আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের রাজনীতির সমীকরণ নিয়ে মন্তব্য করেছেন দশ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা পীরজাদা হানজালা। তিনি বলেন, “আগামীর শিবচরের রাজনীতির সমীকরণ হচ্ছে—হয়তো নেতা জিতবে, নয়তো জনগণ জিতবে।”
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার শেখপুর বাজারে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
পীরজাদা হানজালা বলেন, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে এক হয়ে কিছু কুকর্মে জড়িত লোকজন জোটবদ্ধ হচ্ছে। তবে এতে কোনো লাভ হবে না। “তারা মনে করছে একসাথে হলে জিতে যাবে। কিন্তু জনগণ এখন ভোট দিতে শিখে গেছে,” বলেন তিনি।
জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, শিবচরের মানুষ অন্য যে কোনো প্রার্থীর তুলনায় তার কাছে বেশি নিরাপদ। আগামী ১২ তারিখ অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বিশেষ করে যুব সমাজের প্রতি রিকশা প্রতীকের প্রচারণার ও ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমি যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন ইনসাফ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাব।” একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, অনেকেই সরাসরি প্রচারণায় যুক্ত হতে না পারলেও তাকে ভোট দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
উঠান বৈঠকে তিনি একটি আবেগঘন ঘটনার কথাও তুলে ধরেন। এক ভ্যানচালক ব্যবসায়ী তার দৈনন্দিন আয় থেকে কিছু টাকা জমা করে রেখেছিলেন। তিনি নিয়ত করেছিলেন, যদি কোনো ইনসাফের পক্ষে প্রার্থী নির্বাচনে দাঁড়ান, তাহলে সেই জমানো টাকা নির্বাচনী খরচের জন্য দান করবেন। ওই ব্যক্তি গভীর রাতে পীরজাদা হানজালার বাড়িতে গিয়ে তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান এবং তাহাজ্জুদ নামাজে রিকশা প্রতীকের প্রার্থীর জন্য দোয়া করার কথাও বলেন—যেন তিনি বিজয়ী হয়ে সংসদে গিয়ে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে কণ্ঠস্বর তুলতে পারেন।
উল্লেখ্য, পীরজাদা হানজালা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রদূত হাজী শরিয়ত উল্লাহ (রহ.)-এর সপ্তম বংশধর। তিনি খেলাফত মজলিসের মনোনীত দশ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে রিকশা প্রতীক নিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।



















