ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সাত কলেজের সংকট নিরসনে অধ্যাদেশই একমাত্র সমাধান: কবি নজরুল কলেজ ছাত্রশিবির Logo কুবিতে মুরাদনগর ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীনবরণ ও মিলনমেলা Logo ঢাকেবির অধ্যাদেশের পক্ষে চার ছাত্র সংগঠনের সংহতি প্রকাশ Logo ১৮ স্কুলের অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে ইবিস্থ ফুলকুঁড়ি তারারমেলার উষ্ণবস্ত্র উপহার  Logo সরস্বতীপূজার ব্যানার ‘ভুলবশত’ খুলে ফেলেন, দাবি জাবি কর্মচারীর Logo জাবিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ‘তরী’র শীতবস্ত্র বিতরণ  Logo জাবিস্থ মাদারীপুর জেলা ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে রিমন-জাহিদ Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সোমবার শিক্ষার্থীদের গণজমায়েত Logo র‌্যাব-১০ এর অভিযানে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক Logo জাবিতে ‘তারুণ্যের চোখে আগামী নির্বাচন ও গণভোট’ শীর্ষক সেমিনার
দৃকের বিবৃতি

শহিদুল আলমসহ আটক ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠিয়েছে ইসরায়েল

গাজার অবরোধ ভাঙতে যাওয়া আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ ফ্রিডম ফ্লোটিলা থেকে আটক অধিকারকর্মীদের একটি অংশকে ইসরায়েলের কেৎজিয়েত কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন এবং ইসরায়েলে আরব সংখ্যালঘুদের নিয়ে কাজ করা মানবাধিকার সংস্থা ‘আদালাহ’র বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে শহিদুল আলমের প্রতিষ্ঠিত সংস্থা দৃক।

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের নৃশংসতা বন্ধ এবং গাজায় ইসরায়েলি নৌ অবরোধ ভাঙার প্রত্যয় নিয়ে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন নৌযাত্রা শুরু করেছিল গাজা অভিমুখে। মোট ৯টি নৌযানের এ বহরে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও অধিকারকর্মীরা যোগ দিয়েছিলেন। সেই দলে ছিলেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। গতকাল বুধবার ওই নৌবহরে আক্রমণ করে সব অধিকারকর্মী ও নাবিককে ধরে নিয়ে যান ইসরায়েলি সেনারা।

বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম এবং গাজাগামী ‘কনশেনস’ ও থাউজেন্ড মেডলিনস কর্তৃক সংগঠিত নৌযান থেকে আটককৃত মানবতাবাদী কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে দৃকের এক বিবৃতিতে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি কারাগারে বিচার ছাড়াই আটক থাকা হাজার হাজার ফিলিস্তিনির মুক্তি এবং ফিলিস্তিনে চলমান দখলদারিত্ব ও গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন- দিল্লিভিত্তিক লেখিকা অরুন্ধতী রায়, নিউইয়র্কভিত্তিক স্কলার গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক, কেপটাউনভিত্তিক নাট্যকার মাইক ভ্যান গ্রান, কাঠমান্ডুভিত্তিক সাংবাদিক কনক মণি দীক্ষিতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ‘কনশেনস’ নৌযান থেকে শহিদুল আলমকে অবৈধভাবে অপহরণ করেছে ইসরায়েল, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল। একই নৌযানে থাকা ৯১ জন গণমাধ্যমকর্মী ও চিকিৎসাকর্মীসহ মোট ১৫০ মানবতাবাদী কর্মীর মুক্তিও দাবি করা হয়।

‘কনশেনস’ নৌযানটি ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’-এর সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গাজার ওপর ১৮ বছর ধরে চলমান ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে যাত্রা করেছিল। জাহাজটিতে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ও চিকিৎসা সহায়তাকারীরা ছিলেন। তাদের দাবি, গাজায় সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দিয়ে ইসরায়েল ভয়াবহ ‘মিডিয়া ব্ল্যাকআউট’ তৈরি করেছে।

ফ্লোটিলার অংশ হিসেবে কাজ করা সংগঠন ‘থাউজেন্ড মেডলিনস টু গাজা’ জানিয়েছে, ‘নৌযানটি গাজায় চলমান নীরবতা ও নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক।’ সংগঠনটি বলছে, শত শত ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে হত্যার পাশাপাশি অনেকে এখনও বন্দি ও নিখোঁজ রয়েছেন।

‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’ ও ‘থাউজেন্ড মেডলিনস টু গাজা’র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গাজার ওপর ইসরায়েলের অবৈধ ও প্রাণঘাতী অবরোধ বন্ধ করতে হবে, চলমান গণহত্যা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, অপহরণ করা সব স্বেচ্ছাসেবীকে মুক্তি দিতে হবে, ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা সরাসরি পৌঁছাতে দিতে হবে এবং ফ্লোটিলা নৌযানের ওপর চালানো সামরিক হামলার পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে গত সপ্তাহে গাজা অভিমুখী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ৪২টি নৌযান থেকে ৪৭৯ জনকে আটক করে ইসরায়েল। তাঁদের মধ্যে সুইডিশ অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও ছিলেন। কয়েক ধাপে তাঁদের অধিকাংশকে ফেরত পাঠিয়েছে ইসরায়েল।

জনপ্রিয়

সাত কলেজের সংকট নিরসনে অধ্যাদেশই একমাত্র সমাধান: কবি নজরুল কলেজ ছাত্রশিবির

দৃকের বিবৃতি

শহিদুল আলমসহ আটক ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠিয়েছে ইসরায়েল

প্রকাশিত ১০:১০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

গাজার অবরোধ ভাঙতে যাওয়া আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ ফ্রিডম ফ্লোটিলা থেকে আটক অধিকারকর্মীদের একটি অংশকে ইসরায়েলের কেৎজিয়েত কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন এবং ইসরায়েলে আরব সংখ্যালঘুদের নিয়ে কাজ করা মানবাধিকার সংস্থা ‘আদালাহ’র বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে শহিদুল আলমের প্রতিষ্ঠিত সংস্থা দৃক।

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের নৃশংসতা বন্ধ এবং গাজায় ইসরায়েলি নৌ অবরোধ ভাঙার প্রত্যয় নিয়ে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন নৌযাত্রা শুরু করেছিল গাজা অভিমুখে। মোট ৯টি নৌযানের এ বহরে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও অধিকারকর্মীরা যোগ দিয়েছিলেন। সেই দলে ছিলেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। গতকাল বুধবার ওই নৌবহরে আক্রমণ করে সব অধিকারকর্মী ও নাবিককে ধরে নিয়ে যান ইসরায়েলি সেনারা।

বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম এবং গাজাগামী ‘কনশেনস’ ও থাউজেন্ড মেডলিনস কর্তৃক সংগঠিত নৌযান থেকে আটককৃত মানবতাবাদী কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে দৃকের এক বিবৃতিতে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি কারাগারে বিচার ছাড়াই আটক থাকা হাজার হাজার ফিলিস্তিনির মুক্তি এবং ফিলিস্তিনে চলমান দখলদারিত্ব ও গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন- দিল্লিভিত্তিক লেখিকা অরুন্ধতী রায়, নিউইয়র্কভিত্তিক স্কলার গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক, কেপটাউনভিত্তিক নাট্যকার মাইক ভ্যান গ্রান, কাঠমান্ডুভিত্তিক সাংবাদিক কনক মণি দীক্ষিতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ‘কনশেনস’ নৌযান থেকে শহিদুল আলমকে অবৈধভাবে অপহরণ করেছে ইসরায়েল, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল। একই নৌযানে থাকা ৯১ জন গণমাধ্যমকর্মী ও চিকিৎসাকর্মীসহ মোট ১৫০ মানবতাবাদী কর্মীর মুক্তিও দাবি করা হয়।

‘কনশেনস’ নৌযানটি ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’-এর সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গাজার ওপর ১৮ বছর ধরে চলমান ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে যাত্রা করেছিল। জাহাজটিতে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ও চিকিৎসা সহায়তাকারীরা ছিলেন। তাদের দাবি, গাজায় সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দিয়ে ইসরায়েল ভয়াবহ ‘মিডিয়া ব্ল্যাকআউট’ তৈরি করেছে।

ফ্লোটিলার অংশ হিসেবে কাজ করা সংগঠন ‘থাউজেন্ড মেডলিনস টু গাজা’ জানিয়েছে, ‘নৌযানটি গাজায় চলমান নীরবতা ও নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক।’ সংগঠনটি বলছে, শত শত ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে হত্যার পাশাপাশি অনেকে এখনও বন্দি ও নিখোঁজ রয়েছেন।

‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’ ও ‘থাউজেন্ড মেডলিনস টু গাজা’র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গাজার ওপর ইসরায়েলের অবৈধ ও প্রাণঘাতী অবরোধ বন্ধ করতে হবে, চলমান গণহত্যা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, অপহরণ করা সব স্বেচ্ছাসেবীকে মুক্তি দিতে হবে, ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা সরাসরি পৌঁছাতে দিতে হবে এবং ফ্লোটিলা নৌযানের ওপর চালানো সামরিক হামলার পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে গত সপ্তাহে গাজা অভিমুখী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ৪২টি নৌযান থেকে ৪৭৯ জনকে আটক করে ইসরায়েল। তাঁদের মধ্যে সুইডিশ অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও ছিলেন। কয়েক ধাপে তাঁদের অধিকাংশকে ফেরত পাঠিয়েছে ইসরায়েল।