ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo টুঙ্গিপাড়ায় প্রতিবার ব্যালটে সিল মেরে নির্বাচিত হয়েছে শেখ হাসিনা: এস এম জিলানী Logo দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার ‘ককরোচ’দের Logo জয় বাংলা টু বাংলাদেশ জিন্দাবাদ Logo সেমিকন্ডাক্টর হবে বাংলাদেশের বড় রপ্তানি সম্ভাবনার খাত: প্রধানমন্ত্রী Logo সাংবাদিকদের অ্যাক্টিভিস্ট হওয়া উচিত নয়: তথ্যমন্ত্রী Logo সবুজ মাংস নিয়ে বিভ্রান্তি, যা জানালেন বাকৃবির জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ Logo কুবি ডিবেটিং সোসাইটির নবীনবরণ ও বিতর্ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত। Logo কুরআনিক দর্শনে আধুনিক প্রযুক্তি: ইবির আল-কুরআন বিভাগে বিশেষ সিম্পোজিয়াম Logo ক্রীড়াঙ্গনের বর্ণাঢ্য অধ্যায় পেরিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় হাফিজ উদ্দিন আহমদ Logo বাকৃবির উদ্ভাবিত দেশের প্রথম জৈব ছত্রাকনাশক পিজি ট্রাইকোডার্মা, বাড়বে ফলন কমবে রাসায়নিকের ব্যবহার

সেমিকন্ডাক্টর হবে বাংলাদেশের বড় রপ্তানি সম্ভাবনার খাত: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় নভোথিয়েটারে ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

তৈরি পোশাক শিল্পের পর তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেমিকন্ডাক্টর খাত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি শিল্পে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশে দেশে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানি আয়ের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় নভোথিয়েটারে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বড় তরুণ জনগোষ্ঠী, দক্ষ জনশক্তি এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সেমিকন্ডাক্টর খাতে কর্মরত বাংলাদেশি পেশাজীবীরা এই শিল্পে প্রবেশের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। দ্রুত সম্প্রসারিত বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর এটি একটি বড় সুযোগ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গার্মেন্টস শিল্পের পর আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হতে পারে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর বাজারের আকার প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। এই বিশাল বাজারে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রযুক্তি সরবরাহ ব্যবস্থায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।

তারেক রহমান জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বড় কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে দক্ষ এসব প্রবাসী মেধাবী পেশাজীবীকে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। এ জন্য সরকার, বেসরকারি খাত, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, চিপ যাচাই (ভেরিফিকেশন), এমবেডেড সিস্টেম, পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স এবং উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তিতে সক্ষমতা গড়ে তুলতে শুরু করেছে। দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করেছে।

তিনি জানান, সরকার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করছে এবং এর বিকাশে নীতিগত ও আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে কর ও শুল্ক সুবিধা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবার জন্য প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে চলতি বাজেটে স্টার্টআপ অনুদান হিসেবে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশ কোনো একটি মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। সরকারি সংস্থা, শিল্পখাত, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা, প্রবাসী প্রযুক্তিবিদ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত প্রতিবন্ধকতা দূর করা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

তিনি সেমিকন্ডাক্টর খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরতে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে রোডশোর আয়োজন করায় দেশের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রশংসা করেন।

তবে তিনি স্বীকার করেন, উন্নত ল্যাব সুবিধার সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু পরিকল্পিত উদ্যোগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এসব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কৃষি, তৈরি পোশাক, রেমিট্যান্স ও ডিজিটাল সেবায় সাফল্য অর্জন করেছে। এখন তরুণ প্রজন্মের মেধা, দক্ষতা ও উদ্যোক্তা সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন রপ্তানি শিল্প গড়ে তোলার সময় এসেছে।

সেমিকন্ডাক্টর খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মেলন নতুন অংশীদারিত্ব, গবেষণা কার্যক্রম, বিনিয়োগের সুযোগ এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয়

টুঙ্গিপাড়ায় প্রতিবার ব্যালটে সিল মেরে নির্বাচিত হয়েছে শেখ হাসিনা: এস এম জিলানী

সেমিকন্ডাক্টর হবে বাংলাদেশের বড় রপ্তানি সম্ভাবনার খাত: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত ০৭:২০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

তৈরি পোশাক শিল্পের পর তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেমিকন্ডাক্টর খাত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি শিল্পে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশে দেশে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানি আয়ের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় নভোথিয়েটারে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বড় তরুণ জনগোষ্ঠী, দক্ষ জনশক্তি এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সেমিকন্ডাক্টর খাতে কর্মরত বাংলাদেশি পেশাজীবীরা এই শিল্পে প্রবেশের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। দ্রুত সম্প্রসারিত বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর এটি একটি বড় সুযোগ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গার্মেন্টস শিল্পের পর আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হতে পারে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর বাজারের আকার প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। এই বিশাল বাজারে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রযুক্তি সরবরাহ ব্যবস্থায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।

তারেক রহমান জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বড় কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে দক্ষ এসব প্রবাসী মেধাবী পেশাজীবীকে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। এ জন্য সরকার, বেসরকারি খাত, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, চিপ যাচাই (ভেরিফিকেশন), এমবেডেড সিস্টেম, পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স এবং উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তিতে সক্ষমতা গড়ে তুলতে শুরু করেছে। দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করেছে।

তিনি জানান, সরকার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করছে এবং এর বিকাশে নীতিগত ও আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে কর ও শুল্ক সুবিধা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবার জন্য প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে চলতি বাজেটে স্টার্টআপ অনুদান হিসেবে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশ কোনো একটি মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। সরকারি সংস্থা, শিল্পখাত, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা, প্রবাসী প্রযুক্তিবিদ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত প্রতিবন্ধকতা দূর করা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

তিনি সেমিকন্ডাক্টর খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরতে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে রোডশোর আয়োজন করায় দেশের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রশংসা করেন।

তবে তিনি স্বীকার করেন, উন্নত ল্যাব সুবিধার সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু পরিকল্পিত উদ্যোগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এসব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কৃষি, তৈরি পোশাক, রেমিট্যান্স ও ডিজিটাল সেবায় সাফল্য অর্জন করেছে। এখন তরুণ প্রজন্মের মেধা, দক্ষতা ও উদ্যোক্তা সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন রপ্তানি শিল্প গড়ে তোলার সময় এসেছে।

সেমিকন্ডাক্টর খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মেলন নতুন অংশীদারিত্ব, গবেষণা কার্যক্রম, বিনিয়োগের সুযোগ এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।