ঢাকা ১০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ‎২১ ফেব্রুয়ারি: আমাদের ভাষা রক্ষার দিন Logo বিশ্বের ১৫০টি প্রস্তাবকে পেছনে ফেলে আইএইউ-এর ৯৫০০ ইউরো অনুদান জিতল ‘EcoAstroBD’ Logo ‎কুবিস্থ নেত্রকোণা স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের নেতৃত্বে সাদির-মোফাজ্জল Logo স্পেয়ার পার্টসে ৭০% পর্যন্ত ছাড় পাচ্ছেন রিয়েলমির গ্রাহকরা Logo অপো এ৬এস প্রোর ‘ফরেস্ট লুক’ ঘিরে দেশজুড়ে তারকাদের ব্যাপক আলোড়ন Logo রং তুলির আছড়ে, প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে শহীদ মিনার  Logo রমজান জুড়ে জাবিতে স্বল্পমূল্যে ‘ইফতার-ই-দস্তরখান’ আয়োজন Logo কুবিতে আবাসিক হলে ঢুকে ১৩-১৪ সেশনের ছাত্রদল নেতা কর্তৃক শিক্ষার্থীকে মারধর Logo বায়তুল মোকাররমে হাজারো মুসল্লির একসাথে ইফতার, অংশ নিতে পারে যে কেউ  Logo কুবিতে ছাত্রদল নেতার উদ্যোগে ১-১০ রমজান ‘ক্যাম্পাস ইফতার ও কুরআন খতম’ কর্মসূচি

বায়তুল মোকাররমে হাজারো মুসল্লির একসাথে ইফতার, অংশ নিতে পারে যে কেউ 

প্রতিবছর রমজানে ইফতারকে ঘিরে অন্য রকম এক আবহের সৃষ্টি হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। ধনী-গরিব, ছিন্নমূল, প্রতিবন্ধী—হাজার হাজার রোজাদার মুসল্লি এক কাতারে বসে ইফতার করেন রাজধানী ঢাকার এই মসজিদে।

এখানে সরকারিভাবে ইফতারের আয়োজন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, রমজানের প্রথম দিনে প্রায় কয়েক হাজারের অধিক মুসল্লি মসজিদে বসে ইফতার করেছেন। আগের বছরের তুলনায় এখানে ইফতার করতে আসা রোজাদারের সংখ্যা বেড়েছে।

গত আট-নয় বছর ধরে বায়তুল মোকাররম মসজিদের মুসল্লিদের ইফতারির আয়োজন করে আসছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) প্রথম রমজানের ইফতারির সময় বায়তুল মোকারর মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের পূর্ব শাহানে (পূর্ব অংশে) হাজারো মুসল্লি সারি বেঁধে ইফতারের জন্য বসেছেন। এক পাশ থেকে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা ইফতারি বিলি-বণ্টন করছেন। পাশের অস্থায়ী মঞ্চে চলছে ইফতারি-পূর্ব কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত পাঠ।

অবশ্য আসরের নামাজের পর থেকেই এখানে শুরু হয় খণ্ড খণ্ড ইফতারির আয়োজন।

পুরানা পল্টনের এক কার্পেট দোকানী জানান আমরা রমজানে আমাদের দোকানে ইফতার করি। তবে এ বছরের প্রথম দিন বায়তুল মোকাররম মসজিদ ইফতার করলাম। হাজারো মুসল্লীর সাথে ইফতার করতে এক অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে।

ইফতারে উপস্থিত রিপন নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, আমি প্রতি বছর রমজানের প্রথম দিন বায়তুল মোকাররম মসজিদ ইফতার করার চেষ্টা করি। আমার কাছে এখানে ইফতার করতে খুব আনন্দ হয়। আমরা মুসলিম আমাদের মধ্যে যে কোনো ভেদাভেদ নেই। তা এখানে আসলে আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেয়। এখানে ধনী, গরীব সকল ভেদাভেদ ভুল এক কাতারে সকলে ইফতারে আগে বসে দোয়া মোনাজাত করে ইফতার করে। যা আমাদের মানবিক মর্যাদা বৃদ্ধি করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তা বলেন “আশেপাশে অনেক মুসল্লি নিয়ত করে আসে, আবার অনেক ভাসমান লোকও এখানে আসে। তারা ইফতার করার জন্য যথাযথ স্থান পায় না, তাই আমাদের পক্ষ থেকে এই আয়োজন করা হয়। প্রতিদিন আমাদের বাজেট প্রায় লাখের অধিক টাকা, তবে চাহিদা অনুযায়ী আমরা সেটি বাড়াতে পারি।”

পূর্ব শানের ডান পাশে, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটি এবং মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের প্রচেষ্টায় প্রতিদিন হাজারের বেশি মানুষের জন্য ইফতার আয়োজন করা হয়। একই সময়ে, তাবলীগ জামাতের উদ্যোগে চার শতের অধিক মানুষের জন্যও আয়োজন থাকে। প্রত্যেকটি সংগঠনের আয়োজনে আলাদা আলাদা ব্যবস্থা হলেও, সব মিলিয়ে বায়তুল মোকাররমে ইফতার করতে আসেন কয়েক হাজারের অধিক মানুষ।

ইফতারের পাশাপাশি, এখানে চলে কোরআন তেলাওয়াত। ইফতারের পূর্বমুহূর্তে, মুসল্লিরা দুহাত তুলে মহান আল্লাহর কাছে তাদের ফরিয়াদ জানান। আযানের সময় ঘনিয়ে আসলে, বড় পাত্রে কিছু লোক একত্রে ছোলা, মুড়ি, বিভিন্ন প্রকার ভাজাপোড়া নিয়ে বসে পড়েন। আযানের ধ্বনি শুনেই, “বিসমিল্লাহ” বলে, সারাদিনের রোজা ভেঙে একসাথে খাবার গ্রহণ করেন।

ইফতার শেষে, মাগরিবের নামাজের প্রস্তুতি শুরু হয় এবং রোজাদাররা তাদের পূর্ণ তৃপ্তি নিয়ে সেদিনের সিয়াম শেষ করেন।

জনপ্রিয়

‎২১ ফেব্রুয়ারি: আমাদের ভাষা রক্ষার দিন

বায়তুল মোকাররমে হাজারো মুসল্লির একসাথে ইফতার, অংশ নিতে পারে যে কেউ 

প্রকাশিত ০৪:১৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রতিবছর রমজানে ইফতারকে ঘিরে অন্য রকম এক আবহের সৃষ্টি হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। ধনী-গরিব, ছিন্নমূল, প্রতিবন্ধী—হাজার হাজার রোজাদার মুসল্লি এক কাতারে বসে ইফতার করেন রাজধানী ঢাকার এই মসজিদে।

এখানে সরকারিভাবে ইফতারের আয়োজন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, রমজানের প্রথম দিনে প্রায় কয়েক হাজারের অধিক মুসল্লি মসজিদে বসে ইফতার করেছেন। আগের বছরের তুলনায় এখানে ইফতার করতে আসা রোজাদারের সংখ্যা বেড়েছে।

গত আট-নয় বছর ধরে বায়তুল মোকাররম মসজিদের মুসল্লিদের ইফতারির আয়োজন করে আসছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) প্রথম রমজানের ইফতারির সময় বায়তুল মোকারর মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের পূর্ব শাহানে (পূর্ব অংশে) হাজারো মুসল্লি সারি বেঁধে ইফতারের জন্য বসেছেন। এক পাশ থেকে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা ইফতারি বিলি-বণ্টন করছেন। পাশের অস্থায়ী মঞ্চে চলছে ইফতারি-পূর্ব কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত পাঠ।

অবশ্য আসরের নামাজের পর থেকেই এখানে শুরু হয় খণ্ড খণ্ড ইফতারির আয়োজন।

পুরানা পল্টনের এক কার্পেট দোকানী জানান আমরা রমজানে আমাদের দোকানে ইফতার করি। তবে এ বছরের প্রথম দিন বায়তুল মোকাররম মসজিদ ইফতার করলাম। হাজারো মুসল্লীর সাথে ইফতার করতে এক অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে।

ইফতারে উপস্থিত রিপন নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, আমি প্রতি বছর রমজানের প্রথম দিন বায়তুল মোকাররম মসজিদ ইফতার করার চেষ্টা করি। আমার কাছে এখানে ইফতার করতে খুব আনন্দ হয়। আমরা মুসলিম আমাদের মধ্যে যে কোনো ভেদাভেদ নেই। তা এখানে আসলে আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেয়। এখানে ধনী, গরীব সকল ভেদাভেদ ভুল এক কাতারে সকলে ইফতারে আগে বসে দোয়া মোনাজাত করে ইফতার করে। যা আমাদের মানবিক মর্যাদা বৃদ্ধি করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তা বলেন “আশেপাশে অনেক মুসল্লি নিয়ত করে আসে, আবার অনেক ভাসমান লোকও এখানে আসে। তারা ইফতার করার জন্য যথাযথ স্থান পায় না, তাই আমাদের পক্ষ থেকে এই আয়োজন করা হয়। প্রতিদিন আমাদের বাজেট প্রায় লাখের অধিক টাকা, তবে চাহিদা অনুযায়ী আমরা সেটি বাড়াতে পারি।”

পূর্ব শানের ডান পাশে, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটি এবং মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের প্রচেষ্টায় প্রতিদিন হাজারের বেশি মানুষের জন্য ইফতার আয়োজন করা হয়। একই সময়ে, তাবলীগ জামাতের উদ্যোগে চার শতের অধিক মানুষের জন্যও আয়োজন থাকে। প্রত্যেকটি সংগঠনের আয়োজনে আলাদা আলাদা ব্যবস্থা হলেও, সব মিলিয়ে বায়তুল মোকাররমে ইফতার করতে আসেন কয়েক হাজারের অধিক মানুষ।

ইফতারের পাশাপাশি, এখানে চলে কোরআন তেলাওয়াত। ইফতারের পূর্বমুহূর্তে, মুসল্লিরা দুহাত তুলে মহান আল্লাহর কাছে তাদের ফরিয়াদ জানান। আযানের সময় ঘনিয়ে আসলে, বড় পাত্রে কিছু লোক একত্রে ছোলা, মুড়ি, বিভিন্ন প্রকার ভাজাপোড়া নিয়ে বসে পড়েন। আযানের ধ্বনি শুনেই, “বিসমিল্লাহ” বলে, সারাদিনের রোজা ভেঙে একসাথে খাবার গ্রহণ করেন।

ইফতার শেষে, মাগরিবের নামাজের প্রস্তুতি শুরু হয় এবং রোজাদাররা তাদের পূর্ণ তৃপ্তি নিয়ে সেদিনের সিয়াম শেষ করেন।