পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ডিবেটিং সোসাইটির নতুন কমিটি গঠনে বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি হৃদয় আলম উল্লাসের হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। নিজের পছন্দের প্রার্থীদের দিয়ে ডিবেটিং সোসাইটির কমিটি দিতে না পারায় সংগঠনটির এলামনাই এ্যাসোসিয়েশনের উপর দায় চাপিয়ে সেখান থেকে বের যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক সংগঠন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির (পাস্টডিএস) ৮ম কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর সংগঠনটির নতুন কমিটি দেওয়ার জন্য ভাইবা নেওয়া শুরু করেন সংগঠনের এলামনাইয়ের সদস্যরা। একই সাথে এলামনাই এ্যাসোসিয়েশন কয়েক দফায় নিজেদের মধ্যে এবং সদ্য বিদায়ী কমিটির সাথে মিটিং করেন।
কিন্তু নতুন কমিটি নিয়ে বিদায়ী কমিটি দুটি ভাগে ভাগ হয়ে গেলে চূড়ান্ত কমিটি গঠনে এলামনাই এ্যাসোসিয়েশন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। বিদায়ী কমিটির মধ্যে সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক গ্রুপ এবং অন্য ৬ জন সদস্য আরেক গ্রুপ হয়ে যান বলে জানা যায়। বিদায়ী কমিটির মধ্যে সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন হোসেনকে সভাপতি হিসেবে রাখতে চাইলেও ৬ জনের গ্রুপ আল আমিন হোসেনকে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কোন পদেই রাখতে চাচ্ছিলোনা।
এই ৬ জনের গ্রুপকে এলামনাই এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এবং পরিসংখ্যান ১০ম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী তাসিন রহমান আশ্রয় দিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটিতে দীর্ঘদিন ধরে এই তাসিন রহমান এবং পরিসংখ্যান বিভাগের ১০ম ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব সিজান মিলে দীর্ঘদিন ধরে গ্রুপিং করে আসছেন বলে অভিযোগ আছে। এর আগেও ডিবেটিং সোসাইটিতে যোগ্য না হলেও নিজের পছন্দের প্রার্থীদের কমিটিতে পদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, নতুন কমিটির জন্য ভাইবা নেওয়ার পর এলামনাই এ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের মধ্যে ভোট হয়। সেখানে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন হোসেনকে সভাপতি এবং লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এলামনাইদের ভোটের সময় পাবিপ্রবি শিবিরের সভাপতি নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক রাখার জন্য ভোট প্রদান করেন।
পরবর্তীতে ৩১ অক্টোবর রাতে চূড়ান্ত কমিটি ঘোষণা দেওয়ার জন্য এলামনাই এ্যাসোসিয়েশন সংগঠনের সকল সদস্যদের নিয়ে মিটিংয়ে বসেন। কিন্তু সেই মিটিংয়েও সদ্য বিদায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কাকে করা হবে সেটা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছিলেন না। এ সময় পাবিপ্রবি শিবিরের সভাপতি হৃদয় আলম উল্লাস জানান, তিনি আল আমিনকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চান না, তিনি তার ভোট পরিবর্তন করে সুব্রত কুমার বিশ্বাসকে দিবেন। এই ঘটনার পরে এলামনাই এ্যাসোসিয়েশনের সদ্যসদের সাথে তর্কে লিপ্ত হন পাবিপ্রবি শিবিরের সভাপতি। এ সময় তিনি জানান, তারা মত করে কমিটি না হলে তিনি এলামনাই এ্যাসোসিয়েশন থেকে পদত্যাগ করবেন। এরপর তিনি মিটিং থেকে বের হয়ে যান এবং ডিবেটিং সোসাইটির মেসেঞ্জার গ্রুপ থেকে লিভ নেন। এর পরপরই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পদত্যাগের পোস্ট দিয়ে লিখেন, “আমি পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের স্বেচ্ছাচারী, স্বৈরাচারী, পক্ষপাতদুষ্ট, অগণতান্ত্রিক ও একতরফা কর্মকাণ্ড এবং অসচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আচরণের জন্য স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে ও সম্পূর্ণ নিজস্ব সিদ্ধান্তে পদত্যাগ করছি।”
একই পোস্টে তিনি আরো লিখেন, “অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ভবিষ্যতের যেকোনো স্বেচ্ছাচারী, পক্ষপাতমূলক, বৈষম্যমূলক, অসচ্ছ, অনিয়মতান্ত্রিক ও অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত কিংবা কর্মকাণ্ডের দায়ভার তিনি গ্রহণ করবেন না।”
এ সময় হৃদয় আলম উল্লাসের সাথে পরিসংখ্যান বিভাগের ১০ম ব্যাচের তাসিন রহমান এবং আরো কয়েকজন সদস্য মেসেঞ্জার গ্রুপ থেকে বের হয়ে যান।
অভিযোগ আছে চূড়ান্ত কমিটি প্রকাশের এক সপ্তাহ আগে থেকেই পাবিপ্রবি শিবিরের সভাপতি হৃদয় আলম উল্লাস ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আবদুর রউফকে বার বার ফোন দিয়ে দ্রুত কমিটি প্রকাশ করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুত কমিটি না দিলে এলামনাই এ্যাসোসিয়েশন আর কমিটির কারো সাথে কখনো বসবেন বলে জানান।
পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির এলামনাই এ্যাসোসিয়েশনের এক সদস্য জানান, হৃদয় আলম উল্লাসকে কমিটি করার জন্য এলামনাই থেকে এমন কোন দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি নিজেই গিয়ে এসব করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংগঠনটির এক সাবেক বিতার্কিক বলেন, “কোনো এক অজানা কারণে নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সিদ্ধান্ত আসছিল না। সময় পেরিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু সংশ্লিষ্টরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে যাঁদের শীর্ষ অবস্থানে রাখা হয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে একটি অংশ বিভিন্ন অভিযোগ তুলতে থাকে। এ ছাড়া সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মতামত পরিবর্তনের চেষ্টাও করা হয়।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংগঠনটির সাবেক আরেকজন বিতার্কিক বলেন, “সে একটা সংগঠনের রানিং সভাপতি। অধিকাংশের মতামতের যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তাকে সেটাই মেনে নিতে হতো কিন্তু সে সেটা না করে নিজের মতের লোক দিয়ে কমিটি হয়নি বলে সে বের হয়ে গেছে এটা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। এখানে তার দলীয় কোন এজেন্ডাও থাকতে পারে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পাবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি হৃদয় আলম উল্লাস বলেন, “আমি পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সভাপতি ছিলাম এবং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের একজন সদস্য। আমি ছাত্রশিবিরের সভাপতি, সেটা ভিন্ন আলোচনা। কমিটি নিয়ে কোনো ধরনের ঝামেলা হয়নি। ডিবেটিং সোসাইটিতে অযোগ্যরা কখনো দায়িত্ব পেয়েছেন, এমন ঘটনা কখনোই ঘটেনি।
দায়িত্ব পাওয়ার জন্য যারা সবচেয়ে যোগ্য, তাদের নিয়ে ভোটাভুটি হয়। এরপর যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়। যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কাউকে ভোট দিলে তাঁর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে হয়। আমার পদত্যাগের বিষয়টি কমিটি গঠন নিয়ে কোনো ইস্যু নয়। আমাদের অ্যালামনাইদের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় নিয়ে আমি পদত্যাগ করি। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করার বিষয়টি সঠিক নয়।”
এ বিষয়ে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি এনামুল হক শাওন ফেসবুকে লিখেন, “যদি কেউ নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য পাস্টডিএসকে দোষারোপ করে তার দায়ভার কেউ নিবেনা। আর যে বিষয়গুলো আপসে মেটানো যায় সে বিষয়গুলো পাবলিক করার মাধ্যমে আসলে স্বার্থ কার!”
সর্বশেষ সংবাদ
পাবিপ্রবিতে ডিবেটিং সোসাইটির কমিটি গঠনে শিবির সভাপতির হস্তক্ষেপের অভিযোগ
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - প্রকাশিত ১০:২৬:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- ৪৪ বার পঠিত
জনপ্রিয়


























