ঢাকা ১২:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটে নতুন নিয়ম, সামনে লিখতে হবে যেভাবে Logo দুর্দান্ত গোল করে ও করিয়ে মায়ামিকে চ্যাম্পিয়ন্স কাপে নিলেন মেসি Logo এই ৫ কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ এনভিডিয়ার হাতে Logo রাকসু শিক্ষার্থীদের চোখে কতটা সফল Logo ১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন পেলেন যারা Logo সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক আহত, কী ঘটেছিল সেখানে? Logo শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ‘মুরাসু’, আঘাত হানতে পারে যেসব এলাকায় Logo গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের ‘উল্লাস ইন্টার ক্লাব স্পোর্টসফেস্ট’ উদ্বোধন Logo পূবালী ব্যাংকের গুলশান সার্কেল-১ শাখা এখন ইসলামী ব্যাংকিং শাখা Logo স্মৃতিতে তৌফিক: একজন পরামর্শক, একজন বন্ধু

বাড়ি ফেরা হলো না জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের

  • বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১১:৪৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ১৪৭ বার পঠিত

ভারতের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায় আর নেই। ৮২ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। অন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর হৃদরোগে আক্রান্ত হন প্রবীণ শিল্পী। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাকে আইটিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শনিবার সকালে প্রয়াত হলেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। তার অসামান্য সৃষ্টি বাংলার সংগীত জগতে চিরকাল অমলিন থাকবে।

১৯৪২ সালের ২৫ জুন অবিভক্ত বাংলার বরিশালে জন্ম প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের। তার বাবা প্রভাতচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ছিলেন শিক্ষক। দেশভাগের পর তার পরিবার চুঁচুড়ায় বসবাস শুরু করে। শৈশব থেকেই কবিতায় সুর বসানোর প্রতি ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ। কবি মঙ্গলচরণ চট্টোপাধ্যায়ের ‘আমি ধান কাটার গান গাই’ কবিতার মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু করেন তিনি। যদিও তিনি কোনো প্রথাগত সংগীত শিক্ষা নেননি, তবু নিজের আবেগ ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে সুর ও কথার মেলবন্ধন গড়ে তুলেছিলেন।

সংগীত জগতে তার প্রবেশ ঘটে ১৯৮৮ সালে ‘পাথরে পাথরে নাচে আগুন’ অ্যালবামের মাধ্যমে, যা একক নয় বরং অন্যান্য শিল্পীদের সঙ্গে সম্মিলিত প্রয়াস ছিল। এরপর ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘যেতে হবে’। ২০২২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর শেষ অ্যালবাম ‘ভোর’, যেখানে সংকলিত ছিল তার অপ্রকাশিত গানগুলো।

প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের সৃষ্টি বাংলা গানের ঐতিহ্যের অন্যতম অংশ হয়ে থাকবে। ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানটি তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বাংলা ও বাঙালির আবেগের প্রতিচ্ছবি হয়ে রয়েছে। এ ছাড়া ‘আলু বেচো’, ‘ছোকরা চাঁদ’, ‘তোমার কি কোনও তুলনা হয়’, ‘সেই মেয়েটি’, ‘ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ’-এর মতো বহু গান শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে।

প্রতুল মুখোপাধ্যায় নিজের গানে বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখার পক্ষে ছিলেন। তার কণ্ঠের অনন্য আবেগময়তা এবং সুরেলা পরিবেশনা শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রাখত। তাঁর প্রয়াণ বাংলা সংগীত জগতের অপূরণীয় ক্ষতি, তবে তাঁর গান চিরকাল বাঙালির হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হবে।

জনপ্রিয়

মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটে নতুন নিয়ম, সামনে লিখতে হবে যেভাবে

বাড়ি ফেরা হলো না জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের

প্রকাশিত ১১:৪৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ভারতের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায় আর নেই। ৮২ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। অন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর হৃদরোগে আক্রান্ত হন প্রবীণ শিল্পী। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাকে আইটিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শনিবার সকালে প্রয়াত হলেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। তার অসামান্য সৃষ্টি বাংলার সংগীত জগতে চিরকাল অমলিন থাকবে।

১৯৪২ সালের ২৫ জুন অবিভক্ত বাংলার বরিশালে জন্ম প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের। তার বাবা প্রভাতচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ছিলেন শিক্ষক। দেশভাগের পর তার পরিবার চুঁচুড়ায় বসবাস শুরু করে। শৈশব থেকেই কবিতায় সুর বসানোর প্রতি ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ। কবি মঙ্গলচরণ চট্টোপাধ্যায়ের ‘আমি ধান কাটার গান গাই’ কবিতার মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু করেন তিনি। যদিও তিনি কোনো প্রথাগত সংগীত শিক্ষা নেননি, তবু নিজের আবেগ ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে সুর ও কথার মেলবন্ধন গড়ে তুলেছিলেন।

সংগীত জগতে তার প্রবেশ ঘটে ১৯৮৮ সালে ‘পাথরে পাথরে নাচে আগুন’ অ্যালবামের মাধ্যমে, যা একক নয় বরং অন্যান্য শিল্পীদের সঙ্গে সম্মিলিত প্রয়াস ছিল। এরপর ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘যেতে হবে’। ২০২২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর শেষ অ্যালবাম ‘ভোর’, যেখানে সংকলিত ছিল তার অপ্রকাশিত গানগুলো।

প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের সৃষ্টি বাংলা গানের ঐতিহ্যের অন্যতম অংশ হয়ে থাকবে। ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানটি তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বাংলা ও বাঙালির আবেগের প্রতিচ্ছবি হয়ে রয়েছে। এ ছাড়া ‘আলু বেচো’, ‘ছোকরা চাঁদ’, ‘তোমার কি কোনও তুলনা হয়’, ‘সেই মেয়েটি’, ‘ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ’-এর মতো বহু গান শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে।

প্রতুল মুখোপাধ্যায় নিজের গানে বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখার পক্ষে ছিলেন। তার কণ্ঠের অনন্য আবেগময়তা এবং সুরেলা পরিবেশনা শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রাখত। তাঁর প্রয়াণ বাংলা সংগীত জগতের অপূরণীয় ক্ষতি, তবে তাঁর গান চিরকাল বাঙালির হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হবে।