ঢাকা ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বিচারহীনতার দশ বছর: সাঁওতালদের ভিটা বাগদাফার্মে কার স্বার্থে ইপিজেড? Logo গার্হস্থ্য অর্থনীতির অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে গভীর রাতে বিক্ষোভ Logo নতুন রাজনৈতিক দল গড়ার ইঙ্গিত সামান্তার Logo নোবিপ্রবিতে ছাত্রদল নেতার উদ্যোগে সাপের কামড় প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন Logo জাবির সিএলসি ইনস্টিটিউটে পরিচালক নিয়োগ: ‘স্বার্থের দ্বন্দ্ব’ ও শিক্ষক পদের দেনদরবারের অভিযোগ! Logo ট্রাম্পের চোখে ‘যুদ্ধের নায়ক’, তবুও নির্বাচনে পরাজয়ের ‘বলির পাঁঠা’ হেগসেথ? Logo ঢামেকে চীনা চিকিৎসক দলের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের সমাপনী Logo ‘স্বস্তি পেলাম’, কফি উইথ করণ শেষে কারিনার প্রতিক্রিয়া Logo কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভালে টিকেটিং পার্টনার টিকিফাই Logo প্রকৃত শ্রমিকরা আর আন্দোলনে নেই: রিজভী

ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের উপর পুলিশী হামলার প্রতিবাদে ইবিতে মহাসড়ক অবরোধ 

  • সাকীফ বিন আলম
  • প্রকাশিত ০৭:২৯:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩৫৩ বার পঠিত

শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের গুলি ও বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে শেষ হয়। পরে খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা- ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘উই ওয়ান্ট, জাস্টিস’, ‘জাস্টিস ফর হাদী’,‘বইলা গেছে হাদী ভাই, আমার খুনের বিচার চাই’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদী হাদী’, ‘পুলিশ লীগের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট একশান’, ‘ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, ইন্টেরিম জবাব চাই’সহ বিভিন্ন শ্লোগান দেয়।

এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘হাদী হত্যার বিচার চেয়ে আয়োজিত কর্মসূচিতে পুলিশলীগের ন্যাক্কারজনক হামলার নিন্দা জানাই। ফ্যাসিস্ট শাসনামলে দেখতাম ন্যায্য দাবিতে হামলা করা হতো। আমরা জানতে চাই ইন্টেরিম ও পুলিশ কার উদ্দেশ্য সাধনে হামলা করেছে? হত্যার ৫০ দিনেও আপনারা বিচার করতে পারেন নি, আপনাদের কি লজ্জা হয় না? আপনারা যদি দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তবে গদি ছেড়ে দিল্লি চলে যান। তারপরও আমাদের ভাইদের রক্তের সাথে বেইমানির দুঃসাহস করবেন না।’

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ‘আজ হাদী হত্যার ৫০তম দিন। এই দিনে পুলিশলীগের প্রেতাত্মারা বিচারের আন্দোলনে হামলা চালিয়েছে। তারা ভেবেছে গুলি করে দমিয়ে দেওয়া যাবে। জুলাইতে আপনারা দমাতে পারেননি। আপনারা যতো দমানোর চেষ্টা করবেন শিক্ষার্থীরা ততো জেগে উঠবে। হাদী হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার করুন। এই বিচার না করার কারণে প্রশাসন ও সন্ত্রাসীরা দিনদিন শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হচ্ছে। আপনারা যদি বিচার করতে না পরেন তাহলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে বিচার করতে বাধ্য করবো।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পরে আমাদের সংস্কারের যে আকাঙ্খা ছিলো তার মিনিমাম সংস্কার ইন্টেরিম সরকার করতে পারেনি। পুলিশের পূর্বে যে আচরণ ছিলো বর্তমানেও তাই আছে। এই মানুষের রক্তের উপর দিয়ে ক্ষমতায় এসে আপনারা তাদেরই পেটাচ্ছেন। হাসিনার ১৬ বছরের ক্ষমতাকে আমরা ৩৬ দিনে দিল্লি পাঠিয়েছি, আপনারা ন্যায্য দাবিতে হামলা করলে আপনাদের বিষয়েও আমরা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।’

উল্লেখ্য, গতকাল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা জাতিসংঘের অধীনে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। আজ বিকেলে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিপেটা, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং ঢাবি শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ অনেকেই গুরুতর আহত হন।

জনপ্রিয়

বিচারহীনতার দশ বছর: সাঁওতালদের ভিটা বাগদাফার্মে কার স্বার্থে ইপিজেড?

ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের উপর পুলিশী হামলার প্রতিবাদে ইবিতে মহাসড়ক অবরোধ 

প্রকাশিত ০৭:২৯:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের গুলি ও বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে শেষ হয়। পরে খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা- ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘উই ওয়ান্ট, জাস্টিস’, ‘জাস্টিস ফর হাদী’,‘বইলা গেছে হাদী ভাই, আমার খুনের বিচার চাই’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদী হাদী’, ‘পুলিশ লীগের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট একশান’, ‘ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, ইন্টেরিম জবাব চাই’সহ বিভিন্ন শ্লোগান দেয়।

এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘হাদী হত্যার বিচার চেয়ে আয়োজিত কর্মসূচিতে পুলিশলীগের ন্যাক্কারজনক হামলার নিন্দা জানাই। ফ্যাসিস্ট শাসনামলে দেখতাম ন্যায্য দাবিতে হামলা করা হতো। আমরা জানতে চাই ইন্টেরিম ও পুলিশ কার উদ্দেশ্য সাধনে হামলা করেছে? হত্যার ৫০ দিনেও আপনারা বিচার করতে পারেন নি, আপনাদের কি লজ্জা হয় না? আপনারা যদি দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তবে গদি ছেড়ে দিল্লি চলে যান। তারপরও আমাদের ভাইদের রক্তের সাথে বেইমানির দুঃসাহস করবেন না।’

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ‘আজ হাদী হত্যার ৫০তম দিন। এই দিনে পুলিশলীগের প্রেতাত্মারা বিচারের আন্দোলনে হামলা চালিয়েছে। তারা ভেবেছে গুলি করে দমিয়ে দেওয়া যাবে। জুলাইতে আপনারা দমাতে পারেননি। আপনারা যতো দমানোর চেষ্টা করবেন শিক্ষার্থীরা ততো জেগে উঠবে। হাদী হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার করুন। এই বিচার না করার কারণে প্রশাসন ও সন্ত্রাসীরা দিনদিন শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হচ্ছে। আপনারা যদি বিচার করতে না পরেন তাহলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে বিচার করতে বাধ্য করবো।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পরে আমাদের সংস্কারের যে আকাঙ্খা ছিলো তার মিনিমাম সংস্কার ইন্টেরিম সরকার করতে পারেনি। পুলিশের পূর্বে যে আচরণ ছিলো বর্তমানেও তাই আছে। এই মানুষের রক্তের উপর দিয়ে ক্ষমতায় এসে আপনারা তাদেরই পেটাচ্ছেন। হাসিনার ১৬ বছরের ক্ষমতাকে আমরা ৩৬ দিনে দিল্লি পাঠিয়েছি, আপনারা ন্যায্য দাবিতে হামলা করলে আপনাদের বিষয়েও আমরা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।’

উল্লেখ্য, গতকাল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা জাতিসংঘের অধীনে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। আজ বিকেলে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিপেটা, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং ঢাবি শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ অনেকেই গুরুতর আহত হন।