ঢাকা ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ‘সমকামী সাজিয়ে’ বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন, যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার ৩ Logo ফ্রান্সের পর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল বেলজিয়াম, আটক ১০৭ Logo লন্ডনের হিথ্রোকে পেছনে ফেলে তুরস্কের ইস্তাম্বুল এখন বিশ্বের সেরা বিমানবন্দর Logo প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন ঢাকা-৫ আসনের জামায়াত এমপি কামাল হোসেন Logo সিএসআর ব্যয়: সব প্রধান খাতেই বড় পতন Logo গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার: যানজট সমাধানে টোলমুক্ত করাসহ একগুচ্ছ সুপারিশ Logo আত্মসাৎ করা অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগ, সম্পদ বাজেয়াপ্ত নিয়ে আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি চায় ইউএই Logo আবরার ফাহাদ স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা Logo রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের অবস্থা: বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে বড় লোকসান, লাভে বিএসইসি Logo সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে ৫৭%

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের অবস্থা: বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে বড় লোকসান, লাভে বিএসইসি

অর্থনীতি ডেস্ক: শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব প্রতিষ্ঠানের আয় ও ব্যয়ের হিসাব পেশ করা হয়। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, দেশের সিংহভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশন তাদের উৎপাদনের তুলনায় ব্যয় সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে লোকসানের বৃত্তে আটকে আছে। স্বাধীনতার পর থেকেই মূলত অধিকাংশ সরকারি কলকারখানা এই ধরনের লোকসানের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। তবে সার্বিক এই হতাশাজনক চিত্রের মাঝেও কিছু প্রতিষ্ঠান লাভের ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন বা বিএসএফআইসি সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এই সংস্থার অধীন পরিচালিত বিভিন্ন চিনিকল এবং অন্যান্য ইউনিট মিলিয়ে করোত্তর বা কর পরিশোধের পরের মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৭৭ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে সংস্থাটির মোট আয়ের তুলনায় ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল, যা তাদের আর্থিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চলমান অডিট হিসাব অনুযায়ী, শুধু চিনিকলগুলোর পক্ষ থেকেই বিশাল অংকের এই লোকসান বহন করতে হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের আরেকটি বড় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন বা বিসিআইসিও একই ধরনের আর্থিক দুরবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক হিসাব বছরগুলোতে এই সংস্থার নিট লোকসানের পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। পূর্ববর্তী অর্থবছরগুলোর তুলনায় তাদের লোকসানের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সার্বিকভাবে সরকারি শিল্প খাতের ব্যবস্থাপনার ওপর প্রশ্ন তুলছে। লাগাতার এই লোকসান এবং ক্রমবর্ধমান ব্যাংকঋণের চাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।

তবে এসব নেতিবাচক খবরের মধ্যেও কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন বা বিএসইসি। আলোচ্য অর্থবছরে এই সংস্থাটি লোকসানের ধারা ভেঙে মুনাফা অর্জন করতে পেরেছে। তাদের মোট আয় ব্যয়ের ব্যবধানে ইতিবাচক মুনাফা অর্জিত হওয়ায় সংসদীয় বৈঠকে এটিকে একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়েছে। এদিকে, সরকারি এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে এই শোচনীয় অবস্থা থেকে উদ্ধার করা যায় কিংবা কোনো বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে লাভজনক করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে নীতিনির্ধারক ও সংসদ সদস্যরা গভীরভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জনপ্রিয়

‘সমকামী সাজিয়ে’ বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন, যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার ৩

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের অবস্থা: বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে বড় লোকসান, লাভে বিএসইসি

প্রকাশিত ০২:১৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব প্রতিষ্ঠানের আয় ও ব্যয়ের হিসাব পেশ করা হয়। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, দেশের সিংহভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশন তাদের উৎপাদনের তুলনায় ব্যয় সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে লোকসানের বৃত্তে আটকে আছে। স্বাধীনতার পর থেকেই মূলত অধিকাংশ সরকারি কলকারখানা এই ধরনের লোকসানের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। তবে সার্বিক এই হতাশাজনক চিত্রের মাঝেও কিছু প্রতিষ্ঠান লাভের ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন বা বিএসএফআইসি সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এই সংস্থার অধীন পরিচালিত বিভিন্ন চিনিকল এবং অন্যান্য ইউনিট মিলিয়ে করোত্তর বা কর পরিশোধের পরের মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৭৭ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে সংস্থাটির মোট আয়ের তুলনায় ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল, যা তাদের আর্থিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চলমান অডিট হিসাব অনুযায়ী, শুধু চিনিকলগুলোর পক্ষ থেকেই বিশাল অংকের এই লোকসান বহন করতে হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের আরেকটি বড় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন বা বিসিআইসিও একই ধরনের আর্থিক দুরবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক হিসাব বছরগুলোতে এই সংস্থার নিট লোকসানের পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। পূর্ববর্তী অর্থবছরগুলোর তুলনায় তাদের লোকসানের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সার্বিকভাবে সরকারি শিল্প খাতের ব্যবস্থাপনার ওপর প্রশ্ন তুলছে। লাগাতার এই লোকসান এবং ক্রমবর্ধমান ব্যাংকঋণের চাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।

তবে এসব নেতিবাচক খবরের মধ্যেও কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন বা বিএসইসি। আলোচ্য অর্থবছরে এই সংস্থাটি লোকসানের ধারা ভেঙে মুনাফা অর্জন করতে পেরেছে। তাদের মোট আয় ব্যয়ের ব্যবধানে ইতিবাচক মুনাফা অর্জিত হওয়ায় সংসদীয় বৈঠকে এটিকে একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়েছে। এদিকে, সরকারি এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে এই শোচনীয় অবস্থা থেকে উদ্ধার করা যায় কিংবা কোনো বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে লাভজনক করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে নীতিনির্ধারক ও সংসদ সদস্যরা গভীরভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।