ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo রোজায় ত্বকের যত্ন: ফুড ও লাইফস্টাইলেই লুকিয়ে স্কিন গ্লো Logo কেন্দ্রীয়ভাবে সকল শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতার আয়োজন করবে যবিপ্রবি Logo জাবিতে গাইবান্ধা জেলা সমিতির ইফতার মাহফিল, নবীন-প্রবীণদের মিলনমেলা Logo কুবিতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ইফতার ও দোয়া মাহফিল Logo কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে গণ-ইফতার  Logo কুবির আর্ট অ্যান্ড হেরিটেজ সোসাইটির নেতৃত্বে মুজাহিদ–লাবিব Logo বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ইনক্লুসিভ জাহাঙ্গীরনগর’র ইফতার মাহফিল Logo হাবিপ্রবিতে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের দোয়া ও ইফতার মাহফিল Logo কঠোর সমালোচনা’ না করে সরকারকে সময় দেওয়া উচিত: ডিএসসিসি প্রশাসক Logo রাবি ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক হিসেবে সাবেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীবের আত্মপ্রকাশ

জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করার কারণ জানাল এনসিপি

শেষ হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বসেছিল তারই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন।

তবে সে অনুষ্ঠানে যায়নি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জুলাই সনদে স্বাক্ষরও করেনি। কেন করেনি, কয়েক ঘণ্টা না যেতেই তার কারণ জানাল জুলাই যোদ্ধাদের দলটি।

এদিন রাত পৌঁনে ১১টার দিকে এনসিপি ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ থেকে একটি পোস্টের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদে সই না করার কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। যেটি লিখেছেন দলটির নেতা সারোয়ার তুষার। ঢাকা মেইল পাঠকদের জন্য লেখাটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো-

‘এনসিপি কেন জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি?’

‘এনসিপি বলেছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের টেক্সট এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা দেখার পর সনদে সই করবে। কারণ এনসিপি জুলাই সনদকে স্রেফ রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল কিংবা ফাঁকা প্রতিশ্রুতি মনে করে না। এনসিপি মনে করে জুলাই সনদের প্রধানতম কাজ হচ্ছে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বৈরতান্ত্রিক ভিত্তি নির্মূল এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর। এ কারণে এই সনদের সুস্পষ্ট আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি থাকতে হবে বলে এনসিপি মনে করে।’

‘রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘ এক বছর ঐকমত্য কমিশনের সাথে কাজ করে জুলাই সনদ এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি প্রশ্নে একমত হয়েছে। জুলাই সনদ আদেশ>গণভোট>সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনে সক্ষম গাঠনিক ক্ষমতা সম্পন্ন আগামী সংসদ (দ্বৈত ভূমিকা)—এই প্রক্রিয়ায় সনদ বাস্তবায়ন হবে, এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে।’

‘অথচ সনদের অঙ্গীকারনামায় বাস্তবায়ন পদ্ধতির উল্লেখ নাই। এনসিপি মনে করে বাস্তবায়ন পদ্ধতির উল্লেখ ছাড়া সনদে স্বাক্ষর করা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। কারণ অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের করা প্রতিশ্রুতি নিজেরাই ভঙ্গ করেছে।

এছাড়াও আরও তিনটি বিষয় এনসিপি উত্থাপন করেছে, যা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া দেখেই সনদে স্বাক্ষর করবে এনসিপি।

১. জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের টেক্সট এবং গণভোটের প্রশ্নটি চূড়ান্ত করে আগেই জনগণের কাছে প্রকাশ করতে হবে।

২. জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জারি করবেন।

৩. গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যদি জুলাই সনদে রায় দেয়, তবে নোট অব ডিসেন্টের কোনো কার্যকরিতা থাকবে না। গণভোটের রায় অনুযায়ী আগামী নির্বাচিত সংসদ তাদের উপর প্রদত্ত Constituent Power (গাঠনিক ক্ষমতা) বলে সংবিধান সংস্কার করবে। সংস্কারকৃত সংবিধানের নাম হবে: বাংলাদেশ সংবিধান, ২০২৬।

‘এ সকল বিষয়ের নিশ্চয়তা ছাড়া সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি নিশ্চিত হবে বলে এনসিপি মনে করে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে উল্লিখিত বিষয়সমূহের স্পষ্ট উল্লেখ নিশ্চিত করেই এনসিপি সনদে স্বাক্ষর করবে।’

‘অন্য কোনো কোনো দল বাহাত্তরের মুজিববাদী সংবিধানের মূলনীতি টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সনদে সই করেনি। তাদের সাথে এনসিপির সই না করার মৌলিক পার্থক্য সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব।’

জনপ্রিয়

রোজায় ত্বকের যত্ন: ফুড ও লাইফস্টাইলেই লুকিয়ে স্কিন গ্লো

জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করার কারণ জানাল এনসিপি

প্রকাশিত ০৯:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

শেষ হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বসেছিল তারই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন।

তবে সে অনুষ্ঠানে যায়নি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জুলাই সনদে স্বাক্ষরও করেনি। কেন করেনি, কয়েক ঘণ্টা না যেতেই তার কারণ জানাল জুলাই যোদ্ধাদের দলটি।

এদিন রাত পৌঁনে ১১টার দিকে এনসিপি ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ থেকে একটি পোস্টের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদে সই না করার কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। যেটি লিখেছেন দলটির নেতা সারোয়ার তুষার। ঢাকা মেইল পাঠকদের জন্য লেখাটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো-

‘এনসিপি কেন জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি?’

‘এনসিপি বলেছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের টেক্সট এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা দেখার পর সনদে সই করবে। কারণ এনসিপি জুলাই সনদকে স্রেফ রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল কিংবা ফাঁকা প্রতিশ্রুতি মনে করে না। এনসিপি মনে করে জুলাই সনদের প্রধানতম কাজ হচ্ছে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বৈরতান্ত্রিক ভিত্তি নির্মূল এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর। এ কারণে এই সনদের সুস্পষ্ট আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি থাকতে হবে বলে এনসিপি মনে করে।’

‘রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘ এক বছর ঐকমত্য কমিশনের সাথে কাজ করে জুলাই সনদ এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি প্রশ্নে একমত হয়েছে। জুলাই সনদ আদেশ>গণভোট>সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনে সক্ষম গাঠনিক ক্ষমতা সম্পন্ন আগামী সংসদ (দ্বৈত ভূমিকা)—এই প্রক্রিয়ায় সনদ বাস্তবায়ন হবে, এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে।’

‘অথচ সনদের অঙ্গীকারনামায় বাস্তবায়ন পদ্ধতির উল্লেখ নাই। এনসিপি মনে করে বাস্তবায়ন পদ্ধতির উল্লেখ ছাড়া সনদে স্বাক্ষর করা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। কারণ অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের করা প্রতিশ্রুতি নিজেরাই ভঙ্গ করেছে।

এছাড়াও আরও তিনটি বিষয় এনসিপি উত্থাপন করেছে, যা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া দেখেই সনদে স্বাক্ষর করবে এনসিপি।

১. জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের টেক্সট এবং গণভোটের প্রশ্নটি চূড়ান্ত করে আগেই জনগণের কাছে প্রকাশ করতে হবে।

২. জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জারি করবেন।

৩. গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যদি জুলাই সনদে রায় দেয়, তবে নোট অব ডিসেন্টের কোনো কার্যকরিতা থাকবে না। গণভোটের রায় অনুযায়ী আগামী নির্বাচিত সংসদ তাদের উপর প্রদত্ত Constituent Power (গাঠনিক ক্ষমতা) বলে সংবিধান সংস্কার করবে। সংস্কারকৃত সংবিধানের নাম হবে: বাংলাদেশ সংবিধান, ২০২৬।

‘এ সকল বিষয়ের নিশ্চয়তা ছাড়া সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি নিশ্চিত হবে বলে এনসিপি মনে করে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে উল্লিখিত বিষয়সমূহের স্পষ্ট উল্লেখ নিশ্চিত করেই এনসিপি সনদে স্বাক্ষর করবে।’

‘অন্য কোনো কোনো দল বাহাত্তরের মুজিববাদী সংবিধানের মূলনীতি টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সনদে সই করেনি। তাদের সাথে এনসিপির সই না করার মৌলিক পার্থক্য সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব।’