ঢাকা ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ফুলপুরে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর সন্তান প্রসব, পিতৃত্বের স্বীকৃতি দাবি Logo সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান গ্রেপ্তার Logo নাইজেরিয়ায় সামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, ৩২ যাত্রীর মৃত্যু Logo ভেঙে পড়তে পারে ইসরায়েল রাষ্ট্র, গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা: সিআইএ–এর প্রতিবেদন Logo ৭০ বছর পর আসাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হলো প্রথম নৌযান Logo জন্মসনদে কারও নাম ‘লক্জ্ক্’, কারও ‘ক্‌জ্‌ক্‌ল্‌জ্‌’, কারও ‘দতককা’, ভোগান্তি নাগরিকের Logo সৌদিতে সেনা পাঠাবে তুরস্ক-পাকিস্তান Logo এআই–নির্ভর প্রেম–ভালোবাসার সম্পর্কের ওপর চীনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা Logo ইতালির চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা বাংলাদেশের ‘মাস্টার’ Logo ইরান কি হরমুজ প্রণালিতে গোপনে টোল আদায় করছে

চিরকুটে বিকাশ নম্বর দিয়ে বৈদ্যুতিক মিটার চুরি, দুজন গ্রেপ্তার

রাজধানীর আশুলিয়া, সাভার ও ধামরাই শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র। বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও কারখানার বিদ্যুৎ মিটার সরিয়ে ফেলে তারা ঘটনাস্থলেই একটি পলিথিনে মোড়ানো চিরকুট ফেলে যেত। ওই চিরকুটে একটি নির্দিষ্ট বিকাশ নম্বর উল্লেখ করা থাকত, যা ব্যবহার করে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত অপরাধীরা। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে সেই চুরি যাওয়া মিটারগুলো সংশ্লিষ্টদের কাছে ফিরিয়ে দিত তারা।

এমনই একটি চক্রের মূল দুই সদস্যকে আশুলিয়ার ঘোড়াপীর মাজার এলাকা থেকে আটক করেছে শিল্প পুলিশ-১। গ্রেপ্তারকৃতদের নাম সবুজ মিয়া ওরফে মিটার সবুজ এবং মারুফ মোল্লা। পুলিশ জানিয়েছে, আটকের সময় তাদের কাছ থেকে একটি চোরাই বৈদ্যুতিক মিটার, দুটি মোবাইল ফোন এবং অপরাধে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট মাসের শুরুতে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকার একটি ওষুধ কারখানার বিদ্যুৎ মিটার চুরির ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার পর শিল্প পুলিশের একটি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূল হোতাদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ চেকপোস্টে সন্দেহভাজন ওই দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সবুজ মিয়ার বিরুদ্ধে চুরি, চাঁদাবাজি ও মাদকের অভিযোগে প্রায় ছয়টি এবং মারুফ মোল্লার বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা ও চাঁদাবাজিসহ প্রায় দশটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ ও মারুফ জানিয়েছে, তারা বিগত সময়ে এই শিল্পাঞ্চল থেকে শতাধিক বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করেছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয়

ফুলপুরে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর সন্তান প্রসব, পিতৃত্বের স্বীকৃতি দাবি

চিরকুটে বিকাশ নম্বর দিয়ে বৈদ্যুতিক মিটার চুরি, দুজন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত ০৬:৩০:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর আশুলিয়া, সাভার ও ধামরাই শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র। বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও কারখানার বিদ্যুৎ মিটার সরিয়ে ফেলে তারা ঘটনাস্থলেই একটি পলিথিনে মোড়ানো চিরকুট ফেলে যেত। ওই চিরকুটে একটি নির্দিষ্ট বিকাশ নম্বর উল্লেখ করা থাকত, যা ব্যবহার করে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত অপরাধীরা। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে সেই চুরি যাওয়া মিটারগুলো সংশ্লিষ্টদের কাছে ফিরিয়ে দিত তারা।

এমনই একটি চক্রের মূল দুই সদস্যকে আশুলিয়ার ঘোড়াপীর মাজার এলাকা থেকে আটক করেছে শিল্প পুলিশ-১। গ্রেপ্তারকৃতদের নাম সবুজ মিয়া ওরফে মিটার সবুজ এবং মারুফ মোল্লা। পুলিশ জানিয়েছে, আটকের সময় তাদের কাছ থেকে একটি চোরাই বৈদ্যুতিক মিটার, দুটি মোবাইল ফোন এবং অপরাধে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট মাসের শুরুতে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকার একটি ওষুধ কারখানার বিদ্যুৎ মিটার চুরির ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার পর শিল্প পুলিশের একটি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূল হোতাদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ চেকপোস্টে সন্দেহভাজন ওই দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সবুজ মিয়ার বিরুদ্ধে চুরি, চাঁদাবাজি ও মাদকের অভিযোগে প্রায় ছয়টি এবং মারুফ মোল্লার বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা ও চাঁদাবাজিসহ প্রায় দশটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ ও মারুফ জানিয়েছে, তারা বিগত সময়ে এই শিল্পাঞ্চল থেকে শতাধিক বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করেছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।