ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বাংলাদেশের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী ভারত: জয়সওয়াল Logo বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথা বললেন ট্রাম্প Logo নোবিপ্রবিতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে চতুর্থ ন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্ট Logo জাতিসংঘে স্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প Logo ইবিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নেপথ্যে যা ছিল Logo ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ Logo শিশুদের ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণে মেসির ৩৬ কোটি টাকা অনুদান Logo অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কোনো আইনজীবী Logo বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ Logo ক্যাম্পাস ও কর্পোরেটের সংযোগে ৫৪ বিশ্ববিদ্যলয়ের ৬৬ শিক্ষার্থী

ইবিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নেপথ্যে যা ছিল

  • সাকীফ বিন আলম
  • প্রকাশিত ১০:৩১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৭৬ বার পঠিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) গত ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে একের পর এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত ৩ জনকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠে অতি সামান্য তর্কাতর্কি থেকে ঝামেলার সূত্রপাত হলেও ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে রাজনৈতিক ইন্ধন, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ও ছাত্রদলের একাংশের কয়েকজনের ভূমিকা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিনের প্রথম ম্যাচে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের খেলা চলাকালে ডাগআউটে বল থ্রো-ইন করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। ইসলামের ইতিহাস বিভাগ ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় হিসাববিজ্ঞানের খেলোয়াড় মশিউর বল আনতে গেলে দর্শক সারিতে থাকা শিক্ষার্থীরা সময়ক্ষেপণ করান। খেলার শেষ মুহূর্তে কৌশলী সময়ক্ষেপণ সাধারণ বিষয় হলেও, তুচ্ছ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ লাঠিসোঁটা ও চারাগাছ নিয়ে তাণ্ডব চালায়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই সংঘাতের পেছনে মাঠের যুক্তিসঙ্গত তেমন কোনো কারণ ছিল না; বরং রাজনৈতিক ইন্ধনের বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে। প্রথম দফার সংঘর্ষে মূল উসকানিদাতা হিসেবে উঠে এসেছে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ও বর্তমানে ছাত্রদলে সক্রিয় ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সাবিকের নাম। অন্যদিকে এ ঘটনায় হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দুই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে বিকেলে ফার্মেসি ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের খেলা চলাকালে মাঠের বাকবিতণ্ডা শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে সমাধান হলেও অভিযোগ রয়েছে মূল ও পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটে বিকেল ৫টার পর। এসময় হামলার ঘটনায় ইন্ধনদাতা হিসেবে ফিন্যান্স বিভাগের আরেক ছাত্রদল কর্মী আমির হামজার নামেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তৃতীয় দফায় হামলায় ছাত্রদলের একাংশের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে বিএমই বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী হৃদয়ের নামও উঠে এসেছে। যে পূর্বে ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের শীর্ষ এক ব্যক্তির হামলার ঘটনায় মদদ আছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফার্মেসি বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, “মাঠের ঝামেলা শিক্ষকরা সমাধান করে দেওয়ার পর খেলা স্থগিত হলে সবাই চলে যায়। বিকেল ৫টার পর আমরা ৭/৮ জন শিক্ষার্থী আমাদের এক শিক্ষকের সাথে দুপুরের আহতদের চিকিৎসা ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিতে যাচ্ছিলাম। ডায়না চত্বরের দিকে পৌঁছালে বায়োমেডিকেল, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ও ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজসহ বিভিন্ন বিভাগের ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী চারদিক থেকে ছুটে এসে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের কয়েকজনের মুখে মাস্ক ছিল। আমরা কয়েকজন জীবন বাঁচাতে প্রশাসন ভবনের দিকে দৌড়ে যাই, কিন্তু ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাকারিয়াকে তারা ধরে ফেলে ইটের সাইডলাইনের ওপর ফেলে ব্যাপক মারধর করে।”

তিনি আরও জানান, “হামলা চলাকালে প্রক্টর স্যার দ্রুত এসে জাকারিয়াকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এসময় হামলাকারীদের মধ্যে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আমির হামজাকে জাপটে ধরে ফেলেন। ধরে ফেলার পর আমির হামজা পালিয়ে যেতে লাগলে প্রক্টর স্যার তাকে ‘ছাত্রত্ব বাতিল করার হুমকি’ দেন। কিন্তু পরবর্তীতে সে ছাত্রদলের সাথে সম্পৃক্ত কর্মী, এ তথ্য জানতে পেরে প্রক্টরের তেমন ভূমিকা দেখা যায়নি। আমির হামজা পালিয়ে যাওয়ার পরে দুই বিভাগের ঝামেলায় প্রক্টর স্যার তৃতীয় বিভাগের শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আমলে এনে ‘এর ভিতরে অনেক কিছু আছে’ বলে মনে করেন। স্যার যখন জাকারিয়াকে রক্ষা করছিলেন, ঠিক তখন সুমিত ঘোষ ও ইয়াকুব শাকিলসহ বায়োমেডিকেলের কিছু শিক্ষার্থী প্রশাসন ভবনের সামনে আমাদের আরেক শিক্ষার্থী মাসুমকে মারতে উদ্যত হয়। প্রক্টরিয়াল বডি দ্রুত মাসুমকে রক্ষা করে তাদের ইবি মেডিকেলে পাঠায়।”

এ বিষয়ে ইবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে আমির হামজা বা ১৯-২০ সেশনের হৃদয় কাউকেই চিনি না। ফিন্যান্সের ওই শিক্ষার্থীর কথা শুনে আমি নিজেই স্যারকে জানিয়েছিলাম, তবে তাদের কাউকেই আমার ব্যক্তিগতভাবে চেনার সুযোগ হয়নি। যাই হোক, এ ঘটনায় যদি কেউ কোনোভাবে জড়িত থেকে থাকে, তবে প্রশাসন যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, সেই তদন্তের ভিত্তিতে প্রশাসনই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। বিশ্ববিদ্যালয় যেন সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

হামলার ঘটনার পর প্রক্টর তার কার্যালয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসেন। ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা চিহ্নিত সকল অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাঃ তোজাম্মেল হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন; কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সামান্য খেলার মাঠকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পেশিশক্তি প্রদর্শন, হামলাকারীর রাজনৈতিক পরিচয় জেনে প্রশাসনের নমনীয় মনোভাব ও পরিকল্পিত হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয়

বাংলাদেশের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী ভারত: জয়সওয়াল

ইবিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নেপথ্যে যা ছিল

প্রকাশিত ১০:৩১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) গত ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে একের পর এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত ৩ জনকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠে অতি সামান্য তর্কাতর্কি থেকে ঝামেলার সূত্রপাত হলেও ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে রাজনৈতিক ইন্ধন, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ও ছাত্রদলের একাংশের কয়েকজনের ভূমিকা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিনের প্রথম ম্যাচে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের খেলা চলাকালে ডাগআউটে বল থ্রো-ইন করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। ইসলামের ইতিহাস বিভাগ ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় হিসাববিজ্ঞানের খেলোয়াড় মশিউর বল আনতে গেলে দর্শক সারিতে থাকা শিক্ষার্থীরা সময়ক্ষেপণ করান। খেলার শেষ মুহূর্তে কৌশলী সময়ক্ষেপণ সাধারণ বিষয় হলেও, তুচ্ছ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ লাঠিসোঁটা ও চারাগাছ নিয়ে তাণ্ডব চালায়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই সংঘাতের পেছনে মাঠের যুক্তিসঙ্গত তেমন কোনো কারণ ছিল না; বরং রাজনৈতিক ইন্ধনের বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে। প্রথম দফার সংঘর্ষে মূল উসকানিদাতা হিসেবে উঠে এসেছে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ও বর্তমানে ছাত্রদলে সক্রিয় ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সাবিকের নাম। অন্যদিকে এ ঘটনায় হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দুই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে বিকেলে ফার্মেসি ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের খেলা চলাকালে মাঠের বাকবিতণ্ডা শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে সমাধান হলেও অভিযোগ রয়েছে মূল ও পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটে বিকেল ৫টার পর। এসময় হামলার ঘটনায় ইন্ধনদাতা হিসেবে ফিন্যান্স বিভাগের আরেক ছাত্রদল কর্মী আমির হামজার নামেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তৃতীয় দফায় হামলায় ছাত্রদলের একাংশের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে বিএমই বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী হৃদয়ের নামও উঠে এসেছে। যে পূর্বে ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের শীর্ষ এক ব্যক্তির হামলার ঘটনায় মদদ আছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফার্মেসি বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, “মাঠের ঝামেলা শিক্ষকরা সমাধান করে দেওয়ার পর খেলা স্থগিত হলে সবাই চলে যায়। বিকেল ৫টার পর আমরা ৭/৮ জন শিক্ষার্থী আমাদের এক শিক্ষকের সাথে দুপুরের আহতদের চিকিৎসা ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিতে যাচ্ছিলাম। ডায়না চত্বরের দিকে পৌঁছালে বায়োমেডিকেল, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ও ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজসহ বিভিন্ন বিভাগের ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী চারদিক থেকে ছুটে এসে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের কয়েকজনের মুখে মাস্ক ছিল। আমরা কয়েকজন জীবন বাঁচাতে প্রশাসন ভবনের দিকে দৌড়ে যাই, কিন্তু ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাকারিয়াকে তারা ধরে ফেলে ইটের সাইডলাইনের ওপর ফেলে ব্যাপক মারধর করে।”

তিনি আরও জানান, “হামলা চলাকালে প্রক্টর স্যার দ্রুত এসে জাকারিয়াকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এসময় হামলাকারীদের মধ্যে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আমির হামজাকে জাপটে ধরে ফেলেন। ধরে ফেলার পর আমির হামজা পালিয়ে যেতে লাগলে প্রক্টর স্যার তাকে ‘ছাত্রত্ব বাতিল করার হুমকি’ দেন। কিন্তু পরবর্তীতে সে ছাত্রদলের সাথে সম্পৃক্ত কর্মী, এ তথ্য জানতে পেরে প্রক্টরের তেমন ভূমিকা দেখা যায়নি। আমির হামজা পালিয়ে যাওয়ার পরে দুই বিভাগের ঝামেলায় প্রক্টর স্যার তৃতীয় বিভাগের শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আমলে এনে ‘এর ভিতরে অনেক কিছু আছে’ বলে মনে করেন। স্যার যখন জাকারিয়াকে রক্ষা করছিলেন, ঠিক তখন সুমিত ঘোষ ও ইয়াকুব শাকিলসহ বায়োমেডিকেলের কিছু শিক্ষার্থী প্রশাসন ভবনের সামনে আমাদের আরেক শিক্ষার্থী মাসুমকে মারতে উদ্যত হয়। প্রক্টরিয়াল বডি দ্রুত মাসুমকে রক্ষা করে তাদের ইবি মেডিকেলে পাঠায়।”

এ বিষয়ে ইবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে আমির হামজা বা ১৯-২০ সেশনের হৃদয় কাউকেই চিনি না। ফিন্যান্সের ওই শিক্ষার্থীর কথা শুনে আমি নিজেই স্যারকে জানিয়েছিলাম, তবে তাদের কাউকেই আমার ব্যক্তিগতভাবে চেনার সুযোগ হয়নি। যাই হোক, এ ঘটনায় যদি কেউ কোনোভাবে জড়িত থেকে থাকে, তবে প্রশাসন যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, সেই তদন্তের ভিত্তিতে প্রশাসনই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। বিশ্ববিদ্যালয় যেন সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

হামলার ঘটনার পর প্রক্টর তার কার্যালয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসেন। ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা চিহ্নিত সকল অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাঃ তোজাম্মেল হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন; কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সামান্য খেলার মাঠকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পেশিশক্তি প্রদর্শন, হামলাকারীর রাজনৈতিক পরিচয় জেনে প্রশাসনের নমনীয় মনোভাব ও পরিকল্পিত হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।