ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo মুক্তিকে প্রকাশ্য সমর্থন ওমর সানীর Logo স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত গোবিপ্রবির ১৬ শিক্ষক: ছুটির অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ Logo সফলভাবে শেষ হলো পাবিপ্রবিতে ১৩ দেশের গবেষকদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক কনফারেন্স Logo বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে ‘কৃত্রিমভাবে আসন দখল’ বন্ধে শিক্ষার্থীদের আবেদন Logo ধনবাড়ীতে পিকআপের ধাক্কায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু Logo পিএইচডি জালিয়াতি: গোবিপ্রবির সাদা দলের সদস্য সচিব চাকরিচ্যুত Logo পদোন্নতির দাবিতে প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রভাষকদের স্মারকলিপি Logo এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদল Logo এ বছরই আমি দেশে ফিরব: শেখ হাসিনা Logo কবি নজরুল কলেজে নবনির্মিত মসজিদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন ইশরাক হোসেন

ভুট্টার অ্যাফ্লাটক্সিন দূষণ রোধে সফল বাকৃবির গবেষকেরা: নিয়ন্ত্রণ সম্ভব ৯০ শতাংশ

দেশে উৎপাদিত ভুট্টায় ছত্রাকজনিত ক্যানসার সৃষ্টিকারী মাইকোটক্সিন-অ্যাফ্লাটক্সিনের দূষণ রোধে জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে সফলতা পেয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এ সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরেন প্রধান গবেষক ও উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রসিদুল ইসলাম।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের আওতায় ‘আসেসিং বায়োকন্ট্রোল ইফিকেসি অব আটক্সিজেনিক অ্যাসপারজিলাস ফ্লেভাস স্ট্রেইনস এগেইনস্ট অ্যাফ্লাটক্সিন কন্টামিনেশন ইন মেইজ প্রোডিউসড ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারটি আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল মেইজ অ্যান্ড হুইট ইমপ্রুভমেন্ট সেন্টার (সিআইএমএমওয়াইটি)-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মিস্টার ওয়েন ডি কালভার্ট, কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুজিবর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্ল্যান্ট প্রোটেকশন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ এনায়েত-এ-রাব্বী।

এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অংশীজন এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্ল্যান্ট প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইসলাম হামীম।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. মো. রসিদুল ইসলাম। তিনি ভুট্টায় অ্যাফ্লাটক্সিন দূষণের কারণ, মানবস্বাস্থ্যের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং জৈব নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এর কার্যকর প্রতিরোধের সফলতা তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে লিভার ক্যানসার ও লিভার সিরোসিসের পঞ্চাশ শতাংশের বেশি অ্যাফ্লাটক্সিনের কারণে হয়ে থাকে। তাই গবেষণায় দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ভুট্টা উৎপাদন অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি আধুনিক মলিকুলার প্রযুক্তির মাধ্যমে টক্সিজেনিক ও এটক্সিজেনিক অ্যাসপারজিলাস ফ্লেভাস স্ট্রেইন শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্তকৃত এটক্সিজেনিক স্ট্রেইন ব্যবহার করে অ্যাফ্লাটক্সিনের দূষণ কমানোর লক্ষ্যে বায়োপেস্টিসাইড উদ্ভাবন করা হয়েছে। যা পরীক্ষাগার ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষায় ভুট্টায় অ্যাফ্লাটক্সিন দূষণ সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম।’

তিনি বলেন, ‘এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা গেলে নিরাপদ ভুট্টা উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ প্রাণিখাদ্য নিশ্চিতকরণ, গবাদিপশু, পোল্ট্রি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘গবেষক দলের উদ্ভাবিত এই জৈব নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। অ্যাফ্লাটক্সিন যেমন মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, তেমনি এটি ভুট্টার উৎপাদন ও গুণগত মানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছাতে পারলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনা আরও গতিশীল হবে।’

জনপ্রিয়

মুক্তিকে প্রকাশ্য সমর্থন ওমর সানীর

ভুট্টার অ্যাফ্লাটক্সিন দূষণ রোধে সফল বাকৃবির গবেষকেরা: নিয়ন্ত্রণ সম্ভব ৯০ শতাংশ

প্রকাশিত ১১:৪২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

দেশে উৎপাদিত ভুট্টায় ছত্রাকজনিত ক্যানসার সৃষ্টিকারী মাইকোটক্সিন-অ্যাফ্লাটক্সিনের দূষণ রোধে জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে সফলতা পেয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এ সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরেন প্রধান গবেষক ও উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রসিদুল ইসলাম।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের আওতায় ‘আসেসিং বায়োকন্ট্রোল ইফিকেসি অব আটক্সিজেনিক অ্যাসপারজিলাস ফ্লেভাস স্ট্রেইনস এগেইনস্ট অ্যাফ্লাটক্সিন কন্টামিনেশন ইন মেইজ প্রোডিউসড ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারটি আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল মেইজ অ্যান্ড হুইট ইমপ্রুভমেন্ট সেন্টার (সিআইএমএমওয়াইটি)-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মিস্টার ওয়েন ডি কালভার্ট, কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুজিবর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্ল্যান্ট প্রোটেকশন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ এনায়েত-এ-রাব্বী।

এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অংশীজন এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্ল্যান্ট প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইসলাম হামীম।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. মো. রসিদুল ইসলাম। তিনি ভুট্টায় অ্যাফ্লাটক্সিন দূষণের কারণ, মানবস্বাস্থ্যের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং জৈব নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এর কার্যকর প্রতিরোধের সফলতা তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে লিভার ক্যানসার ও লিভার সিরোসিসের পঞ্চাশ শতাংশের বেশি অ্যাফ্লাটক্সিনের কারণে হয়ে থাকে। তাই গবেষণায় দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ভুট্টা উৎপাদন অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি আধুনিক মলিকুলার প্রযুক্তির মাধ্যমে টক্সিজেনিক ও এটক্সিজেনিক অ্যাসপারজিলাস ফ্লেভাস স্ট্রেইন শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্তকৃত এটক্সিজেনিক স্ট্রেইন ব্যবহার করে অ্যাফ্লাটক্সিনের দূষণ কমানোর লক্ষ্যে বায়োপেস্টিসাইড উদ্ভাবন করা হয়েছে। যা পরীক্ষাগার ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষায় ভুট্টায় অ্যাফ্লাটক্সিন দূষণ সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম।’

তিনি বলেন, ‘এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা গেলে নিরাপদ ভুট্টা উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ প্রাণিখাদ্য নিশ্চিতকরণ, গবাদিপশু, পোল্ট্রি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘গবেষক দলের উদ্ভাবিত এই জৈব নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। অ্যাফ্লাটক্সিন যেমন মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, তেমনি এটি ভুট্টার উৎপাদন ও গুণগত মানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছাতে পারলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনা আরও গতিশীল হবে।’