ঢাকা ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ভঙ্গুর অর্থনীতি সামলাতে দেশীয় কৌশলেই এগোচ্ছে সরকার Logo বাংলাদেশপন্থা: একটি নতুন রাষ্ট্রদর্শন Logo জন–আস্থা অর্জনই এখন পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ Logo দেশ কি আরেক এক-এগারোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে Logo পীরগাছায় বিএনপি সভাপতির সারের ডিলারের তালিকা ফাঁস Logo পত্রিকা: ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তাসহ একগুচ্ছ বার্তা নিয়ে দিল্লিতে ত্রিবেদী’ Logo চাকরির শুরুতে ৩০ হাজার টাকার বেশি বেতন, আবেদন করা যাবে যেসব চাকরিতে Logo ৪ বছরে দরিদ্র মানুষ বেড়েছে ৮০ লাখ, ঝুঁকিতে সোয়া ৬ কোটি মানুষ Logo প্রথমবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ, সবচেয়ে বেশি খেলেছে কারা Logo অর্থনৈতিক সমীক্ষা ছাড়াই বিমান কেনার ধুম

দেশ কি আরেক এক-এগারোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে

রাজনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক বিশেষ সন্ধিক্ষণে এসে উপস্থিত হয়েছে যেখানে জনসাধারণের প্রত্যাশা এবং আত্মবিশ্বাসের মাত্রা অত্যন্ত উঁচুতে অবস্থান করছে। দীর্ঘমেয়াদী স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করায় সরকারের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সামাজিক, প্রশাসনিক কিংবা রাজনৈতিক কোনো স্তরে সামান্য অব্যবস্থাপনা দেখা দিলেই সাধারণ মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠছে। বিশ্বজুড়ে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভিন্ন দেশের তরুণ প্রজন্মের গণআন্দোলনের প্রভাব এখন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।

দেশের দীর্ঘদিনের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দলটির বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর বর্তমান সরকারের জন্য একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা তুলনামূলক সহজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক পরিমণ্ডল দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে এবং বিভিন্ন দিক থেকে নানা ধরনের বয়ান বা তত্ত্ব সামনে আনা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে এমন একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা চলছে যে বর্তমান প্রশাসনকে জামায়াতে ইসলামী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধআওয়ামী লীগ উভয়ের কাছ থেকেই সমান দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলী বয়ানের আড়ালেই মূলত অতীতের মতো কোনো অনির্বাচিত রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা এক-এগারোর দ্বিতীয় সংস্করণ লুকিয়ে থাকতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা এবং পরবর্তীতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে নানা মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো এই বিষয়গুলো নিয়ে জোরালো সংবাদ প্রকাশ করায় তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ নতুন মাত্রা পাচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, গণমাধ্যমের এই ভূমিকা এক ধরনের পরোক্ষ চাপ তৈরি করছে যা শেষ পর্যন্ত সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তরুণ সমাজ এবং জেনজি প্রজন্মের রাজনৈতিক আচরণ ও সংগঠিত হওয়ার ক্ষমতা বর্তমান সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি বড় নিয়ামক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অতীতে ছাত্র আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের ইতিহাস প্রমাণ করে যে সাধারণ তরুণদের ক্ষোভ এবং অসন্তোষকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নানা অনলাইন আন্দোলন খুব অল্প সময়ে বড় রাজনৈতিক রূপ ধারণ করছে। বর্তমান প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং মেধার মূল্যায়নের কথা বললেও মাঠপর্যায়ে তার সুফল পেতে আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।

জনপ্রিয়

ভঙ্গুর অর্থনীতি সামলাতে দেশীয় কৌশলেই এগোচ্ছে সরকার

দেশ কি আরেক এক-এগারোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে

প্রকাশিত ০৯:৪৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক বিশেষ সন্ধিক্ষণে এসে উপস্থিত হয়েছে যেখানে জনসাধারণের প্রত্যাশা এবং আত্মবিশ্বাসের মাত্রা অত্যন্ত উঁচুতে অবস্থান করছে। দীর্ঘমেয়াদী স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করায় সরকারের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সামাজিক, প্রশাসনিক কিংবা রাজনৈতিক কোনো স্তরে সামান্য অব্যবস্থাপনা দেখা দিলেই সাধারণ মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠছে। বিশ্বজুড়ে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভিন্ন দেশের তরুণ প্রজন্মের গণআন্দোলনের প্রভাব এখন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।

দেশের দীর্ঘদিনের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দলটির বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর বর্তমান সরকারের জন্য একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা তুলনামূলক সহজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক পরিমণ্ডল দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে এবং বিভিন্ন দিক থেকে নানা ধরনের বয়ান বা তত্ত্ব সামনে আনা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে এমন একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা চলছে যে বর্তমান প্রশাসনকে জামায়াতে ইসলামী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধআওয়ামী লীগ উভয়ের কাছ থেকেই সমান দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলী বয়ানের আড়ালেই মূলত অতীতের মতো কোনো অনির্বাচিত রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা এক-এগারোর দ্বিতীয় সংস্করণ লুকিয়ে থাকতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা এবং পরবর্তীতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে নানা মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো এই বিষয়গুলো নিয়ে জোরালো সংবাদ প্রকাশ করায় তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ নতুন মাত্রা পাচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, গণমাধ্যমের এই ভূমিকা এক ধরনের পরোক্ষ চাপ তৈরি করছে যা শেষ পর্যন্ত সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তরুণ সমাজ এবং জেনজি প্রজন্মের রাজনৈতিক আচরণ ও সংগঠিত হওয়ার ক্ষমতা বর্তমান সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি বড় নিয়ামক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অতীতে ছাত্র আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের ইতিহাস প্রমাণ করে যে সাধারণ তরুণদের ক্ষোভ এবং অসন্তোষকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নানা অনলাইন আন্দোলন খুব অল্প সময়ে বড় রাজনৈতিক রূপ ধারণ করছে। বর্তমান প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং মেধার মূল্যায়নের কথা বললেও মাঠপর্যায়ে তার সুফল পেতে আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।