ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সাত কলেজের সংকট নিরসনে অধ্যাদেশই একমাত্র সমাধান: কবি নজরুল কলেজ ছাত্রশিবির Logo কুবিতে মুরাদনগর ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীনবরণ ও মিলনমেলা Logo ঢাকেবির অধ্যাদেশের পক্ষে চার ছাত্র সংগঠনের সংহতি প্রকাশ Logo ১৮ স্কুলের অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে ইবিস্থ ফুলকুঁড়ি তারারমেলার উষ্ণবস্ত্র উপহার  Logo সরস্বতীপূজার ব্যানার ‘ভুলবশত’ খুলে ফেলেন, দাবি জাবি কর্মচারীর Logo জাবিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ‘তরী’র শীতবস্ত্র বিতরণ  Logo জাবিস্থ মাদারীপুর জেলা ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে রিমন-জাহিদ Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সোমবার শিক্ষার্থীদের গণজমায়েত Logo র‌্যাব-১০ এর অভিযানে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক Logo জাবিতে ‘তারুণ্যের চোখে আগামী নির্বাচন ও গণভোট’ শীর্ষক সেমিনার
সিন্ডিকেটে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত

জুলাইবিরোধী শিক্ষক দম্পত্তির পক্ষে ইবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

  • সাকীফ বিন আলম
  • প্রকাশিত ১১:৩৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • ২১৩ বার পঠিত

গণহত্যার পক্ষ নেওয়া ও জুলাইবিরোধী ভূমিকা থাকায় বহিষ্কৃত আইন বিভাগের দুই শিক্ষকের পক্ষে মানববন্ধন করেছে একই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক দুজন হলেন অধ্যাপক ড. শাহাজাহান মন্ডল এবং অধ্যাপক ড.রেবা মন্ডল।

শনিবার (১ নভেম্বর) বেলা ১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে তাঁদের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এর আগে গত ১৫ মার্চ জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের বিরুদ্ধে ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে প্রশাসন। যাদের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। পরে গতকাল অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭১ তম সিন্ডিকেট সভায় তাদের ড. শাহাজাহান মন্ডল ও ড.রেবা মন্ডলসহ ৩০ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা যায়, বহিষ্কৃত শিক্ষক ড. শাহাজাহান মন্ডল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফ্যাসিবাদী শক্তির পক্ষ নিয়ে বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ে যোগ দিতেন। সর্বশেষ গতবছরের ৪ জুলাই আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘শাপলা ফোরাম’ আয়োজিত মিছিল-সমাবেশে অংশ নিতে দেখা যায়। যেখানে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য করে ‘আর নয় হেলা ফেলা, এবার হবে ফাইনাল খেলা’ শ্লোগান দেয়া হয়।

এদিকে বহিষ্কৃত এই দুই শিক্ষকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধনে নেমেছে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাংশ। শিক্ষার্থীরা বলেন, আইন বিভাগ দীর্ঘদিন সেশনজটে ছিল। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় তা এখন কমে এসেছে। শাহজাহান মন্ডল ও রেবা মন্ডল সবসময়ই শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময় অনেক শিক্ষার্থীকে ফর্ম ফিলাপে সহযোগিতা করতেন। আমাদের বিভাগে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। আমরা চাই আমাদের শিক্ষকদের শাস্তি পুনর্বিবেচনা করা হোক।

শিক্ষার্থী হৃদয় বলেন, তদন্ত কমিটি কতটুকু নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেননা ক্যাম্পাসে এখনও আওয়ামী মতাদর্শের অনেক শিক্ষক টিকে আছেন। শিক্ষক রাজনীতির জন্য যদি এ শিক্ষক, কর্মকর্তারা বহিষ্কার হতে পারেন, তাহলে বাকিরা পড়ে রইল কেন।

শিক্ষার্থী আছিয়া বলেন, ‘আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি আমাদের প্রাণপ্রিয় শিক্ষক ড. শাহজাহান মন্ডল এবং রেবা মন্ডলকে ফিরিয়ে আনার জন্য। আমাদের শিক্ষাজীবনে একটাই দাবি ছিল শিক্ষার মান উন্নয়ন করা, যার পক্ষে সব থেকে অবদান ছিলো আমাদের এই দুই শিক্ষকের। শিক্ষকের সংজ্ঞা এবং শিক্ষার মান কেমন তা জেনেছি তাদের থেকে।’

অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. শাহজাহান মন্ডল বলেন, “আমি ৪ আগস্টের মিছিল পরবর্তী সভায় ছিলাম, মিছিলে ছিলাম না। মিছিল আর সভায় থাকা এক না। আর জুলাইবিরোধী কোন কর্মকান্ডে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা ছিল না।”

এবিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিরোধী বিতর্কিত ভুমিকার জন্য শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা আরো একটি কমিটি গঠন করবো। সেই কমিটি বিবেচনা করবে কাকে কতটুকু শাস্তি দেয়া যায়। তবে ফ্যাসিস্টের প্রশ্নে কোন ছাড় হবে না।

উল্লেখ্য, গণহত্যার পক্ষের শক্তি চিহ্নিত করতে আল হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার হোসেনকে আহবায়ক করে এ কমিটি করা হয়েছিল। পরে প্রত্যক্ষদর্শী কর্তৃক প্রদত্ত লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ, বিভিন্ন তথ্যচিত্র, ভিডিও এবং পত্রিকার খবরের ভিত্তিতে এসব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানবিরোধী কার্যকলাপের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়।

জনপ্রিয়

সাত কলেজের সংকট নিরসনে অধ্যাদেশই একমাত্র সমাধান: কবি নজরুল কলেজ ছাত্রশিবির

সিন্ডিকেটে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত

জুলাইবিরোধী শিক্ষক দম্পত্তির পক্ষে ইবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

প্রকাশিত ১১:৩৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

গণহত্যার পক্ষ নেওয়া ও জুলাইবিরোধী ভূমিকা থাকায় বহিষ্কৃত আইন বিভাগের দুই শিক্ষকের পক্ষে মানববন্ধন করেছে একই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক দুজন হলেন অধ্যাপক ড. শাহাজাহান মন্ডল এবং অধ্যাপক ড.রেবা মন্ডল।

শনিবার (১ নভেম্বর) বেলা ১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে তাঁদের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এর আগে গত ১৫ মার্চ জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের বিরুদ্ধে ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে প্রশাসন। যাদের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। পরে গতকাল অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭১ তম সিন্ডিকেট সভায় তাদের ড. শাহাজাহান মন্ডল ও ড.রেবা মন্ডলসহ ৩০ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা যায়, বহিষ্কৃত শিক্ষক ড. শাহাজাহান মন্ডল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফ্যাসিবাদী শক্তির পক্ষ নিয়ে বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ে যোগ দিতেন। সর্বশেষ গতবছরের ৪ জুলাই আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘শাপলা ফোরাম’ আয়োজিত মিছিল-সমাবেশে অংশ নিতে দেখা যায়। যেখানে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য করে ‘আর নয় হেলা ফেলা, এবার হবে ফাইনাল খেলা’ শ্লোগান দেয়া হয়।

এদিকে বহিষ্কৃত এই দুই শিক্ষকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধনে নেমেছে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাংশ। শিক্ষার্থীরা বলেন, আইন বিভাগ দীর্ঘদিন সেশনজটে ছিল। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় তা এখন কমে এসেছে। শাহজাহান মন্ডল ও রেবা মন্ডল সবসময়ই শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময় অনেক শিক্ষার্থীকে ফর্ম ফিলাপে সহযোগিতা করতেন। আমাদের বিভাগে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। আমরা চাই আমাদের শিক্ষকদের শাস্তি পুনর্বিবেচনা করা হোক।

শিক্ষার্থী হৃদয় বলেন, তদন্ত কমিটি কতটুকু নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেননা ক্যাম্পাসে এখনও আওয়ামী মতাদর্শের অনেক শিক্ষক টিকে আছেন। শিক্ষক রাজনীতির জন্য যদি এ শিক্ষক, কর্মকর্তারা বহিষ্কার হতে পারেন, তাহলে বাকিরা পড়ে রইল কেন।

শিক্ষার্থী আছিয়া বলেন, ‘আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি আমাদের প্রাণপ্রিয় শিক্ষক ড. শাহজাহান মন্ডল এবং রেবা মন্ডলকে ফিরিয়ে আনার জন্য। আমাদের শিক্ষাজীবনে একটাই দাবি ছিল শিক্ষার মান উন্নয়ন করা, যার পক্ষে সব থেকে অবদান ছিলো আমাদের এই দুই শিক্ষকের। শিক্ষকের সংজ্ঞা এবং শিক্ষার মান কেমন তা জেনেছি তাদের থেকে।’

অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. শাহজাহান মন্ডল বলেন, “আমি ৪ আগস্টের মিছিল পরবর্তী সভায় ছিলাম, মিছিলে ছিলাম না। মিছিল আর সভায় থাকা এক না। আর জুলাইবিরোধী কোন কর্মকান্ডে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা ছিল না।”

এবিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিরোধী বিতর্কিত ভুমিকার জন্য শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা আরো একটি কমিটি গঠন করবো। সেই কমিটি বিবেচনা করবে কাকে কতটুকু শাস্তি দেয়া যায়। তবে ফ্যাসিস্টের প্রশ্নে কোন ছাড় হবে না।

উল্লেখ্য, গণহত্যার পক্ষের শক্তি চিহ্নিত করতে আল হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার হোসেনকে আহবায়ক করে এ কমিটি করা হয়েছিল। পরে প্রত্যক্ষদর্শী কর্তৃক প্রদত্ত লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ, বিভিন্ন তথ্যচিত্র, ভিডিও এবং পত্রিকার খবরের ভিত্তিতে এসব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানবিরোধী কার্যকলাপের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়।