শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় জামিন পেয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশা। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণের পর তাকে জামিন দেওয়া হয়। এদিন সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আদালতে মামলাটির শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
তানজিন তিশার পক্ষের আইনজীবী ইলতুৎমিশ সওদাগর এ্যানী ও নিহার হোসেন ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ১২ জুলাই তাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর ‘অ্যাপোনিয়া ফ্যাশন’ প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম ঢাকার আদালতে তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
এর আগে গত ১২ জুলাই তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়েছিল। ওই সমনের নির্দেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন তিনি।
শুনানিতে তিশার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক বলেন, “তানজিন তিশা একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এজন্য আদালতে এসেছেন।”
তিনি বলেন, “বাদীর ‘অ্যাপোনিয়া’ পেজে শাড়ি দেখে কিনতে আগ্রহী ছিল তানজিন তিশা। তখন বাদীপক্ষ তিশাকে বলেন, ‘আমরা একটি শাড়ি দিচ্ছি। আমাদের পেজ মেনশন দিয়ে পোস্ট দিয়েন।’ তানজিন তিশা বলেন, ‘ঠিক আছে। শাড়ি পাঠান। আমি পেইজে আপলোড দিব।’
“তিনি ভিডিও আপলোডও করেছেন। পিকচারও আপলোড করবেন বলেছিলেন। এরই মধ্যে বাদী মামলা করে দিয়েছেন কোর্টে।”
তিশার আইনজীবী বলেন, “তিশা খুবই ফেমাস একজন অভিনেত্রী। সামনে একটা বড় পর্দার সিনেমা হাতে নিয়েছেন। তাকে জামিন দেন।”
এ সময় পেইজ থেকে নেওয়া সেই শাড়ি আদালতে উপস্থাপন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। তিনি বলেন, “এই দেখেন সেই শাড়ি। আসামি শাড়ির ভাজও ভাঙেননি।”
তখন বাদীপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুকুল বলেন, “স্যার, একটু আগে বলা হল শাড়ি পড়ে ভিডিও আপলোড করেছে তানজিন তিশা। এখন বলা হচ্ছে, শাড়ির ভাজ ভাঙা হয়নি। শাড়ির ভাজ না ভাঙলে বা প্যাকেট থেকে না খুললে, না পরে ভিডিও করল কীভাবে।”
এ সময় তানজিন তিশা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বারবার মাথা নাড়াতে থাকেন। দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে বিচারক বলেন, “এখন কি এই শাড়ি পরবেন, না কি করবেন সিদ্ধান্ত নিন।”
এরপর বাদীপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুকুল বলেন, “এমনি এমনি মামলা হয়নি। আগে আসামিকে লিগ্যাল নোটিস দেওয়া হয়েছে। মামলাটি ডিবি তদন্ত করছে। ডিবি পুলিশ বারবার ডাকলেও তানজিন তিশা হাজির হননি।
“তিনি প্রতারণা করেছেন। মামলাটি জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে। আইন সবার জন্য সমান। অভিনেত্রীদের জন্যও সমান। তাকে জেল হাজতে আটক রাখার আবেদন করছি।”
এ সময়ও তানজিন তিশা বারবার মাথা নাড়ছিলেন এবং কিছু বলতে চাইছিলেন। তবে তার আইনজীবীরা তাকে কথা না বলতে বলেন।
পরে বিচারক আদেশে বলেন, “আসামি যেহেতু একজন নারী, শাড়ির দাম কম ও মডেল বিবেচনায় তাকে জামিন মঞ্জুর করা হল।”
জামিনের আদেশের পরও বিচারকের উদ্দেশে তানজিন তিশা কথা বলতে চাইলে তার আইনজীবী তাকে বলেন, “জামিনের আদেশ হয়ে গেছে। দরকার নেই।”
মামলার অভিযোগ
মামলায় বলা হয়েছে, অনলাইন ফ্যাশন পেইজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের একটি শাড়ি নিয়েছিলেন তানজিন তিশা। শাড়িটি পরে পেজটির প্রচারে অংশ নেওয়া এবং এর দাম পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে বাদীপক্ষের অভিযোগ।
এ ঘটনায় অ্যাপোনিয়ার প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ২০২৫ সালের নভেম্বরে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। আদালত তখন বাদীর জবানবন্দি শুনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।
পরে ডিবি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে আদালত গত ১২ জুলাই তা আমলে নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করে এবং ১৩ অগাস্ট তাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তানজিন তিশা দাবি করেছিলেন, শাড়িটি তাকে ‘উপহার’ দেওয়া হয়েছিল।































