ঢাকা ১০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জাবিতে ছাত্রদল নেতার উদ্যোগে সম্প্রীতির ইফতার Logo কবি নজরুল কলেজ শরীয়তপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল Logo ছাত্রদলই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির চালিকা শক্তি : সফিকুর রহমান কিরণ Logo ফেসবুক পোস্ট নিয়ে সংবাদ করায় সাংবাদিককে জবি ছাত্রদল নেত্রী খাদিজার হুমকি Logo নরসিংদীসহ সারাদেশে ধর্ষণের ঘটনায় রাকসু’র বিক্ষোভ  Logo ২৭ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় Logo আমের মুকুলে সেজেছে রাবি : বসন্তে মোহিত ক্যাম্পাস  Logo ইমাম নিয়োগে অনিয়মের সত্যতা, তবুও নতুন তদন্ত কমিটি গঠন Logo কুবিতে ছাত্রীদের জন্য প্রথমবার চালু হচ্ছে ‘উইমেন’স কর্নার’ Logo জন্মদিনে কুরআন শরীফ বিতরণ, জাবি ছাত্রদল কর্মী অক্ষরের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

পর্দা উঠল অমর একুশে বইমেলার

  • মোঃ ইমরান হোসেন
  • প্রকাশিত ০৯:৫৭:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩৩ বার পঠিত

নানা সংকট, সমস্যা আর কালক্ষেপণ, দফায় দফায় তারিখ পরবর্তন আর প্রকাশকদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের অবসান শেষে শুরু হলো ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’। ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী আয়োজনে প্রথমবারের মতো অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিকেল ৩টা ১৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে ফিতা কেটে মেলার দ্বার উন্মুক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি  অমর একুশে শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠিত বইমেলার একুশে অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন। এবং ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’ প্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।  উদ্বোধন শেষে তিনি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

এর আগে দুপুর ২টায় শুরু হয় এই উদ্বোধনী আয়োজন। এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংস্কৃতিমন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

সময়সূচি:

আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ২ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। তবে, ছুটির দিন বইমেলা শুরু হবে সকাল ১১ টায় এবং চলবে যথারীতি রাত ৯ টা পর্যন্ত। রাত সাড়ে ৮ টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না।

এছাড়া প্রতিবছরের মতো এবারের বইমেলায়ও শিশু-কিশোরদের অবাধে চলাচল এবং বই কেনার জন্য প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় সকাল ১১ টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে। এবং অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি এবং সংগীত প্রতিযোগিতা।

অন্যদিকে, প্রতিদিন বিকেল ৩ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বরাবরের মতো এবারও বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫% কমিশনে বই বিক্রি করবে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রয় করবে।

স্টল সংখ্যা ও বিন্যাস :

মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি জানিয়েছে— এবারের বইমেলায় অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা সংস্থা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রয়েছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ৮১টি প্রতিষ্ঠানের স্টল এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রকাশনা সংস্থার স্টল। মোট ইউনিট ১ হাজার ১৮টি। গত বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ৭০৮টি এবং ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি। মেলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বরের অবস্থান থাকছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায়। সেখানে ৮৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুচত্বরে মোট প্রতিষ্ঠান ৬৩টি এবং ইউনিট ১০৭টি।

থাকছে তারাবি নামাজের ব্যবস্থা :

এর বাইরে; বিগত বছরের মতো এবারও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আর পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মেলায় আগত মুসল্লিদের জন্য সুরা তারাবি নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। বরাবরের মতো এবারের বইমেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এছাড়াও নিরাপত্তার জন্য মেলায় ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে।

মেলার প্রবেশপথ ৫টি:

এবারের মেলার মূলপ্রাঙ্গণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের জন্য মোট ৫টি প্রবেশ পথ এবং বাহির হবার পথ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে টিএসসি প্রান্তে একটা ও দোয়েল চত্বরের দিক থেকে আসতে রাস্তার ডান পার্শ্বে একটা, বাংলা একাডেমির সামনে রমনা কালী মন্দিরের গেট ও তার পার্শ্ববর্তী স্থানে দুটি এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রান্তে একটি প্রবেশ পথ এবং বাহির পথ রয়েছে। আর মেলার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রবেশের জন্য রয়েছে দুটি প্রবেশপথ এবং একটি বাহির হবার পথ।

প্রসঙ্গত, রীতি অনুযায়ী বইমেলা শুরু হয় ভাষার মাসের প্রথম দিন, আর সেই মেলার উদ্বোধন করেন সরকার প্রধান। তবে তবে এ বছর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং রোজার কারণ দেখিয়ে ডিসেম্বরে এই মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে তা আরও দুই দফা পিছিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

রয়েছে পুরষ্কার:

বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ এবং ২০২৫ সালের বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের মধ্য থেকে শৈল্পিক বিচারে সেরা বই প্রকাশের জন্য ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। এছাড়া ২০২৫ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থের জন্য ১টি প্রতিষ্ঠানকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং এ-বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে। স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হবে। আর, এবারের বইমেলা থেকে চালু হচ্ছে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’ শিরোনামে একটি নতুন পুরষ্কার। মেলায় নতুন অংশগ্রহণকারী (যে সকল প্রতিষ্ঠান নতুন প্রকাশক হিসেবে এবারই প্রথম/২০২৪ বা ২০২৫ সালে মেলায় প্রথম অংশগ্রহণ করছে) তাদের মধ্য থেকে ‘গুণগতমান বিচার’-এ সর্বাধিক সংখ্যক বইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’ (১ম, ২য়, ৩য়) প্রদান করা হবে।

জনপ্রিয়

জাবিতে ছাত্রদল নেতার উদ্যোগে সম্প্রীতির ইফতার

পর্দা উঠল অমর একুশে বইমেলার

প্রকাশিত ০৯:৫৭:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নানা সংকট, সমস্যা আর কালক্ষেপণ, দফায় দফায় তারিখ পরবর্তন আর প্রকাশকদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের অবসান শেষে শুরু হলো ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’। ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী আয়োজনে প্রথমবারের মতো অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিকেল ৩টা ১৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে ফিতা কেটে মেলার দ্বার উন্মুক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি  অমর একুশে শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠিত বইমেলার একুশে অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন। এবং ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’ প্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।  উদ্বোধন শেষে তিনি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

এর আগে দুপুর ২টায় শুরু হয় এই উদ্বোধনী আয়োজন। এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংস্কৃতিমন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

সময়সূচি:

আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ২ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। তবে, ছুটির দিন বইমেলা শুরু হবে সকাল ১১ টায় এবং চলবে যথারীতি রাত ৯ টা পর্যন্ত। রাত সাড়ে ৮ টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না।

এছাড়া প্রতিবছরের মতো এবারের বইমেলায়ও শিশু-কিশোরদের অবাধে চলাচল এবং বই কেনার জন্য প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় সকাল ১১ টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে। এবং অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি এবং সংগীত প্রতিযোগিতা।

অন্যদিকে, প্রতিদিন বিকেল ৩ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বরাবরের মতো এবারও বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫% কমিশনে বই বিক্রি করবে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রয় করবে।

স্টল সংখ্যা ও বিন্যাস :

মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি জানিয়েছে— এবারের বইমেলায় অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা সংস্থা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রয়েছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ৮১টি প্রতিষ্ঠানের স্টল এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রকাশনা সংস্থার স্টল। মোট ইউনিট ১ হাজার ১৮টি। গত বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ৭০৮টি এবং ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি। মেলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বরের অবস্থান থাকছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায়। সেখানে ৮৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুচত্বরে মোট প্রতিষ্ঠান ৬৩টি এবং ইউনিট ১০৭টি।

থাকছে তারাবি নামাজের ব্যবস্থা :

এর বাইরে; বিগত বছরের মতো এবারও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আর পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মেলায় আগত মুসল্লিদের জন্য সুরা তারাবি নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। বরাবরের মতো এবারের বইমেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এছাড়াও নিরাপত্তার জন্য মেলায় ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে।

মেলার প্রবেশপথ ৫টি:

এবারের মেলার মূলপ্রাঙ্গণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের জন্য মোট ৫টি প্রবেশ পথ এবং বাহির হবার পথ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে টিএসসি প্রান্তে একটা ও দোয়েল চত্বরের দিক থেকে আসতে রাস্তার ডান পার্শ্বে একটা, বাংলা একাডেমির সামনে রমনা কালী মন্দিরের গেট ও তার পার্শ্ববর্তী স্থানে দুটি এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রান্তে একটি প্রবেশ পথ এবং বাহির পথ রয়েছে। আর মেলার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রবেশের জন্য রয়েছে দুটি প্রবেশপথ এবং একটি বাহির হবার পথ।

প্রসঙ্গত, রীতি অনুযায়ী বইমেলা শুরু হয় ভাষার মাসের প্রথম দিন, আর সেই মেলার উদ্বোধন করেন সরকার প্রধান। তবে তবে এ বছর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং রোজার কারণ দেখিয়ে ডিসেম্বরে এই মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে তা আরও দুই দফা পিছিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

রয়েছে পুরষ্কার:

বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ এবং ২০২৫ সালের বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের মধ্য থেকে শৈল্পিক বিচারে সেরা বই প্রকাশের জন্য ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। এছাড়া ২০২৫ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থের জন্য ১টি প্রতিষ্ঠানকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং এ-বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে। স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হবে। আর, এবারের বইমেলা থেকে চালু হচ্ছে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’ শিরোনামে একটি নতুন পুরষ্কার। মেলায় নতুন অংশগ্রহণকারী (যে সকল প্রতিষ্ঠান নতুন প্রকাশক হিসেবে এবারই প্রথম/২০২৪ বা ২০২৫ সালে মেলায় প্রথম অংশগ্রহণ করছে) তাদের মধ্য থেকে ‘গুণগতমান বিচার’-এ সর্বাধিক সংখ্যক বইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’ (১ম, ২য়, ৩য়) প্রদান করা হবে।