শীতের সকালে শহরের ফুটপাত, স্টেশন কিংবা ক্যাম্পাসের আশপাশে তাকালেই এক নির্মম বাস্তবতা চোখে পড়ে; কারও গায়ে একাধিক স্তরের উষ্ণ পোশাক, আবার কারও শরীরে কেবল কাঁপুনি। এই বৈপরীত্য থেকেই জন্ম নেয় এক সহজ কিন্তু শক্তিশালী প্রশ্ন; আমাদের অতিরিক্ত আরাম কি অন্য কারও বেঁচে থাকার ন্যূনতম উষ্ণতা হতে পারে না?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গড়ে উঠেছে “উষ্ণতার দেওয়াল”, শীতার্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক মানবিক উদ্যোগ। ভিসি বাংলোর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই দেয়ালটি শুধু ইট–সিমেন্টে গড়া কোনো কাঠামো নয়; এটি অসহায় মানুষের কাঁপতে থাকা শরীরের পাশে দাঁড়ানোর এক নীরব প্রতিশ্রুতি, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার এক জীবন্ত সাক্ষ্য।
শীত সবার জীবনে একরকমভাবে আসে না। কারও জন্য শীত মানে আরামদায়ক কম্বল আর উষ্ণ পোশাক, আবার কারও জন্য শীত মানে নির্ঘুম রাত, কাঁপতে থাকা শরীর আর অসহায় চুপচাপ কষ্ট সহ্য করা। এই বৈষম্যের বাস্তবতাই নাড়া দিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন মানবিক মনকে। সেই ভাবনা থেকেই বাস্তবরূপে প্রকাশিত হয়েছে ‘উষ্ণতার দেওয়াল’। একটি উদ্যোগ, যা মানুষের মুখে একটু হাসি ফোটানোর ক্ষুদ্র উদ্যোগ কিন্তু গভীর প্রয়াস।
এই উদ্যোগের সূচনা করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাহিম। তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীদের নিয়ে তৈরি করেন উষ্ণতার দেয়াল। তাদের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো- শীতার্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করা।
উদ্যোগ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের অনেকের ঘরে অতিরিক্ত শীতের কাপড় থাকলেও সমাজের একটি বড় অংশ ন্যূনতম উষ্ণতার অভাবে কষ্ট পায়। একজন মানুষের অপ্রয়োজনীয় একটি পোশাকই হতে পারে আরেকজন মানুষের বেঁচে থাকার সাহস। এই বিশ্বাস থেকেই “উষ্ণতার দেওয়াল”-এর পথচলা শুরু। আমাদের বিশ্বাস, একজন মানুষের অপ্রয়োজনীয় একটি শীতের পোশাকই হতে পারে আরেকজন মানুষের শীত নিবারণের একমাত্র অবলম্বন।
সকলের নিকট প্রত্যাশা রেখে মোহাম্মদ রাহিম বলেন, ‘এই মানবিক কর্মসূচির মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানাই; নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। যারা বর্তমানে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন, তারা যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের অতিরিক্ত শীতের কাপড় দান করেন। একই সঙ্গে যারা ছুটির কারণে বাড়িতে অবস্থান করছেন, তাদের প্রতিও অনুরোধ, বন্ধ শেষে ক্যাম্পাসে ফিরে এসে ইনশাআল্লাহ এই মহৎ উদ্যোগে অংশগ্রহণ করার জন্য।’
তিনি আরও বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মানবতার কোনো বিকল্প নেই। সমাজে বৈষম্য কমিয়ে আনতে এবং মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ‘উষ্ণতার দেওয়াল’ শুধু একটি দেয়াল নয়; এটি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতীক।”
সর্বশেষ সংবাদ
ইট–সিমেন্ট নয়, সহমর্মিতায় গড়া ‘উষ্ণতার দেওয়াল
-
শারাফাত হোসাইন নাবা - প্রকাশিত ০২:৩৫:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
- ১৮ বার পঠিত
জনপ্রিয়




















