ঢাকা ১০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ভারতের সঙ্গে শত্রুতা আমাদের প্রত্যাশা নয়, প্রশ্ন হচ্ছে ‘স্বার্থ সুরক্ষা’: নাহিদ ইসলাম Logo নিত্যপণ্যের যোগসাজশমূলক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ সংসদীয় কমিটির Logo অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে মানিকগঞ্জ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অপসারণ দাবি Logo কুমিল্লা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের নেতৃত্ব দখলের চেষ্টা করছেন বিএনপি নেতা, অভিযোগ বর্তমান সভাপতির Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo যোগসাজশে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের সুপারিশ Logo ইউনেসকো প্রধানের জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন Logo শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে, নিশ্চিত করতে হবে অর্থের সঠিক ব্যয়: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা Logo ঢাকার ডিসিকে জামায়াতের চিঠি, লংমার্চে সহযোগিতা কামনা Logo শেয়ারবাজারে ‘অবাঞ্ছিত’ সালমান বেক্সিমকোর পর্ষদ থেকেও বাদ

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

অর্থনীতি ডেস্ক: তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পোশাকশিল্পের দুই প্রধান সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর নেতাদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

এই বিষয়ে শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার জানিয়েছেন, পোশাকশিল্পে মজুরি পুনর্নির্ধারণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। খুব শীঘ্রই মালিক ও শ্রমিকপক্ষের কাছে তাদের নির্দিষ্ট প্রতিনিধিদের নাম প্রস্তাব করার আহ্বান জানানো হবে এবং তা পাওয়ার পরপরই মজুরি বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা অনুযায়ী, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চলতি মাসের মধ্যেই এই বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

আইন অনুযায়ী শ্রম আইনে সংশোধনী এনে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের নভেম্বরে পোশাকশ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল এবং তা কার্যকর হয়েছিল ওই বছরের ডিসেম্বরে। সেই হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরের নভেম্বরে বর্তমান মজুরিকাঠামোর তিন বছর পূর্ণ হতে চলেছে, যা নিয়ে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে সময় গণনা নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে।

শ্রমিকদের একটি পক্ষের দাবি অনুযায়ী চলতি বছরেই নতুন মজুরিকাঠামো বাস্তবায়ন করতে হবে, তবে মালিকপক্ষ আইন সংশোধনের পরের সময় থেকে তা গণনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। শ্রমসচিব জানান, এই জটিলতা নিরসনে কারিগরি কমিটি ও জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের সভায় আলোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। ২০২৩ সালে সর্বশেষ মজুরিতে ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছিল, যা বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন শ্রমিকরা।

অন্যদিকে, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাজারে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিকে যৌক্তিক বলে মনে করলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অতিরিক্ত মজুরি দেওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা অনেক কারখানার নেই এবং বর্তমান কাঠামো টিকিয়ে রাখতে না পেরে এরই মধ্যে বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নতুন করে মজুরি বাড়লে সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পমালিকরা।

জনপ্রিয়

ভারতের সঙ্গে শত্রুতা আমাদের প্রত্যাশা নয়, প্রশ্ন হচ্ছে ‘স্বার্থ সুরক্ষা’: নাহিদ ইসলাম

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

প্রকাশিত ০৯:৪৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পোশাকশিল্পের দুই প্রধান সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর নেতাদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

এই বিষয়ে শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার জানিয়েছেন, পোশাকশিল্পে মজুরি পুনর্নির্ধারণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। খুব শীঘ্রই মালিক ও শ্রমিকপক্ষের কাছে তাদের নির্দিষ্ট প্রতিনিধিদের নাম প্রস্তাব করার আহ্বান জানানো হবে এবং তা পাওয়ার পরপরই মজুরি বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা অনুযায়ী, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চলতি মাসের মধ্যেই এই বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

আইন অনুযায়ী শ্রম আইনে সংশোধনী এনে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের নভেম্বরে পোশাকশ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল এবং তা কার্যকর হয়েছিল ওই বছরের ডিসেম্বরে। সেই হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরের নভেম্বরে বর্তমান মজুরিকাঠামোর তিন বছর পূর্ণ হতে চলেছে, যা নিয়ে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে সময় গণনা নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে।

শ্রমিকদের একটি পক্ষের দাবি অনুযায়ী চলতি বছরেই নতুন মজুরিকাঠামো বাস্তবায়ন করতে হবে, তবে মালিকপক্ষ আইন সংশোধনের পরের সময় থেকে তা গণনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। শ্রমসচিব জানান, এই জটিলতা নিরসনে কারিগরি কমিটি ও জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের সভায় আলোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। ২০২৩ সালে সর্বশেষ মজুরিতে ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছিল, যা বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন শ্রমিকরা।

অন্যদিকে, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাজারে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিকে যৌক্তিক বলে মনে করলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অতিরিক্ত মজুরি দেওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা অনেক কারখানার নেই এবং বর্তমান কাঠামো টিকিয়ে রাখতে না পেরে এরই মধ্যে বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নতুন করে মজুরি বাড়লে সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পমালিকরা।