চাঁদাবাজি, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে হুমকি এবং আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার মতো গুরুতর অভিযোগে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল মৃধার পদ স্থগিত করা হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে মঙ্গলবার (২৬ মে) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
স্থানীয় ও দলীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদলের পদ পাওয়ার পর থেকেই নাজমুল মৃধা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এলাকায় চাঁদাবাজি, নারীঘটিত কেলেঙ্কারির জেরে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের হেনস্তা করার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। নাজমুল এবং তার ভাইয়ের এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে খোদ দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। তার কারণে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছিল।
সূত্র আরও জানায়, নাজমুল মৃধা একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ছাত্রদলে অনুপ্রবেশ করে পদ বাগিয়ে নেওয়ার পর থেকে তার আধিপত্য বিস্তার আরও বৃদ্ধি পায়। এর আগে তার এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল।
সম্প্রতি তার বেপরোয়া আচরণের মাত্রা আরও ছাড়িয়ে যায়। সর্বশেষ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে মারধরের হুমকি দেন নাজমুল। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ওই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা তার বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এসব ধারাবাহিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আসার পরই অবশেষে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করল।



















