ঢাকা ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সমুদ্রপথে বাংলাদেশিদের অভিবাসন ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে গ্রিস Logo আহছানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন Logo মেলান্দহে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা কারাগারে Logo চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে ইউল্যাবে সম্মেলন Logo দেম্বেলের পেনাল্টি মিসের পর গোল, পিএসজির জয় Logo যুক্তরাষ্ট্রে ৩৪ বছর ধরে বসবাস করা বাংলাদেশি অভিবাসন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার Logo সম্প্রীতিতে যারা বিভাজন ঘটাতে চায়, তাদের ব্যাপারে সর্তক থাকুন: রাষ্ট্রপতি Logo পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত কমাতে সংলাপে গুরুত্বারোপ বাংলাদেশের Logo স্টার্টআপ তহবিল প্রয়োজনে বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo ফ্যামিলি কার্ডের কারণে তালাক বন্ধ হয়েছে: চিফ হুইপ

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্রপতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত

রাষ্ট্রপতির পদে মো. সাহাবুদ্দিনের থাকা না–থাকার বিষয় নিয়ে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রশ্নে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতেই বিষয়টাতে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। সবশেষ আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।

তবে এই এ মুহূর্তে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ চায় না দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি। দলটি মনে করে, রাষ্ট্রপতি পদে শূন্যতা হলে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে। বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের তিন নেতা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে তাদের এই অবস্থান জানান।

এর আগে গত সোমবার রাষ্ট্রপতির মন্তব্যের ব্যাপারে সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি যে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পাননি, এটা হচ্ছে মিথ্যাচার এবং এটা হচ্ছে ওনার শপথ লঙ্ঘনের শামিল। কারণ, তিনি নিজেই ৫ আগস্ট রাত ১১টা ২০ মিনিটে পেছনে তিন বাহিনীর প্রধানকে নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওনার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং উনি তা গ্রহণ করেছেন।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমি শুনেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু আমার কাছে এ সংক্রান্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ বা নথিপত্র নেই।’

রাষ্ট্রপতির এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হওয়ার পর পরই তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে সব মহলে। একদিকে বর্তমান সরকার নিয়ে যেমন প্রশ্ন ওঠে সমালোচকগোষ্ঠীর মধ্যে, অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এর সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র হয়ে ওঠে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি। সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টাও।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি নিয়ে বঙ্গভবন ঘেরাও করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সমর্থকরা। অতি উৎসাহী কেউ কেউ আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা বলয় ভেঙে বঙ্গভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টাও চালান। বঙ্গভবনের বিলাসিতা ছেড়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিজের রাস্তা দেখার কথা বলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে সমাবেশ ও বিক্ষোভ থেকে দাবি ওঠে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ করতে হবে এ সপ্তাহের মধ্যেই।

জনপ্রিয়

সমুদ্রপথে বাংলাদেশিদের অভিবাসন ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে গ্রিস

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্রপতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত ০৫:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪

রাষ্ট্রপতির পদে মো. সাহাবুদ্দিনের থাকা না–থাকার বিষয় নিয়ে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রশ্নে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতেই বিষয়টাতে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। সবশেষ আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।

তবে এই এ মুহূর্তে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ চায় না দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি। দলটি মনে করে, রাষ্ট্রপতি পদে শূন্যতা হলে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে। বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের তিন নেতা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে তাদের এই অবস্থান জানান।

এর আগে গত সোমবার রাষ্ট্রপতির মন্তব্যের ব্যাপারে সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি যে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পাননি, এটা হচ্ছে মিথ্যাচার এবং এটা হচ্ছে ওনার শপথ লঙ্ঘনের শামিল। কারণ, তিনি নিজেই ৫ আগস্ট রাত ১১টা ২০ মিনিটে পেছনে তিন বাহিনীর প্রধানকে নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওনার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং উনি তা গ্রহণ করেছেন।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমি শুনেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু আমার কাছে এ সংক্রান্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ বা নথিপত্র নেই।’

রাষ্ট্রপতির এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হওয়ার পর পরই তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে সব মহলে। একদিকে বর্তমান সরকার নিয়ে যেমন প্রশ্ন ওঠে সমালোচকগোষ্ঠীর মধ্যে, অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এর সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র হয়ে ওঠে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি। সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টাও।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি নিয়ে বঙ্গভবন ঘেরাও করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সমর্থকরা। অতি উৎসাহী কেউ কেউ আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা বলয় ভেঙে বঙ্গভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টাও চালান। বঙ্গভবনের বিলাসিতা ছেড়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিজের রাস্তা দেখার কথা বলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে সমাবেশ ও বিক্ষোভ থেকে দাবি ওঠে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ করতে হবে এ সপ্তাহের মধ্যেই।