বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশার মধ্যেই আরও বড় ব্যক্তিগত শোকের মুখোমুখি হলেন ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর সংবাদ সম্মেলনের মাঝেই তিনি জানতে পারেন, তার বাবা মারা গেছেন।
বুধবার (১ জুলাই) রাতে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর ম্যাচে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ডিআর কঙ্গো। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে দলের পারফরম্যান্স ও ম্যাচ নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন দেসাব্রে।
সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে দলের এক মিডিয়া কর্মকর্তা ফরাসি ভাষায় উপস্থিতদের জানান, কোচের বাবা আর বেঁচে নেই। আকস্মিক এই সংবাদে স্তব্ধ হয়ে যান দেসাব্রে। কয়েক মুহূর্ত নীরব থাকার পর ধীরস্বরে ‘মার্সি’ (ধন্যবাদ) বলে চেয়ার ছেড়ে উঠে যান তিনি। এরপরই সংবাদ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ায় দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা শোকাহত কোচের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং এই কঠিন সময়ে তার ও পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন।
ম্যাচে শুরু থেকেই দুর্দান্ত লড়াই করে ডিআর কঙ্গো। মাত্র সাত মিনিটেই এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। দীর্ঘ সময় সেই লিড ধরে রাখলেও শেষ দিকে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে জয়ের পথে ফেরান অধিনায়ক হ্যারি কেন। তিনি ৭৫ মিনিটে সমতা ফেরানোর পর ৮৬ মিনিটে জয়সূচক গোল করেন। ফলে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠা কঙ্গোর স্বপ্নের যাত্রা শেষ হয়ে যায়।
হারের পরও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন দেসাব্রে। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তার খেলোয়াড়রা সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছে এবং এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কঙ্গোর ফুটবলের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেও ডিআর কঙ্গোর এবারের অভিযান শেষ হলো এক আবেগঘন অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে। একই সঙ্গে ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন ব্যক্তিগত মুহূর্তের মুখোমুখি হতে হলো কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রেকে।





















