ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ সংবাদ
Logo কড়াইলে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করল আনসার-ভিডিপি Logo আইজিপির সঙ্গে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিং উন্নয়নে জাবিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo জাবিতে টাঙ্গাইল জেলা সমিতির সভাপতি আল আমিন, সম্পাদক লিমন Logo ইবির আল-কুরআন বিভাগের নতুন সভাপতি ড. জালাল উদ্দিন Logo হুয়াওয়ের কর্মী ও তাদের পরিবার নিয়ে আয়োজিত হলো ‘স্পোর্টস অ্যান্ড ফ্যমিলি ডে ২০২৫’ Logo হারিয়ে যাওয়া রূপলাল হাউজ এখন পিয়াজ মসলার আড়ত Logo যবিপ্রবির খুলনা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত Logo যবিপ্রবিতে পিকনিক আয়োজনে মাইক ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা Logo সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সাময়িক স্থগিত ঘোষণা

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে আঞ্চলিক শান্তির পথে একসঙ্গে এগোতে পারে ইসরায়েল ও ইরান। তবে তার এই প্রস্তাবকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই ইরান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। তিনি বলেন, ইসরায়েলিরা দখলদার। তারা শিশু হত্যা ও গণহত্যার মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত। ফলে তাদের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

ট্রাম্প সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে একটি ‘নতুন ইতিহাস’ তৈরি হতে যাচ্ছে। তার ভাষায়, এমন সবদেশ যারা একসময় একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল, এখন তারা সংলাপে বসছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানও এই বৃহত্তর শান্তি কাঠামোর অংশ হবে।

গাজা উপত্যকায় সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চাচ্ছেন বলে ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, এমন একটি চুক্তি সম্ভব যেখানে ইরান ও ইসরায়েল উভয়ই আলোচনায় যুক্ত হতে পারে।

তবে ইরানের প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারেই নেতিবাচক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানান, ইসরায়েল কোনো শান্তির অংশ হতে পারে না। গাজায় তারা বারবার যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি ভেঙেছে। অতীতের অভিজ্ঞতায় ইসরায়েলের ওপর কোনো আস্থা রাখা যায় না।

এদিকে পরমাণু চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনার কথাও সামনে এসেছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি এক যৌথ বিবৃতিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, তারা দীর্ঘস্থায়ী, নিরীক্ষাযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়, যাতে নিশ্চিত করা যায় ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।

কিন্তু এই প্রস্তাবও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্থানীয় এক গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছি। এটা আমাদের জনগণের অধিকার। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সেই অধিকারকে সম্মান করলেই কেবল নতুন আলোচনা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ন্যায্য, সুষম ও যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাব এলে আমরা অবশ্যই তা বিবেচনায় নেব। তবে চাপ সৃষ্টি করে বা একতরফা শর্তে কোনো আলোচনা হতে পারে না।

এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে। দেশটির জ্বালানি রফতানি বন্ধে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ইরানের পেট্রোলিয়াম ও এলপিজি রফতানিতে সহায়তা দেওয়া ৫০টিরও বেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। তারা বলছে, তেহরানের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত অর্থের উৎস বন্ধ করতেই এই ব্যবস্থা।

জনপ্রিয়

কড়াইলে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করল আনসার-ভিডিপি

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান

প্রকাশিত ১০:২৯:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে আঞ্চলিক শান্তির পথে একসঙ্গে এগোতে পারে ইসরায়েল ও ইরান। তবে তার এই প্রস্তাবকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই ইরান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। তিনি বলেন, ইসরায়েলিরা দখলদার। তারা শিশু হত্যা ও গণহত্যার মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত। ফলে তাদের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

ট্রাম্প সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে একটি ‘নতুন ইতিহাস’ তৈরি হতে যাচ্ছে। তার ভাষায়, এমন সবদেশ যারা একসময় একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল, এখন তারা সংলাপে বসছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানও এই বৃহত্তর শান্তি কাঠামোর অংশ হবে।

গাজা উপত্যকায় সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চাচ্ছেন বলে ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, এমন একটি চুক্তি সম্ভব যেখানে ইরান ও ইসরায়েল উভয়ই আলোচনায় যুক্ত হতে পারে।

তবে ইরানের প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারেই নেতিবাচক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানান, ইসরায়েল কোনো শান্তির অংশ হতে পারে না। গাজায় তারা বারবার যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি ভেঙেছে। অতীতের অভিজ্ঞতায় ইসরায়েলের ওপর কোনো আস্থা রাখা যায় না।

এদিকে পরমাণু চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনার কথাও সামনে এসেছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি এক যৌথ বিবৃতিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, তারা দীর্ঘস্থায়ী, নিরীক্ষাযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়, যাতে নিশ্চিত করা যায় ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।

কিন্তু এই প্রস্তাবও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্থানীয় এক গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছি। এটা আমাদের জনগণের অধিকার। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সেই অধিকারকে সম্মান করলেই কেবল নতুন আলোচনা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ন্যায্য, সুষম ও যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাব এলে আমরা অবশ্যই তা বিবেচনায় নেব। তবে চাপ সৃষ্টি করে বা একতরফা শর্তে কোনো আলোচনা হতে পারে না।

এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে। দেশটির জ্বালানি রফতানি বন্ধে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ইরানের পেট্রোলিয়াম ও এলপিজি রফতানিতে সহায়তা দেওয়া ৫০টিরও বেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। তারা বলছে, তেহরানের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত অর্থের উৎস বন্ধ করতেই এই ব্যবস্থা।