ঢাকা ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সরাসরি তালিকাভুক্তিতে ফিরল বেসরকারি কোম্পানি Logo নির্বাচন কমিশন: রমজানের আগেই তিন ধাপের ইউপি নির্বাচন Logo নাটোর, পিরোজপুর, বাগেরহাট জেলায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা Logo পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ খেয়ে অসুস্থ ৩৬ শিক্ষার্থী Logo আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষ খাওয়ার জন্যই: এএসআই ইলিয়াস Logo আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ Logo সাংবাদিকদের দাবির মুখে রাবির জিয়া হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি Logo প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের পরিকল্পনায় প্রধান চ্যালেঞ্জ ভারতে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড Logo গ্রাম সরকার পুনর্বহালের আলোচনা, ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটির সিদ্ধান্ত Logo বিয়ের ১৪ দিন আগে ডেঙ্গুতে মৃত্যু, নিথর কপালে সিঁদুর পরালেন হবু বর

আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষ খাওয়ার জন্যই: এএসআই ইলিয়াস

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক বা এএসআই ইলিয়াসের একটি বিতর্কিত বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি একটি মামলার তদন্তের কাজে গিয়ে তিনি প্রকাশ্যেই ঘুষ নেওয়ার পক্ষে সাফাই গান এবং এর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। পুলিশের মতো একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

ঘটনাটি ঘটে উপজেলার রানীগাঁও ইউনিয়নের রানীগাঁও বাজারে, যেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার দায়ের করা একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়েছিলেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তদন্তের একপর্যায়ে উপস্থিত লোকজনের সামনে পুলিশের ঘুষ গ্রহণ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি তার পুরো বক্তব্যটি নিজের মুঠোফোনে গোপনে ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে এই ভিডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার ঝড় তোলে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে এএসআই ইলিয়াসকে অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে বলতে শোনা যায় যে, তিনি পুলিশে চাকরি করলেও ঘুষ ছাড়া চলেন না এবং নিজেকে বায়তুল মোকাররমের ইমামের সঙ্গে তুলনা করার প্রশ্নই আসে না। এমনকি তিনি আরও দাবি করেন যে, গায়ে পুলিশের এই পোশাকটি তিনি ঘুষ খাওয়ার উদ্দেশ্যেই চড়িয়েছেন। একজন পুলিশ সদস্যের মুখ থেকে এমন আপত্তিকর ও দুর্নীতিকে উসকে দেওয়ার মতো বক্তব্য শোনার পর সাধারণ মানুষ হতবাক হয়ে যান। এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ীরা ছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় লোকজনের সূত্রে জানা গেছে, এটিই প্রথম নয়, এর আগেও বিভিন্ন মামলার তদন্তের নামে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো এবং নানা উপায়ে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবে এর আগে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানা যায়নি। এদিকে, প্রকাশ্যে ঘুষের পক্ষে সাফাই গাওয়ার এই ঘটনার পর অভিযুক্ত এএসআই ইলিয়াসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং দ্রুত খোঁজ নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে পুরো বিষয়টি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি। তবে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, পুলিশ বাহিনীতে ঘাপটি মেরে থাকা এ ধরনের দুর্নীতিবাজ সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা চিরতরে হারিয়ে যাবে।

জনপ্রিয়

সরাসরি তালিকাভুক্তিতে ফিরল বেসরকারি কোম্পানি

আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষ খাওয়ার জন্যই: এএসআই ইলিয়াস

প্রকাশিত ০৪:৪৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক বা এএসআই ইলিয়াসের একটি বিতর্কিত বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি একটি মামলার তদন্তের কাজে গিয়ে তিনি প্রকাশ্যেই ঘুষ নেওয়ার পক্ষে সাফাই গান এবং এর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। পুলিশের মতো একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

ঘটনাটি ঘটে উপজেলার রানীগাঁও ইউনিয়নের রানীগাঁও বাজারে, যেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার দায়ের করা একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়েছিলেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তদন্তের একপর্যায়ে উপস্থিত লোকজনের সামনে পুলিশের ঘুষ গ্রহণ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি তার পুরো বক্তব্যটি নিজের মুঠোফোনে গোপনে ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে এই ভিডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার ঝড় তোলে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে এএসআই ইলিয়াসকে অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে বলতে শোনা যায় যে, তিনি পুলিশে চাকরি করলেও ঘুষ ছাড়া চলেন না এবং নিজেকে বায়তুল মোকাররমের ইমামের সঙ্গে তুলনা করার প্রশ্নই আসে না। এমনকি তিনি আরও দাবি করেন যে, গায়ে পুলিশের এই পোশাকটি তিনি ঘুষ খাওয়ার উদ্দেশ্যেই চড়িয়েছেন। একজন পুলিশ সদস্যের মুখ থেকে এমন আপত্তিকর ও দুর্নীতিকে উসকে দেওয়ার মতো বক্তব্য শোনার পর সাধারণ মানুষ হতবাক হয়ে যান। এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ীরা ছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় লোকজনের সূত্রে জানা গেছে, এটিই প্রথম নয়, এর আগেও বিভিন্ন মামলার তদন্তের নামে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো এবং নানা উপায়ে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবে এর আগে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানা যায়নি। এদিকে, প্রকাশ্যে ঘুষের পক্ষে সাফাই গাওয়ার এই ঘটনার পর অভিযুক্ত এএসআই ইলিয়াসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং দ্রুত খোঁজ নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে পুরো বিষয়টি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি। তবে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, পুলিশ বাহিনীতে ঘাপটি মেরে থাকা এ ধরনের দুর্নীতিবাজ সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা চিরতরে হারিয়ে যাবে।