ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

ঢাবিতে শিবিরের দেওয়া এসি বন্ধ করল প্রশাসন

ক্যাম্পাস ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের রিডিং রুমে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সৌজন্যে বসানো একটি এয়ার কন্ডিশনার বা এসি বন্ধ করে দিয়েছে হল প্রশাসন। কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই ওই সংগঠনের ব্যানারে এই শীতাতপ যন্ত্রটি স্থাপন করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের পাশাপাশি অতিরিক্ত এই বৈদ্যুতিক যন্ত্রের কারণে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে কারিগরি মূল্যায়নের জন্য ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত ২৭ অক্টোবর হলের পক্ষ থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই অননুমোদিত কাজের তীব্র সমালোচনা করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, হলের বর্তমান বৈদ্যুতিক সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় এভাবে এসি লাগানো সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা জানান, বিষয়টি জানার পরপরই সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিম পাঠানো হয়েছিল। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, হলগুলোতে কোনো ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অনুদান বা সামগ্রী নেওয়ার কোনো প্রচলিত নিয়ম বা নীতিমালা নেই।

তবে প্রশাসনের এমন অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন বিজয় একাত্তর হল সংসদের নেতারা। হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আশিক বিল্লাহ দাবি করেন, এসি লাগানোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল। গত ৫ অক্টোবর চিঠি দিয়ে ১১ অক্টোবরের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর আলটিমেটাম দেওয়া হলেও প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো জবাব মেলেনি। এরপর ১২ অক্টোবর প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি পুনরায় আলোচনা করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

হল সংসদের সহসভাপতি হাসানুল হক বান্না এই সিদ্ধান্তকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সহযোগিতার বদলে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছে এবং রাজনৈতিক কারণেই এসি চালুর বিষয়টি আটকে রাখা হয়েছে। অন্যান্য হলে বিভিন্ন সংগঠনের সৌজন্যে নানা সামগ্রী গ্রহণ করা হলেও এই হলে কেন এমন বাধা দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে প্রশাসনের সঙ্গে ছাত্রসংগঠনগুলোর এমন মতবিরোধ হলের স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয়

সিডনিতে বাংলাদেশ উইমেন্স ফোরামের বসন্ত উৎসব

ঢাবিতে শিবিরের দেওয়া এসি বন্ধ করল প্রশাসন

প্রকাশিত ১১:২২:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ক্যাম্পাস ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের রিডিং রুমে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সৌজন্যে বসানো একটি এয়ার কন্ডিশনার বা এসি বন্ধ করে দিয়েছে হল প্রশাসন। কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই ওই সংগঠনের ব্যানারে এই শীতাতপ যন্ত্রটি স্থাপন করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের পাশাপাশি অতিরিক্ত এই বৈদ্যুতিক যন্ত্রের কারণে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে কারিগরি মূল্যায়নের জন্য ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত ২৭ অক্টোবর হলের পক্ষ থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই অননুমোদিত কাজের তীব্র সমালোচনা করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, হলের বর্তমান বৈদ্যুতিক সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় এভাবে এসি লাগানো সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা জানান, বিষয়টি জানার পরপরই সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিম পাঠানো হয়েছিল। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, হলগুলোতে কোনো ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অনুদান বা সামগ্রী নেওয়ার কোনো প্রচলিত নিয়ম বা নীতিমালা নেই।

তবে প্রশাসনের এমন অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন বিজয় একাত্তর হল সংসদের নেতারা। হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আশিক বিল্লাহ দাবি করেন, এসি লাগানোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল। গত ৫ অক্টোবর চিঠি দিয়ে ১১ অক্টোবরের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর আলটিমেটাম দেওয়া হলেও প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো জবাব মেলেনি। এরপর ১২ অক্টোবর প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি পুনরায় আলোচনা করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

হল সংসদের সহসভাপতি হাসানুল হক বান্না এই সিদ্ধান্তকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সহযোগিতার বদলে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছে এবং রাজনৈতিক কারণেই এসি চালুর বিষয়টি আটকে রাখা হয়েছে। অন্যান্য হলে বিভিন্ন সংগঠনের সৌজন্যে নানা সামগ্রী গ্রহণ করা হলেও এই হলে কেন এমন বাধা দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে প্রশাসনের সঙ্গে ছাত্রসংগঠনগুলোর এমন মতবিরোধ হলের স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।