপ্ন পূরণে উপজেলা প্রশাসন সবসময় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। কঠিন এই বাস্তবতার মধ্য দিয়েও শিশুটির ক্লাসে ফিরে যাওয়া তার স্বাভাবিক জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।