জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে(জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্য সহায়তা, বিনামূল্যে মোবাইল, ব্যাগ, মানিব্যাগ গচ্ছিত রাখাসহ বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কাজ করছেন কুমিল্লা জেলা স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন।
কুমিল্লা জেলার জাবি শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এ সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে আসছে৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জেলার শিক্ষার্থীদের নিজস্ব উদ্যোগে এই সহায়তা ও সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শীতের তীব্রতাকে উপেক্ষা করে দূর দূরান্ত থেকে আসা হাজারো ভর্তি পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য নজির গড়ে তুলেছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, জাবিতে প্রায় অর্ধশতাধিক জেলা সমিতির তথ্য কেন্দ্র রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা, পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌছানো, যাতায়াতে সহায়তা ও তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করছে সমিতিগুলো। কুমিল্লা জেলা স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন বরাবরের মতো এবারও তথ্য সহয়তা কেন্দ্র স্থাপন করেছে।
যেখান থেকে ভর্তিচ্ছুদের পরীক্ষা কেন্দ্র সম্পর্কে অবগত করার পাশাপাশি তাদের সাথে থাকা ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্র পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে নিজেদের তত্ত্বাবধানে রাখেন।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে আগত শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন,’জেলা থেকে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছি। ক্যাম্পাসে পরিচিত কেউ ছিল না। খুব অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। জেলা সমিতির কাছে এসে জানালে তারা থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’
রাকিব নামে আরেকজন পরীক্ষার্থী বলেন,” জেলা সমিতি আমাকে যে পরিমান সহোযোগিতা করেছে তা আমি কখনোই ভুলবো না।
জেলা স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল হাই স্বপন বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা আমাদেরই ছোট ভাই–বোন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা এসব শিক্ষার্থীরা যেন কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হয়—এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কুমিল্লা জেলা স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন সবসময় মানবিক কাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও আমরা তথ্য সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করেছি।
ভর্তিচ্ছুদের নিরাপদ আবাসন, পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে সহায়তা, ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংরক্ষণ, বাইক সার্ভিস, খাবার ও সার্বিক তথ্য সহায়তা—সবকিছু মিলিয়ে আমরা চেষ্টা করেছি তাদের পরীক্ষার সময়টাকে যতটা সম্ভব সহজ ও নিশ্চিন্ত করতে। বিশেষ করে ছাত্রী পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে আলাদা সেল গঠন করা হয়েছে।
আমাদের সংগঠনের নব্য কমিটি হলেও সদস্যদের আন্তরিকতা ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও কুমিল্লা জেলা স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন জাবিতে আগত ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীসহ সকল শিক্ষার্থীর পাশে থাকবে—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”
কুমিল্লা জেলা স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান বলেন,’আমাদের সংগঠনের নব্য কমিটি গঠনের পর খুব বেশি সময় অতিবাহিত হয়নি। তবে শুরু থেকেই আমরা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি। দূর-দূরান্ত থেকে আগত শিক্ষার্থীরা যেন কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়েন-সে লক্ষ্যেই আমরা ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রিক একটি সমন্বিত সহায়তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
তিনি বলেন, ভর্তি পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে আমরা বাইক সার্ভিস চালু করেছি। অনেক শিক্ষার্থী, বিশেষ করে যারা ক্যাম্পাস সম্পর্কে নতুন, তাদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে এই সেবা বড় ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি আবাসন সংকট নিরসনে আমরা অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা করেছি। বিশেষ করে ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তাদের জন্য আলাদা আবাসন সেল গঠন করা হয়েছে, যেখানে নারী শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে থাকতে পারছেন।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার দিনে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে দুপুরের খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের আগে তাদের ব্যাগ, মোবাইল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদভাবে গচ্ছিত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাকিবুল হাসান বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু আনুষ্ঠানিক সহায়তা নয়, বরং ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পরিবার থেকে দূরে থেকেও যেন একটি আপন পরিবেশ অনুভব করাতে পারি। ভবিষ্যতেও কুমিল্লা জেলা স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’




















