জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদ বাস্তবায়ন করার দাবিতে রাজধানীর ব্যস্ততম শাহবাগ সড়ক অবরোধ করেছে জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতরা। এতে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ জনগণ।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ‘জুলাই যোদ্ধা সংসদ’ ব্যানারে এই অবরোধ কর্মসূচি আরম্ভ হয়ে প্রতিবেদন লেখার সময় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাদের অবস্থান কর্মসূচি চলমান ছিল।
আন্দোলনকারীদের মধ্যে থেকে রায়হান হওলাদার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া ৩০ কার্যদিবস সেই ১০ জুন পার হয়ে গেছে। এরপরে তারা নানা টালবাহানা শুরু করে দিছে। তারা একদিন এক তারিখ আরকেদিন আরেক তারিখ ঘোষণা করছে, কিন্তু জুলাই সনদ আর আসে না।
‘তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতদিন পর্যন্ত জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র না আসবে, ততদিন পর্যন্ত এই শাহবাগে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে,’ বলেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে দেখা যায়, সব ধরনের যান চলাচল ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দূর পাল্লার বাস এবং মালবাহী ট্রাক ও আটকে দেওয়া হয়েছে। এতে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অফিস ফেরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হেঁটে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে দেখা যায়।
অবরোধের কারণে শাহবাগ এবং আশপাশের এলাকাগুলোর সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। মগবাজার, বাংলামোটর, এলিফ্যান্ট রোড, কারওয়ান বাজার, কাঁটাবন ও নিউমার্কেটের মতো ব্যস্ত এলাকায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। অনেক গণপরিবহন বিকল্প পথে চলাচল করলেও যাত্রীরা পড়েন চরম দুর্ভোগে
পথচারী ও যাত্রীরা আন্দোলনের যৌক্তিকতা মেনে নিলেও, এভাবে রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করাকে ভোগান্তির কারণ হিসেবে দেখছেন। শাহীন আলম নামের এক ক্ষুব্ধ যাত্রী বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন আমার যাতায়াত করা লাগে। প্রায় সময় এই সড়ক অবরোধ হয়। আন্দোলনের যৌক্তিকতা তো আছেই, তবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগটিও দেখা উচিত।
গণপরিবহন চালকদের ভাষ্য, শাহবাগ বন্ধ থাকলে বিকল্প পথে যেতে হয়, এতে সময় যেমন বেশি লাগে, তেমনি জ্বালানি খরচও বাড়ে। অথচ যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা যায় না।
এক চালক বলেন, ভাড়া তো বাড়াই না, আবার ঘুরেও যেতে হয়। রাস্তায় পড়ে থাকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
