মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের পর এবার ইউরোপীয় কোম্পানি এয়ারবাসের কাছ থেকে নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বহরকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন যে, এই দশটি উড়োজাহাজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া হিসেবে আগামী অক্টোবরের মধ্যেই চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই এই বড় অঙ্কের বাণিজ্যিক চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, ইউরোপীয় এই শীর্ষস্থানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোট দশটি বিমান কেনার বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে বিশ্বজুড়ে এভিয়েশন বাজারে বিমানের চাহিদা বেশি থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব উড়োজাহাজ হাতে পাওয়া নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা বা দীর্ঘসূত্রিতার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। এই সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য বিকল্প বিভিন্ন উপায়ে বিমান সংগ্রহের বিষয়টিও সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে মার্কিন উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও এগারোটি নতুন বিমান কেনার চুক্তি সম্পন্ন হয়। সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হয়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে এই চুক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন, যেখানে মার্কিন প্রশাসনের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে উড্ডয়নক্ষম ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যা নতুন বিমান যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হবে।
নতুন এই উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ বা আঞ্চলিক যোগাযোগই নয়, বরং লাভজনক আন্তর্জাতিক রুটগুলোতেও বিমানের ফ্লাইট পরিচালনা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যাত্রীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশের পতাকাবাহী বিমান সংস্থাকে আরও এগিয়ে নেওয়া। তবে উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহ বিলম্বিত হওয়ার যে শঙ্কা রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে বিকল্প কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে বিমান মন্ত্রণালয়। সবমিলিয়ে দেশের এভিয়েশন খাতের আধুনিকায়নে সরকারের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপে শিগগিরই এক নতুন মাত্রা যোগ হতে যাচ্ছে।


































