কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় মসজিদের দ্বিতীয় তলার সম্প্রসারণ কাজ অর্থ সংকটের কারণে গত ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতি সপ্তাহে জুমার নামাজে জায়গা সংকটে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, জুমার নামাজের আগে থেকেই মসজিদে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। মসজিদের মূল ভবনে প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ জন মুসল্লির ধারণক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে উপস্থিতির সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। ফলে অনেককে অযুখানা, সিঁড়ি, প্রধান ফটকের সামনে কিংবা মসজিদের বাইরে নামাজ আদায় করতে হয়। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় কেউ কেউ নামাজ না পড়ে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। তীব্র রোদ ও গরমে কষ্ট করে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে অনেককে।
প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় মসজিদের দ্বিতীয় তলার সম্প্রসারণ কাজ ২০২৫ সালের জুন মাসে শুরু হলেও একই বছরের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বাজেট সংকটের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার হাসান বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমান প্রশাসন মসজিদের বেশ কিছু সংস্কার কাজ শুরু করলেও পর্যাপ্ত বাজেটের অভাবে তার সবকিছু এখনো সম্পন্ন হয়নি। বিশেষ করে মসজিদের দ্বিতীয় তলার কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় জুমার দিনসহ বিশেষ দিনগুলোতে শিক্ষার্থী ও এলাকার মুসল্লিদের মসজিদের বারান্দায় এবং সামনের উন্মুক্ত স্থানে তপ্ত রোদ ও ধুলোবালির মধ্যে কষ্ট করে নামাজ পড়তে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে-প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দিয়ে হলেও মসজিদের অসম্পূর্ণ কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।’
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল মিয়া বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেজ নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয় কতটুকু মৌলিক সমস্যার সমাধান করতে পারছে তার উপর। প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যে বিশ্ববিদ্যালয়ে, সেখানে এমন ছোট্ট একটি মসজিদ সমীচীন নয়। যদিও প্রশাসন মসজিদের দ্বিতীয় তলা সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু গত চার-পাঁচ মাস ধরে কাজ বন্ধ। প্রতি জুম্মাতে দেখা যায়, জায়গা সংকুলান না হওয়াতে কেউ কেউ বাইরের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ে। আবার অনেকে দাঁড়ানোর জায়গা না পেয়ে জামাতে নামাজই পড়তে পারে না। এটি আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য খুবই দুঃখজনক। একজন শিক্ষার্থী হিসাবে প্রশাসন কাছে দাবি রাখব, যতদ্রুত সম্ভব দ্বিতীয় তলার কাজ সম্পূর্ণ করতে।’
কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মো. খলিলুর রহমান কাছেমি বলেন, ‘দিন দিন মুসল্লির সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে হলের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেশি। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আশপাশের মুসল্লিরাও এখানে নামাজ পড়তে আসেন। ফলে প্রতি শুক্রবারে মসজিদে জায়গা সংকট দেখা দেয়। দ্বিতীয় তলার ছাদ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি কাজ শেষ হলে সমস্যার সমাধান হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস. এম. শহীদুল হাসান বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে ছাদ নির্মাণ পর্যন্ত বাজেট ছিল। বাকি কাজের জন্য ইউজিসির কাছে বাজেট চাওয়া হয়েছে। নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ পেলে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘আমরা মসজিদের পূর্ণাঙ্গ কাজের জন্য বাজেট প্রস্তাব করেছিলাম। তবে বরাদ্দ কম পাওয়ায় প্রাপ্ত অর্থ অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আগামী অর্থবছরের জন্য সংশোধিত (রিভাইজড) বাজেটের আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’

















