ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সাড়ে ১৩ হাজার শিক্ষকের নিয়োগের পথ খুললো Logo ইএসডিওতে চাকরির সুযোগ, শুরুতেই ৪৬ হাজার টাকা বেতন Logo ধানমন্ডি লেক আধুনিকায়নে ৭৫ কোটি টাকার পরিকল্পনা, হবে ‘নজরুল সরোবর’ Logo অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো পাওয়া যাচ্ছে ডেঙ্গুর টিকা, স্বস্তিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা Logo সঙ্গীর খোঁজে তিন বুনো কুকুরের ২,৫০০ মাইল যাত্রা যেন এক করুণ সিনেমা Logo মেসির বিদায়ের অনুষ্ঠানসূচি, শেষ লাইনে লেখা ‘চমক’ Logo অ্যাসোসিওর ডিজিটাল ও এআই পুরস্কার পেল বাংলাদেশের ৩ প্রতিষ্ঠান Logo পদ্মায় ধরা পড়ল ১৭ কেজির পাঙাশ, দাম উঠেছে ৩৯ হাজার টাকা Logo বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট নিয়ে হুড়োহুড়ি, দাম বেড়েছে সাত গুণ

বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। সম্প্রতি বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এই আহ্বান জানানো হয়। এই বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রসারের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকালে কানাডার পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে একটি বিশেষ অভিনন্দনবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়, যার জন্য রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকের একপর্যায়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রসঙ্গটি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। রাষ্ট্রপতি গণতন্ত্রের চর্চায় কানাডার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দীর্ঘ সময় ধরে সংসদীয় রীতিনীতি ও গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির ফলে বর্তমান প্রশাসনকে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে সরকার বর্তমানে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করছে বলে তিনি জানান।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে কানাডার হাইকমিশনার জানান যে দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ইতোমধ্যে চার বিলিয়ন কানাডীয় ডলার ছাড়িয়েছে। এই বাণিজ্যের পরিধি আরও বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, তিনি কানাডার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এই সফর দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে রাষ্ট্রপতি কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, সার উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আউটসোর্সিং খাতে কানাডার আরও অধিকতর বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, নার্সিং এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতেও কানাডার সহায়তা বাড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি। অন্যদিকে, রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে কানাডার হাইকমিশনার জানান যে তাদের সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে। রাষ্ট্রপতি এই ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কানাডা সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে কানাডাকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

জনপ্রিয়

সাড়ে ১৩ হাজার শিক্ষকের নিয়োগের পথ খুললো

বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রকাশিত ০৬:৩০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। সম্প্রতি বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এই আহ্বান জানানো হয়। এই বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রসারের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকালে কানাডার পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে একটি বিশেষ অভিনন্দনবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়, যার জন্য রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকের একপর্যায়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রসঙ্গটি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। রাষ্ট্রপতি গণতন্ত্রের চর্চায় কানাডার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দীর্ঘ সময় ধরে সংসদীয় রীতিনীতি ও গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির ফলে বর্তমান প্রশাসনকে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে সরকার বর্তমানে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করছে বলে তিনি জানান।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে কানাডার হাইকমিশনার জানান যে দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ইতোমধ্যে চার বিলিয়ন কানাডীয় ডলার ছাড়িয়েছে। এই বাণিজ্যের পরিধি আরও বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, তিনি কানাডার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এই সফর দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে রাষ্ট্রপতি কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, সার উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আউটসোর্সিং খাতে কানাডার আরও অধিকতর বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, নার্সিং এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতেও কানাডার সহায়তা বাড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি। অন্যদিকে, রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে কানাডার হাইকমিশনার জানান যে তাদের সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে। রাষ্ট্রপতি এই ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কানাডা সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে কানাডাকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।