বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় তরুণদের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে “Loud and Clear: Empowering Youth Voices 2.0” প্রকল্পের আওতায় খুলনায় তিনদিনব্যাপী একটি বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ওয়েভ ফাউন্ডেশন এবং ডয়চে ভেলে একাডেমি (DWA)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) তিনটি ক্লাব এবং নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি খুলনার একটি ক্লাবের মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
গত শনিবার (১৫ মে) খুলনার হোটেল সিটি ইন-এ শুরু হওয়া “MIL, Digital Safety and Constructive Dialogue with University Students” শীর্ষক এই বুটক্যাম্পটি সোমবার (১৭ মে) বিকাল ৫টায় শেষ হয়।
বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলো হলো—খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (খুবিসাস), টুয়ার্ড সাসটেইনেবিলিটি খুলনা ইউনিভার্সিটি নেটওয়ার্ক, ডিবেটিং ক্লাব ‘নৈয়ায়িক’ এবং নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি খুলনার জেএমসি ক্লাব।
ডয়চে ভেলে একাডেমির প্রশিক্ষক নাইমুর রহমানের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটির পাঁচজন ফেলো এই কর্মসূচি পরিচালনা করেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণদের সামনে তথ্য বিভ্রান্তি (misinformation), বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, অনলাইন হয়রানি, গুজব এবং নারীদের বিরুদ্ধে ডক্সিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা (MIL), ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং গঠনমূলক সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এই প্রশিক্ষণে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীল মতামত প্রকাশ এবং গঠনমূলক আলোচনায় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান।
প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং জার্মান ফেডারাল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BMZ)-এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ডয়চে ভেলের প্রকল্প পরিচালক প্রিয়া অ্যাসেলবর্ন, প্রকল্প ব্যবস্থাপক জোনায়েদ ইকবাল, ডয়চে ভেলে একাডেমির ইন্সট্রাক্টর নাইমুর রহমান, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রকল্প কর্মকর্তা (যোগাযোগ) সাইফুর রহমান, প্রজেক্ট ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি, উপ-পরিচালক নাজমা সুলতানা লিলি, অর্থ কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন বকুল।
উল্লেখ্য, “Loud and Clear: Empowering Youth Voices 2.0” প্রকল্পটি ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট অঞ্চলে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো তরুণ ও নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
ওয়েভ ফাউন্ডেশন আশা করছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণরা তথ্যভিত্তিক মতামত গঠন, দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভূমিকা পালন এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।


















